Daily Sunshine

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান

Share

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে যেকোন ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনকে আরও কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিয়োপয়েন্টে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। দেশেজুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে শহিদ জামিল ব্রিগেডের সদস্যরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে সংহতি জানিয়ে অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব সব নাগরিকের। কিন্তু প্রধান দায়িত্ব প্রশাসনের। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনার পর প্রশাসনের অবস্থান আমাদের কিছুটা হলেও হতাশ করেছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবিলাসহ দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাদের আরও কঠোর অবস্থানে থাকা প্রয়োজন। দেশের প্রশাসন অত্যন্ত দক্ষ। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। আমরা আশা করি, সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে তারা আরও সজাগ, কঠোর ও দায়িত্বশীল হবেন।
মানববন্ধন থেকে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার দাবি করে বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা প্রতিষ্ঠায় ৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি- গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙ্গালি জাতীয়বাদ ও সমাজতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ঘন্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধন থেকে বক্তারা হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়ে সামগ্রিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শহিদ জামিল ব্রিগেডের প্রধান সমন্বয়ক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু।
৮০’র দশকের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ : জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রদায়িক তান্ডবের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছে ৮০’র দশকের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় নগরীর গণকপাড়া মোড়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ‘জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রদায়িক তান্ডব রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৮০’র দশকের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্রনেতা ও রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি শরিফুল ইসলাম বাবু। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ৮০’র দশকের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্রনেতা ও রাকসু’র সাবেক ভিপি রাগীব আহসান মুন্না, রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান বাবু, কামরান হাফিজ ইয়ামিন, রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস আব্দুল আল মাসুদ শিবলী, ছাত্রনেতা শাহরিয়ার রহমান সন্দেশ, ফজলে রাব্বী বাদশা, নাসির উদ্দিন রুবেল, সাগরসহ আরো অনেকে। সভাটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ শফিকুজ্জামান শফিক।
সন্ত্রাস ও সাংবাদিকতা বিরোধী সাংবাদিক মঞ্চ : দেশে মৌলবাদীদের অর্থনৈতিক বিকাশ ও তা বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগের পথকে চিরতরে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিক, সাংবাদিকসহ সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বুধবার সকালে নগরীর আলুপট্টির বঙ্গবন্ধু চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই দাবি তোলেন তারা।
সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে ‘যদি তুমি মানুষ হও, ধর্মান্ধতা রুখে দাও’ স্লোগানে সন্ত্রাস ও সাংবাদিকতা বিরোধী সাংবাদিক মঞ্চ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আকাক্ষা নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল; সেটিকে বিনির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে- এদেশে মৌলবাদীদের অর্থনীতি অত্যন্ত সক্রিয়। তাদের সেই অর্থ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ হচ্ছে। সেখান থেকে যে মুনাফা আসছে সেগুলো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রীতির দেশ গড়তে এগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্কুল পর্যায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, বক্তৃতা বা শ্লোগান দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা যাবে না। এটি বাস্তবায়ন করতে হবে স্কুল পর্যায় থেকে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার জন্য কর্মসূচি দিতে হবে। পাঠ্য বই, সিলেবাসে তা সংযোজন করতে হবে। সিঙ্গাপুরের মতো দেশে প্রচণ্ড দাঙ্গা, হানাহানি ছিল। তারা সেটি সমাধান করতে পেরেছে। তবে ভারত, বাংলাদেশ পাকিস্তান তা কেন পারেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের কার্যত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বর্তমানে সারাদেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে। উচিত হবে এসব ফিরিয়ে আনা।
ঘন্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধন থেকে বাহাত্তরের সংবিধান পুন:প্রতিষ্ঠারও দাবি উঠে। বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা প্রতিষ্ঠায় ৭২-এর সংবিধানের অপরিহার্যতা অনিস্বীকার্য। এ চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি-গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙ্গালি জাতীয়বাদ ও সমাজতন্ত্র পূনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেতই সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
বক্তারা হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়ে সামগ্রিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ সফিউদ্দীন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সাবেক সহসভাপতি মামুন-অর-রশিদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী থিয়েটারের সভাপতি নিতাই কুমার সরকার, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরিফুজ্জামান জুয়েল, সেক্টর কমান্ডার ফোরামের রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, ওয়ালিউর রহমান বাবু, খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, উন্নয়নকর্মি সুব্রত পাল, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কাজী শাহেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিবলী নোমান, রাজশাহী টিলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ের কোষাধ্যক্ষ সরকার দুলাল, সিনিয়র সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মি দীপেন্দ্রনাথ দাস, সুজনের মহানগর সভাপতি পিয়ার বক্স, সাবেক ছাত্রনেতা তামিম সিরাজি প্রমুখ।
রামেক হাসপাতাল কর্মকর্তা-জর্মচারি : এদিকে একই দাবিতে রাজশাহীতে পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহীর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স,কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় বক্তারা, দ্রুত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রিয় স্বাচিপের সহসভাপতি ডা. তবিবুর রহমান শেখ, রাজশাহী বিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা.আতাউর রহমান বাবু সাধারন সম্পাদক ও রাসেক অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী, স্বাচিপ সভাপতি ডা.চিন্ময় কান্তি দাস, সাধারন সম্পাদক ডা. নাসিম আক্তার প্রমুখ।
রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি : বাঙ্গালি জাতির অসাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস সারা বিশ্বে রোল মডেল। এখানে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানসহ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু কুচক্রী মহল এই সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালায়। যেটা এদেশের প্রগতিশীল সমাজ, সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি, আগামীতেও কখনো মেনে নেবে না।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির (আরসিআরইউ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা। সম্প্রতি কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে রাজশাহী কলেজে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনটি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের যে ঐতিহ্য সেটা নষ্ট করে একটি কুচক্রী মহল দেশটাকে আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান বানাতে চায়। বাংলাদেশ যে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নিয়েছে সেটাকে নষ্ট করতে তারা সাম্প্রদায়িক উষ্কানির মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু তারা প্রতিনিয়ত ধর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক হামলার মাধ্যমে বিভাজন সৃষ্টি করে সম্প্রীতি নষ্টের যে পায়তারা চালাচ্ছে তা কখনোই বাস্তবায়ন হবে না। রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ সবসময়ই শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে কাজ কওে যাচ্ছে। এ সময় সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সকল সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তিরও দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা. আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম, আরইউজের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার তানজিমুল হক, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের (আরটিজেএ) সভাপতি মেহেদী হাসান শ্যামল, দৈনিক সোনালী সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান, আরইউজের সদস্য ও সিনিয়র ফটো সাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীর, রাজশাহী মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওলিউর রহমান বাবু, আরসিআরইউ’র সাবেক সভাপতি বাবর মাহমুদ, রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হাসান নাইম।
আরসিআরইউ’র সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহাগ ও অর্থ সম্পাদক মাহাবুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, আরসিআরইউ’র উপদেষ্টা আজমত আলী রকি, আরইউজের কার্য নির্বাহী সদস্য সিনিয়র ফটো সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম তোতা, আরসিআরইউ’র দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হাকিম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সেহের আলী দুর্জয়, নির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ রনি, সদস্য বদরুদ্দোজা, আফসানা মিমিসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি ও আরসিআরইউ’র সদস্যবৃন্দ।

অক্টোবর ২২
০৬:৪৫ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]