Daily Sunshine

বিজয়ের মাস

Share

সানশাইন ডেস্ক : আজ ১১ ডিসেম্বর। একাত্তরের এইদিনে পাক হানাদারদের মনোবল ভেঙ্গে চুরমার। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুধুই বিজয়ের খবর। অধিকাংশ জেলাই হানাদারমুক্ত। কিন্তু তখনও পাকিস্তানের নিশ্চিত পরাজয় ঠেকাতে মরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পরাক্রমশালী এ দেশটি নানা হুমকিধমকি দিয়েও চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনতে মুক্তিকামী বাংলার দামাল ছেলেদের অগ্রযাত্রা এতটুকুও থামাতে পারেনি।
একাত্তরের রক্তক্ষরা এদিনে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রতিনিধি ভোরেন্টসভকে হুঁশিয়ার করে বলেন, পরদিন (১২ ডিসেম্বর) মধ্যাহ্নের আগে ভারতকে অবশ্যই যুদ্ধ বিরতি মেনে নিতে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুঁশিয়ারিতে সামান্যতম মনোবল ভাঙ্গতে পারেনি মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীদের। চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনতে পাক হানাদারদের ওপর আক্রমণ আরও শাণিত হয়। যুদ্ধ চলছে চারদিকে। আর এক এক করে মুক্ত হচ্ছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। একাত্তরের ডিসেম্বরের এদিন ঢাকার আশপাশের মানুষ পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ। মুক্তিবাহিনীর মূল লক্ষ্যই ছিল দেশের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিজয়।
ঢাকা বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে চারদিক থেকে ট্যঠঙ্কসহ আধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে বাংলার বীর মুক্তি সেনারা এগিয়ে আসছিল। পথে পথে যেসব জনপদ, গ্রাম, শহর-বন্দর পড়ছিল সর্বত্রই মুক্তি সেনারা নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়াতে ওড়াতে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। একাত্তর সালের এদিন জামালপুর, মুন্সীগঞ্জ, আশুগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুরের হিলিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত হয়।
এ সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসররা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। যদিও এসব এলাকা মুক্ত করতে গিয়ে মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীকে ব্যাপক যুদ্ধ করতে হয়। শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয় বাংলার মাটি। মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী নিয়ন্ত্রিত টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলে একাত্তরের এই দিনে মিত্রবাহিনীর ৭০০ সৈন্য অবতরণ করে। এ সময় পাকিস্তানী ব্রিগেডের সঙ্গে তাদের তীব্র যুদ্ধ হয়।

ডিসেম্বর ১১
০৪:১৬ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]

সর্বশেষ