Daily Sunshine

কুয়াকাটার পথে পায়রা সেতু খুললো নতুন দুয়ার

Share

সানশাইন ডেস্ক: সমুদ্র শহর কুয়াকাটার সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুললো পায়রা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার পটুয়াখালীর লেবুখালীতে পায়রা নদীর ওপর নির্মিত চার লেইনের এ সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
একই অনুষ্ঠানে তিনি ঢাকা-সিলেট এবং সিলেট তামাবিল মহাসড়ক ছয় লেইনে উন্নতীকরণ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন। ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পায়রা সেতুতে সশরীরে উপস্থিত থেকে যদি তিনি উদ্বোধনের এই আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারতেন, যদি গাড়ি চালিয়ে সেতু পার হতে পারতেন, তাহলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। কিন্তু মহামারীর মধ্যে ‘একপ্রকার বন্দি জীবনে’ তা সম্ভব হয়নি।
প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু চালু হওয়ায় সড়কপথে সরাসরি কুয়াকাটা পৌঁছানো আরও সহজ হল। বরিশালের সঙ্গে পটুয়াখালী ও বরগুনার সড়ক যোগাযোগে ফেরি পারাপারের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি সময় ও অর্থ বাঁচাবে এ সেতু। একসময় সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা যেতে দশটি ফেরি পার হতে হত। বিগত বছরগুলোতে সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়নের ফলে এই পথে বাকি ছিল কেবল দুটি ফেরি। এরমধ্যে পায়রা নদীতে সেতু চালু হওয়ায় এখন বাকি থাকল কেবল পদ্মা। আগামী বছর পদ্মা সেতু চালু হয়ে গেলে কোনো ফেরি পারাপার ছাড়াই ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটা যাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ সরকার ও কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের যৌথ অর্থায়নে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লংজিয়ান রোডস অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি’ সেতুটি নির্মাণ করেছে। দৃষ্টিনন্দন এ সেতু নির্মণ করা হয়েছে ‘এক্সট্রাডোজড কেবল স্টেইড’ প্রযুক্তিতে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর শাহ আমানত সেতুও একই পদ্ধতিতে নির্মিত। পায়রা সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবদুল হালিম জানান, জলযান চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য নদীর পানি প্রবাহের স্তর থেকে প্রায় ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে এ সেতু।
পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে পায়রা নদীর মাঝখানে মাত্র একটি বড় পিয়ার স্থাপন করে গড়ে তোলা হয়েছে এক হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি। ১৩০ মিটার গভীর পাইলিং করে বসানো হয়েছে পিয়ারটি। ভূমিকম্পের মত দুর্যোগ থেকে সেতুকে নিরাপদ রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ব্রিজ হেলথ মনিটর’। এ প্রযুক্তিতে সেতুর ক্ষতি হতে পারে এমন অতিরিক্ত ভারী যানবাহন সেতুতে উঠলেও বেজে উঠবে বিপদ সংকেত।
পায়রা সেতুর জন্য পটুয়াখালীবাসীর অপেক্ষা দীর্ঘদিনের। এ সেতু নির্মাণের জন্য একনেকে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছিল সেই ২০১২ সালের ৮ মে। ৫ বছরের প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে নয় বছর, ব্যয় বেড়েছে সাড়ে তিনগুণ। দীর্ঘ প্রতাশার এ সেতু চালু হওয়ায় দেশের দক্ষিণ জনপদের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটবে এবং পায়রা বন্দরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার।

অক্টোবর ২৫
০৪:৫৫ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]

সর্বশেষ