Daily Sunshine

গুরুতর ৩০ রোগের কারণ শব্দদূষণ

Share

স্টাফ রিপোর্টার : শব্দ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। তবে শব্দ দূষণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ। গুরুতর ৩০টি রোগের অন্যতম কারণ শব্দ দূষণ। জনসংখ্যার ৫ শতাংশ মানুষ শব্দ দূষণের জন্য বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। রাজশাহীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিক এবং পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় শনিবার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অডিটরিয়ামে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, শব্দদূষণ হলে সমাজের সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ কারণে নিজেদের স্বার্থেই সকলকে শব্দ দূষণ রোধে এগিয়ে আসতে হবে।
এদিকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে শব্দদূষণের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। প্রেজেন্টেশনে জানানো হয়, ৫৫ থেকে ৬০ ডেসিবল স্বাভাবিক শব্দ। ৫৫ ডেসিবল মাত্রার শব্দ বধিরতাসৃষ্টি করে এবং ১০০ এর বেশি মাত্রার শব্দ স্থায়ী বধিরতা সৃষ্টি করে। পরিবেশ দূষণগুলোর মধ্যে মাটি দূষণ, পানি দূষণ চোখে দেখা গেলেও শব্দদূষণ চোখে পড়ে না বলে এনিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা তুলনামূলক কম। শব্দ দূষণ নীরব ঘাতক। মানুষ ও প্রাণীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে এই শব্দ দূষণ। শব্দ দূষণের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, দ্রুত নগরায়ন, যানবাহন বৃদ্ধি, মাইকের ব্যবহার, শিল্প কলকারখানায় সৃষ্ট শব্দ।
গত ২০১৫ থেকে ১৭ সালের জরিপে দেখা গেছে রাজশাহীতে শব্দের মাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ১৩৩ এবং সর্বনিম্ন ৫৬ ডেসিবল। ২০২১ সালের সরকারি ঘোষণা অনুসারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার ঘোষপাড়া মোড় থেকে সিএনডি মোর লক্ষ্মীপুর মোর ঐতিহ্য চত্বর রাজিব চত্বরে ঘোষপাড়া মোড় পর্যন্ত নীরব এলাকা করা হয়েছে। যানবাহন গুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে সবচাইতে বেশি শব্দ দূষণ সৃষ্টি হয়। শব্দ দূষণ রোধে দেশে একাধিক আইন রয়েছে। এসব আইনে ১ থেকে ৬ মাসের দন্ডবিধি অথবা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। বিনা কারণে হর্ন বাজানো সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হুমায়ুন কবীর, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী খান, আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, রাসিকের নিবার্হী কর্মকর্তা ডা. এবিএম শরিফ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবর ২৪
০৬:২৪ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]