Daily Sunshine

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)

Share

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ১২ রবিউল আওয়াল। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)। বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহম্মদ (সা:) এর শুভ জন্মদিন ও ওফাত দিবস। ৫৭০ খৃস্টাব্দে এই দিনে মহানবী (সা:) মা আমেনার কোলে পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করে। ৬৩ বছর জিবদ্দশা শেষে মহানবী (সাঃ) ওই দিবসেই তিনি পৃথিবী থেকে পর্দা করেন। তার শুভাগমনকে ঘিরে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রান মুসলমানগণ নানা ধর্মীয় কর্মসূচী ও ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেন। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় বান্দারা রাত জেগে নফল নামাজ আদায়করা, রোজা রাখা, কোরআন তেলোয়াত, জিকির আসগার সহ নানা ইবাদাত বন্দেগি করে থাকেন। এছাড়া জশনে জুলুশ ধর্মীয় র‌্যালি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় দেশ জুড়ে। মসজিদের মাইকে বাজে হাম, নাথ ও ইসলামিক গজল। পরিবারেও চলে নানা ইবাদত বন্দেগির আয়োজন।
এ উপলেক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও বাড়তি প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও রাস্তাঘাট আলোক সজ্জা করে থাকেন । বিশেষ করে রাজশাহী শাহ মখদুম রুপোশ (রঃ) এর মাজার শরীফে আলোক সজ্জা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এ দিনে । প্রতিটি এলাকার মসজিদে চলে রাতভর ইবাদাত বন্দেগী। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন এ দিনে। বিষয়টি নিয়ে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে তার ওয়ার্ডে বিশেষ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা করেন। ড্রেনেজ ও রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ নজর দেন তিনি । এ ছাড়া এলাকার মসজিদ ও রাস্তায় তোরণ ও লাইটিং এর মাধ্যমে সুসজ্জিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড বাসিকে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ দিনে পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি নজরদারি রাখার আহ্ববান জানিয়েছেন। জ্বশনে জুলুশ বের করার অনুমতি না থাকায় এলাকাবাসিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মসজিদ ও বাড়ীতে ইবাদত বন্দেগী করার আহবান জানান কাউন্সিলর সুমন।
ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন উপলক্ষে নগরীর শিরোইল কলোনী আন্জুমানে আশরাফিয়া ও গাউছিয়া কমিটির পক্ষ থেকে প্রতি বছর জ্বশনে জুলুশ ধর্মীয় শোভা যাত্রা বের করাহয়। এ সময় শাহমখদুম রুপোশ (রঃ)এর মাজার শরীফে গিলাফপুশি করে মসজিদে ফিরে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে শিরোইল কলোনী বড় জামে মসজিদ ও বাইতুল মামুর জামে মসজিদ সহ প্রতিটি এলাকা সেজেছে বর্ণিল সাজে। লাল নীল ও সবুজের ঝরমলে আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা । সন্ধ্যা হলেই মসজিদ ও আশপাশের রাস্তা , অলিগলি ও বাড়ী টুনি লাইটে আলোকিত করে তুলেছে । পবিত্র ঈদেমিলাদুন্নবী উপলক্ষে এমন সাজ সাজ আয়োজন । যে কারো নজর কাড়বে এ এলাকায় প্রবেশ করলে চোখে পড়বে।
আন্জুমান এ আশরাফিয়া ও গাউছিয়া কমিটি রাজশাহীর উদ্যোগে এ এলাকায় বহু বছর ধরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী এভাবেই উদযাপন করে আসছে। এ ছাড়া বড় বনগ্রাম বখশিয়া খানকা শরীফ শতাধিক ট্রাক ও মোটর সাইকেল নিয়ে জ্বশনে জুলুশ ধর্মীয় শোভাযাত্রা বের করে এ দিনে । এসব শোভাযাত্রা নগরবাসীকে মনে করিয়ে দেয় আজ ১২ই রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(সা:)। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শুভ জন্মদিন । যার জন্ম না হলে পৃথিবীর জন্ম হতো না । এমন দিনকে ঘিরে চলে ধর্মীয় নানা আয়োজন। শুধু পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীই নয়, এ কমিটির পক্ষ থেকে, পবিত্র শবে বরাত, শবে মেরাজ, শবে- ক্বদর ও পীরে কামেলের শুভাগমনসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে গত কয়েকদিন ধরেই এ এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিটি রাস্তা, অলি গলি ও বাড়ীতে আলোক সজ্জাসহ ইসলামী নিশানা সম্বলিত পতাকা টানানো হয়েছে । এ দিনে ধর্মপ্রান মুসলমানগণ, মিলাদ মাহফিল জিকির আজগার কোরআন পাঠ, নফল নামাজ, রোজা ও ধর্মীয় শোভাযাত্রা সহ নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে থাকেন।
এদিকে সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, শিরোইল কলোনী এলাকার প্রবেশ মুখে খাদ্য গোডাউনের সামনের রাস্তায় বিশালাকার তোরণ ও টুনি লাইট দ্বারা বড় জামে মসজিদ সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের এলাকাজুড়ে প্রতিটি রাস্তা, অলিগলি ও বাড়ী টুনি লাইটিং এর মাধ্যমে বর্ণিল আলোয় আলোক সজ্জা করা হয়েছে । প্রতিটি রাস্তার প্রবেশ মুখে বিশালাকার তোরণ ও ইসলামী পতাকা টানানো হয়েছে। মসজিদের ভেতর রঙিন কাগজ দ্বারা সুসজ্জিত করা হয়। এমন সু- সজ্জায় মুখরিত হয়ে উঠেছে আশপাশের পুরো এলাকা। ১২ই রবিউল আউয়াল উদযাপনের এমন দৃশ্য অবলকন করতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু কিশোর ও পরিবার স্বজন দলবেধে ঘুরতে আসছেন এ এলাকায় ।
এ দিকে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি এলাকা থেকে সপরিবারে আসা কাপড় ব্যবসায়ী মুজাহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(সা:) পালন করা হয়, তবে এমনভাবে উদযাপন হয় না। এ এলাকার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মনে করিয়ে দেয় দিনটি উদযাপন করতে।
এ বিষয়ে শিরোইল কলোনী বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওঃ মুফতি মঈনুল ইসলাম আশরাফী জানান, প্রতি বছর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন উপলক্ষে জ্বশনে জুলুশ বের করা হয় । তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে ধর্মীয় শোভাযাত্রার অনুমতি না থাকায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে জ্বশনে জুলুশ উদযাপনে । তবে স্বল্প পরিসরে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে । এ সময় মুসল্লিদের মসজিদ অথবা নিজ বাসায় ইবাদত বন্দেগী করার আহ্বান জানান তিনি।
সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) যথাযথ মর্যদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্য বিধি মেনে স্বল্প পরিসরে মসজিদ ও ঘরে বসে ইবাদত বন্দেগি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কিছু বিধি নিষেধ দেওয়া হয়েছে। এ সময় সকল প্রকার জনসমাবেশ মিছিল, আতশবাজি, পটকা ফুটানোসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক দ্রব্য ব্যবহার অস্ত্র সস্ত্র, তালোয়াড়, বর্শা, বন্দুক, ছোড়া বা লাঠি ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঘরোয়া ভাবে ধর্মীয় আচারাদী পালন করা যাবে বলেও এ বিজ্ঞপ্তিতে জানান।

অক্টোবর ২০
০৫:৪৮ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]