সর্বশেষ সংবাদ :

অবশেষে আবাসনে ঘর পেলো সেই মোমেনা

ভোলাহাট প্রতিনিধি: মোমেনা খাতুন স্বামী সন্তান নিয়ে ভোলাহাটের হলিদাগাছী-গোহালবাড়ী হাটের সরকারী রাস্তার পাশে কুঁড়ে ঘরের মাথাগুঁজার ঠাই নেন। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হলে তার বাড়ীটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। তার সাথে সাথে একই স্থানে আরো ২০-২৫টি বাড়ী উচ্ছেদ করা হয়।
এমন সময় মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ২য় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত গৃহের উপকার ভোগী অর্থাৎ ‘ক’ শ্রেণির ৪১১ পরিবারকে পুনর্বাসন করার জন্য যাচাবাছাই করা শুরু হয়। উচ্ছেদ অভিযানে যাদের বাড়ী ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তাদেরকে অগ্রাধীকার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ী দেয়ার তালিকা প্রস্তুত শুরু হয়।
এর মধ্যে উচ্ছেদ অভিযানে বাড়ী ভেঙ্গে যাওয়ায় মোমেনা খাতুনের নামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের বাড়ী বরাদ্দ পান। যার উপজেলা প্রশাসনের চূঁড়ান্ত যাঁচাই বাছাই তালিকার ক্রমিক নং ১৪৪। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তার নামের বাড়ী সংশ্লিষ্ট ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার কামাল উদ্দিন মোমেনার কাছে টাকা চেয়ে তার চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অপর একজনকে বাড়ীটি দিয়ে দেন।
জানা যায় একই ওয়ার্ডের মমতাজ বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র মোমেনার নামে জালিয়াতি করে ওর্য়াড মেম্বার কামাল উদ্দিন মমতাজ বেগমকে বাড়ীতে তুলে দেন।
বাড়ীটি পেতে মোমেনা খাতুন দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন কুলকিনারা করতে না পেরে অবশেষে গত ২৯ সেপ্টেম্বরের ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন। তাতেও কাজের কার হয়নি। অবশেষে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসেন প্রশাসন।
উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছুটে যান অসহায় মোমেনার কুঁড়ে ঘরে। ঘটনাস্থলে গিয়ে মোমেনা ও আমেনাকে বাড়ী দেয়ার নামে স্থানীয় মেম্বার কামাল উদ্দিন ৮ হাজার ও ৫ হাজার টাকা নেয়ার সত্যতা পেয়ে তাকে টাকা ফেরৎ দিতে বাধ্য করান। পরে মমতাজ বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতের বিষয়টি নিয়ে মেম্বারকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার কার্যালয়ে আটক করে নিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ সময় মোমেনাকে বাড়ী করে দেয়ার কথাও জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল।
গত ২৮ নভেম্বর হলিদাগাছী গোহালবাড়ী রাস্তার পাশে বাড়ী নিমার্ণের জন্য মিস্ত্রী কাজ শুরু করায় অসহায় মোমেনা ও তার স্বামীর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। মসরজমিন গেলে মোমেনা বলেন, আমার নামের বাড়ী মেম্বার ভোটার কার্ড জাল করে মমতাজকে উঠিয়ে দিলে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিাকার চেয়ে দৌড় ঝাঁপ করি। কোন কুল কিনারা না পেলে সাংবাদিক আসে।
সাংবাদিক পেপারে আমার কষ্টের কথা প্রকাশ করলে আমি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ী পায়। বাড়ী পেয়ে আমি খুব খুশি। প্রধানমন্ত্রী ও তার বাবার জন্য দোয়া করবো। ইউএনও স্যার ও সাংবাদিকদের জন্য আমি দোয়া করবো।
মোমেনার স্বামী শাহজামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাড়ী পেয়ে আমরা খুব খুশি। পরিবারের সবাই মিলে পাকা বাড়ীতে বসবাসের আশা করিনি। এখন পরিবারের সবাই পাকা বাড়ী বসবাস করতে পারবো বলে আনন্দ প্রকাশ করেন।


প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২১ | সময়: ৬:১১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