Daily Sunshine

যানবাহনের ওভারটেকিং ও বেপরোয়া গতিই বেশিরভাগ দুর্ঘটনার কারণ

Share

স্টাফ রিপোর্টার : সড়কে বেপরোয়া গতিই বেশিরভাগ দুর্ঘটনার কারণ। বেপরোয়া গতি আর ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণেই সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে আয়োজিত এক জনসচেতনতামূলক সভায় সড়ক বিভাগ, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে এ কথা বলেছেন।
শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিআরটিএ’র রাজশাহী সার্কেল এর আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল।
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করতে গিয়ে বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, বেপরোয়া গতি এবং বিপজ্জনক ওভারটেকিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেকে অজুহাত দেন, ত্রুটিপূর্ণ কিংবা আঁকাবাঁকা সড়কে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬৭ শতাংশ দুর্ঘটনায় ঘটে সোজা সড়কে। বাকি ৩৩ ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে সড়কের বাঁকে। এতে প্রমাণিত হয়, বেপরোয়া মনোভাবই বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে বিআরটিএ’র রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক আশরাকুর রহমান গত মার্চে রাজশাহীর কাটাখালীতে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ওই দুর্ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, মাইক্রোবাসটির আসন সংখ্যা ১২টি। এতে উঠেছিলেন ২০ জন। বাস এবং মাইক্রোবাসের দুটিরই গতি ছিলো ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি। সামনে বাঁশবাহী ভ্যান থাকা স্বত্বেও মাইক্রোবাসটি ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং করছিল। আর ওই সময়ই সামনে থেকে আসা বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে ১৭ জন নিহত হন। একেবারে সোজা সড়কে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনা ঘটে চালকের কারণে।
সভায় বক্তারা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামে পেশাদার নারী চালক আছেন। কিন্তু তাঁদের দুর্ঘটনায় পড়ার কথা শোনা যায় না। কিন্তু পুরুষদেরই বেপরোয়া মনোভাব থাকে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। সভায় জানানো হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে। আর এশিয়ায় সপ্তম। গত ছয় বছরে দেশে ৪৪ হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণে বছরে শুধু আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের জিডিপিকে ২ থেকে ৩ শতাংশ পিছিয়ে দিচ্ছে। তাই সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হবে। আর এ জন্য জনসচেতনতার বিকল্প নেই। পথচারী-চালক সবাইকে বোঝাতে হবে, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাহলে ধীরে ধীরে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।
সভায় রাজশাহীর পুলিশ সুপারের পক্ষে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন- রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার, নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার শারমিন আক্তার, জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার নিয়াজ মেহেদী, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর জেলা সভাপতি তৌফিক আহসান টিটু প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাবিহা সুলতানা। সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবর ২৩
০৬:১১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]