Daily Sunshine

রেকর্ড গড়া জয়ে সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ

Share

স্পোর্টস ডেস্ক: ঠিক বাঁচা-মরার ম্যাচ না হলেও সুপার টুয়েলভের ভাগ্য নিজেদের হাতে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না। এমন ম্যাচে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আলো ছড়ালেন সাকিব আল হাসান। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আসরের দ্রুততম ফিফটি করলেন মাহমুদউল্লাহ। বোলারদের প্রায় সবাই রাখলেন অবদান। পাপুয়া নিউ গিনিকে উড়িয়ে পরের ধাপ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।
স্রেফ ৩ রানের জয় হলেই চলতো বাংলাদেশের। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর দল কাজ সারল রেকর্ড গড়া জয়ে। বিশ্বকাপ তো বটেই রানের দিক থেকে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়ে জায়গা করে নিল সুপার টুয়েলভে। স্কটল্যান্ড ও ওমান ম্যাচের ফলের উপর নির্ভর করবে গ্রুপে তাদের অবস্থান।
‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনিকে ৮৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৮১ রান তাড়ায় ৯৭ রানে গুটিয়ে গেছে আইসিসির সহযোগী দেশটি। টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের আগের সবচেয়ে বড় জয় ছিল ৭১ রানে। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওই জয় পেয়েছিল তারা। আর বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় ছিল ৫৪ রানের, ২০১৬ আসরে ওমানের বিপক্ষে।
ঝুঁকিপূর্ণ দুই রানের চেষ্টায় রান আউট হয়ে গেলেন কাবুয়া মোরেয়া। আফিফ হোসেন থ্রো স্টাম্প থেকে একটু দূরেই ছিল। কিন্তু ঝাঁপিয়ে ঠিকই বেলস ফেলে দেন নুরুল হাসান সোহান।
৬ বলে ৩ রান করেন মোরেয়া। ১৮ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৯ উইকেটে ৮২। একটা জুটির মতো গড়ে তুলেছিল পাপুয়া নিউ গিনি। বোলিংয়ে ফিরে সেটা ভেঙে দিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দিলেন চাড সোপেরকে। ভাঙে ২৫ রানের জুটি। ১২ বলে এক ছক্কায় ১১ রান করেন সোপের।
১৫ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৮ উইকেটে ৫৪। আবার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উজ্জ্বল সাকিব আল হাসান। ৪৬ রানের ইনিংস খেলার পর পেলেন চার উইকেট। বাঁহাতি স্পিনারের শেষ ওভারে স্লগ সুইপে ছক্কার চেষ্টায় নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে ধরা পড়েন হিরি হিরি। ১৫ বলে তিনি করেন ৮। ১১ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৭ উইকেটে ৩০।
স্কোর বোর্ডে রান নেই। উইকেট পড়ছে নিয়মিত। ছক্কায় চাপ সরিয়ে দিতে চাইলেন নরমান ভানুয়া। কিন্তু পারলেন না, মেহেদি হাসানের বলে ধরা পড়লেন মুশফিকুর রহিমের হাতে। ২ বলে শূন্য রান করেন ভানুয়া। সেই ওভারে অফ স্পিনার মেহেদিকে চার মারেন হিরি হিরি। ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনির প্রথম চার। ১০ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৬ উইকেটে ২৮।
নিজের তৃতীয় ওভারে ফিরে আরেকটি উইকেট পেলেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি স্পিনারকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় সীমানায় মোহাম্মদ নাঈম শেখের হাতে ধরা পড়লেন সেসে বাউ। ২১ বলে ৭ রান করেন তিনি। ৯ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৫ উইকেটে ২৪। ক্রিজে হিরি হিরির সঙ্গী নরমান ভানুয়া।
