Daily Sunshine

ব্যর্থ মুমিনুল, মোসাদ্দেকের ঝড়ো ৬৪

Share

স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যাট হাসছিল না, পাচ্ছিলেন না রানের দেখা। গত তিন ম্যাচে দুই অঙ্কে গিয়েও মোসাদ্দেক হোসেন খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। অবশেষে কেটেছে রান খরা। বাংলাদেশ এইচপি দলের বিপক্ষে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে খেলেছেন তিনি ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংস। তার জ্বলে ওঠার দিনে ব্যাট হাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সোমবার চতুর্থ একদিনের ম্যাচটি ৫ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ব্যাটিং ব্যর্থতায় এইচপি দল থেমে যায় কেবল ১৯২ রানে। তাদের হয়ে ফিফটি করতে পারেননি কেউ, সর্বোচ্চ পারভেজ হোসেনের ৪১ রান। প্রতিপক্ষকে দুইশর আগে গুটিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব ‘এ’ দলের স্পিনারদের। দারুণ বোলিংয়ে তিনটি করে উইকেট নেন নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। রকিবুল হাসানের প্রাপ্তি দুটি।
রান তাড়ায় ৪৮ বলে ৬৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। ৪ ছক্কার সঙ্গে মারেন ৫টি চার। ২ ছক্কা ও ৩ চারে ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে আসে ৪৯। দলের অধিনায়ক মুমিনুল করেন কেবল ১১। এদিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা এইচপি দল নিয়মিত বিরতিতে হারায় উইকেট। শুরুটা তানজিদ হাসানকে দিয়ে। নাঈমের অফ স্পিনে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে যান বাঁহাতি এই ওপেনার।
আরেক ওপেনার মুনিম শাহরিয়ারকে পরের ওভারেই ফিরিয়ে দেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। ব্যাটের কানা নিয়ে উইকেটের পেছনে যাওয়া বল ডানদিকে ঝাপিয়ে পড়ে এক হাতে দারুণ ক্যাচ নেন কিপার ইরফান শুক্কুর। রান আউটে কাটা পড়ে দ্রুত ফিরে যান ইমরান উজ্জামানও। দারুণ খেলতে থাকা পারভেজকে ফিফটির আগে থামিয়ে দেন রকিবুল। ৩ চার ও এক ছক্কায় ৪১ করা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান সুইপ করে হন এলবিডব্লিউ।
আগের ম্যাচে অপরাজিত ৯৩ রানের ইনিংসে খেলা তৌহিদ হৃদয় এবার আর হাল ধরতে পারেননি দলের। নাইমকে বেরিয়ে এসে উড়িয়ে মেরে লং অনে ধরা পড়েন তিনি। আনিসুল ইসলাম ও তানজিম হাসানরা ছিলেন আসা যাওয়ার মাঝে। ১৩২ রানে ৭ উইকেট হারানো দলকে দুইশর আশা দেখান শাহাদাত হোসেন ও সুমন খান। কিন্তু তাদের জুটি ৫০ ছুঁয়ে এগোতে পারেনি আর বেশিদূর। তাই দলও থেমে যায় দুইশর আগে।
তাইজুলের বলে ডাউন দা উইকেটে খেলে লং অফে সহজ ক্যাচ দেন শাহাদাত (৩৪)। বাঁহাতি এই স্পিনারকে স্লগ করে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন সুমন। রান তাড়ায় শুরুতেই সাদমান ইসলামকে হারায় ‘এ’ দল। তানজিমের শর্ট বলে পয়েন্টে দারুণ ক্যাচ নেন হাসান মুরাদ। পরের ওভারে এই পেসার ফিরিয়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্তকেও। তার শর্ট বলে বেরিয়ে এসে খেলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান শান্ত।
টিকতে পারেননি ইরফান। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান হৃদয়ের বলে রিভার্স করে স্লিপে দেন ক্যাচ। সুমনের বলে শান্তর মতোই বোল্ড হন মুমিনুল। এক প্রান্তে দারুণ খেলতে থাকা ইমরুল এগিয়ে যেতে থাকেন ফিফটির দিকে। কিন্তু ৪৯ রানে তাকে ফিরিয়ে দেন মুকিদুল। তার শর্ট বলে পুল করে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
মোসাদ্দেকের ঝড় বয়ে যায় রিশাদের ওপর দিয়ে। মিডউইকেট দিয়ে এই লেগ স্পিনারকে ছক্কায় উড়িয়ে নিজের প্রথম বাউন্ডারি তুলে নেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। রিশাদকে পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে ৪৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন মোসাদ্দেক। পরের ওভারে মুরাদের বলে ক্যাচ তুলেও বেঁচে যান। পরে বাঁহাতি এই স্পিনারকে টানা দুই ছক্কায় দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। এইচপি দলের বিপক্ষে চার ম্যাচ সিরিজের সবকটি ম্যাচই জিতেছেন মুমিনুলরা।

অক্টোবর ০৫
০৫:৪০ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]