Daily Sunshine

১৬ ডিসেম্বর হচ্ছে না ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ

Share

স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির হকির আসর বসছে ঢাকায়। এই আসরে ১৬ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানী জাতীয় স্টেডিয়ামে ছিল ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ। বাংলাদেশের বিজয় দিবসের দিনে পাকিস্তানের ম্যাচ থাকায় সামাজিক ও নানা অঙ্গনে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন এশিয়ান হকি ফেডারেশনের সঙ্গে বিজয় দিবসের দিন পাক-ভারত ম্যাচ না দেয়ার অনুরোধ জানায়। এশিয়ান হকি ফেডারেশন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের অনুরোধ বিবেচনা করেছে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হচ্ছে না। এশিয়ান হকি ফেডারেশন আমাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ১৬ তারিখের ম্যাচগুলো ১৭ তারিখে বডিলি শিফট করা হয়েছে।’
এশিয়ান হকি ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সুচি প্রকাশের পর সমালোচনার ঝড় উঠে। বাংলাদেশের বিজয় দিবসের দিন কেন পাকিস্তানের ম্যাচ ঢাকার মাটিতে এ নিয়ে অনেক বিশিষ্ট নাগরিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনকে ১৬ ডিসেম্বরের ম্যাচ নিয়ে এশিয়ান হকি ফেডারেশনের সঙ্গে আলেচনা করতে বলেছিল।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়া অংশ নিচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কোরিয়া। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। পরের দিন জিমিদের ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে। বিজয় দিবসের দিন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ওই দিনের খেলা বডিলি শিফট হয়ে এখন ১৭ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর জাপান এবং ১৯ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিমিদের। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ২২ ডিসেম্বর। ২৭ নভেম্বর প্রিমিয়ার হকি লিগ শেষ হবে। এরপরই জাতীয় হকি দলের ক্যাম্প শুরু হবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে হকি দলের কোচ করা হয়েছে মালয়েশিয়ান গোবীনাথান কৃষ্ণমুর্তিকে।
জানা গেছে, আজাহার আলী রাজনৈতিক ভাবে উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন তিনি। দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে নিজের স্ত্রী সহ পরিবারের স্বজনদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী নিয়ে দিয়েছেন।
২০০৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পানানগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় সমর্থন পেয়েছিলেন খন্দকার কোরবান আলী। দলীয় সমর্থন না পেয়ে তৎকালীন সাংসদ নাদিম মোস্তফার উপরে বচসা করে আওয়ামী লীগে যোগদেন আজাহার আলী। ওই সময় নাদিম মোস্তফা আজাহার আলীকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ‘আজাহার আলী বাদে তার পরিবারের সবাইকে চাকুরী দেয়া হয়েছে। তাও আজাহারের মন ভরলো না’।
সম্প্রতি, পানানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মুল ফটকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি বিকৃত করে আলোচনায় আসেন আজাহার আলী। ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা আজাহার আলীর এ ধরনের কর্মকান্ডে সে সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গত শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় চতুর্থ দফা ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা অনুমোদন দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। রোববার সেই তালিকা গণমাধ্যমে পাঠান আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
ওই তালিকায় দেখা গেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৩নং পানানগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ফের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আজাহার আলী খান। দলীয় মনোনয়ন হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবিও আপলোড দেন আজাহার আলী।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আদম আলী বলেন, আজাহার আলী খান ছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অত্যাচার নির্যাতন কম করেননি। তার পাশবিক নির্যাতন থেকে বাদ যাননি শিশু ও নারীরা।
অথচ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে আজাহার আলীকেই মনোনয়ন পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন। যা আমাদের বা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য অপ্রত্যাশিত। জন্মের পর থেকে আওয়ামী লীগ করে বিএনপি নেতার পক্ষে ভোট চাইতে হবে এর চাইতে কষ্টের আর কিছু হতে পারেনা। আগামী ইউপি নির্বাচনে আজাহার আলীকে বয়কট করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণাও দেন আদম আলী।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগে কি নেতাকর্মীর সঙ্কট পড়েছে যে অন্যদল থেকে আসা হাইব্রিড নেতাদের মনোনয়ন দিতে হবে। আজাহার আলী চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। না হলে আওয়ামী লীগের কাউকে এলাকায় বাস করতে দিবেনা।
ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, পুকুরের মাছ লুট, কলা বাগান তছরুপ কি করেননি এই আজাহার আলী। অথচ তাকেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি তাদের জন্য এটা অনেক কষ্টের বলেন আজিজুল ইসলাম।
আজিজুল অভিযোগ করেন, যে ব্যাক্তির ভাই এখনো জামায়াতের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত। যার হাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তার পক্ষে উপজেলা ও জেলার নেতারা কিভাবে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করেন। এর চাইতে রাজনীতি ছেড়ে বাদাম বিক্রি করাও ভালো।
এ প্রসঙ্গে আজাহার আলী খান বলেন, এক সময় বিএনপি করেছি। এখন আওয়ামী লীগ করি। দল আমাকে মূল্যায়ন করে পরপর দু’বার মনোনয়ন দিয়েছেন। প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি আশাকরি এবারও হব। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেকে অনেক কথা বলবে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না।

নভেম্বর ২৬
০৫:০৬ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]

সর্বশেষ