৯ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৫ উইকেটে ২৪। ক্রিজে হিরি হিরির সঙ্গী নরমান ভানুয়া। তাসকিন আহমেদের মতো বোলিংয়ে এসেই উইকেট পেলেন সাকিব আল হাসানও। বাঁহাতি এই স্পিনারের বলে লং অনে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। চার্লস আমিনি ছক্কায় স্বাগত জানাতে চেয়েছিলেন সাকিবকে। কিন্তু পাপুয়া নিউ গিনির সহ-অধিনায়ক পার করতে পারলেন না নাঈমকে। দৌড়ের মধ্যেই ঝাঁপিয়ে দুই হাতে ক্যাচ মুঠোয় রেখে তিনি নিশ্চিত করেন পা যেন স্পর্শ না করে সীমানা দড়ি। ২ বলে ১ রান করেন আমিনি।
দুই বল পর মেলে আরেকটি উইকেট। সাকিবকে স্লগ সুইপ করে আকাশে তুলে দেন সাইমন আটাই। স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমান মেহেদি হাসান। পরের বলেই মিলতে পারত আরেকটি উইকেট। কিন্তু সেসে বাউয়ের কঠিন ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান। ৫ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ৪ উইকেটে ১৫। ক্রিজে সেসে বাউয়ের সঙ্গী হিরি হিরি।
লেগ স্টাম্পে তাসকিন আহমেদের শর্ট বল। আসাদ ভালা কিপারের পাশ দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন বাউন্ডারিতে। কিন্তু মাঝ পথেই থামিয়ে দিলেন নুরুল হাসান সোহান। লেগে ঝাঁপিয়ে এক হাতে গ্লাভসে জমালেন ক্যাচ। পাপুয়া নিউ গিনি অধিনায়ক ভালা ৯ বলে করেন ৬। ৪ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ২ উইকেটে ১৩। উইকেট-মেডেন দিয়ে শুরু করলেন তাসকিন।
শেষের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাপুয়া নিউ গিনিকে এলোমেলো করে দিলেন যিনি, সেই মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনই বল হাতে হানলেন প্রথম আঘাত। দারুণ এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করে দিলেন লেগা সিয়াকাকে। অফ স্টাম্পে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলে ফ্লিক করেন পাপুয়া নিউ গিনির ওপেনার। খেলতে পারেননি ব্যাটে। আম্পায়র এলবিডব্লিউ দিলে রিভিউ না নিয়েই ফিরে যান সিয়াকা। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেছে, লেগ স্টাম্পের বাইরের দিকে লাগতো বল। ১০ বলে ৫ রান করেন সিয়াকা। ৩ ওভারে পাপুয়া নিউ গিনির স্কোর ১ উইকেটে ১৩। ক্রিজে আসাদ ভালার সঙ্গী চার্লস আমিনি।
এদিকে সাইফের শেষের ঝড়ে বাংলাদেশ ১৮১ রান। প্রথম ১০ ওভারে রান কেবল ৭১। সেখান থেকে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে রানের গতি বাড়ালেন মাহমুদউল্লাহ। শেষটায় ঝড় তুললেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। শেষ তিন বলে তার দুই ছক্কা ও এক চারে ১৮০ ছাড়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮১ রান করেছে বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারে তুলেছে ১১০ রান, শেষ ৫ ওভারে ৬৮। ৬ বলে দুই ছক্কা ও ১ চারে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন সাইফ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮১/৭ (নাঈম ০, লিটন ২৯, সাকিব ৪৬, মুশফিক ৫, মাহমুদউল্লাহ ৫০, আফিফ ২১, সোহান ০, সাইফ ১৯*, মেহেদি ২*; মোরেয়া ৪-০-২৬-২, রাভু ৪-০-৪০-২, সোপের ৪-০-৫৩-০, বাউ ২-০-২০-০, ভালা ৩-০-২৬-২, আমিনি ২-০-৯-০, আটাই ১-০-৬-১)
পাপুয়া নিউ গিনি: ১৯.৩ ওভারে ৯৭ (সিয়াকা ৫, ভালা ৬, আমিনি ১, বাউ ৭, আটাই ০, হিরি ৮, ভানুয়া ০, ডরিগা ৪৬*, সোপের ১১, মোরেয়া ৩, রাভু ৫; সাইফ ৪-০-২১-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৪-০, তাসকিন ৩.৩-১-১২-২, সাকিব ৪-০-৯-৪, মেহেদি ৪-০-২০-১)

অক্টোবর ২২
০৬:৩৯ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]

সর্বশেষ