Daily Sunshine

পুলিশ চলে ডালে ডালে, মাদক কারবারিরা পাতায় পাতায়

Share

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘা সীমান্তে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোরাচালান বানিজ্য। নদীতে পানি বাড়ার পর থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে প্রতিদিন অনায়াসে চলে আসছে মরণ নেশা হাজার-হাজার বোতল ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও হেরোইন। এগুলো উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা থাকলেও সোর্সরা তাদের সহায়তা করছে না। সহায়তা করছে র‌্যাবকে।
প্রক্ষান্তরে রাতের বেলায় পুলিশ মাদক উদ্ধরে নামলে বিভিন্ন হাট-বাজারের নৈশ্য প্রহরীরা মাদক ব্যবসায়ীদের ফোন করে সতর্ক করছে। ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের চলছে চোর-পুলিশ খেলা। অর্থাৎ পুলিশ যে পথে হাটছে, তার উল্টো পথ দিয়ে চলে যাচ্ছে মাদক।
প্রিয় পাঠক এ খবরটা পড়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে চোর পুলিশ খেলাটা আবার কি? ১৯০০-এর দশকে বা তার আগে থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের শিশুদের দ্বারা পরিচালিত একটি বিনোদনমূলক খেলার নাম চোর-পুলিশ খেলা। এ খেলায় একদল পুলিশের ভূমিকা পালন করে এবং অন্যদল একটি আখ্যানের মধ্যে চোরের ভূমিকা পালন করে। এখানে পুলিশ চোরদের তাড়া করে তাদের পরাজিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটি হচ্ছে না। এখন দিনের আলোয় তথা কথিত কিছু অসৎ মানুষ এবং রাতে নৈশ্য প্রহরীরা মাদক ব্যবসায়ীদের ফোন করে পুলিশ আসার খবরটি পৌঁছে দিচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে বাঘা বাজারের পার্শ্বে অবস্থিত একজন বাসিন্দা জানান, ছোট বেলায় পড়ে ছিলাম ‘ডাক্তার আসিবার পুর্বে রুগীটি মারা গেলো’’। বর্তমানে পুলিশের অবস্থা ঠিক তাই। এখন যারা মাদক ব্যবসা করে তারা নিজ-নিজ এলাকার লোকজনসহ উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজারে অবস্থিত নৈশ্য প্রহরী দের মাসোয়ারা দিয়ে ব্যবসা করে। ফলে দেখা যায়, পুলিশের গাড়ি থানা থেকে রাস্তায় উঠে যে কোন বাজার অতিক্রম করলে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মুহুর্তের মধ্যে খবর চলে যায়। তখন তারা ভিন্ন পথে মাদক প্রাচার করে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, মাদক পারা-পারের জন্য বাঘা সীমান্ত এলাকায় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালানী সিন্ডিকেট। এদের সংখ্যা বর্তমানে উপজেলার ১০-১৫ টি গ্রাম মিলে প্রায় ৩ শতাধিক। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর সবকিছুই নিয়ন্ত্রন করছে নতুন প্রজন্মের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী। যারা সর্বনিম্ন দুই হাজার বোতলের নিচে ফেন্সিডিল কিংবা ইয়াবা আনে না। এদের মধ্যে আলাইপুরের চপল, সিদ্দিক, ছোট মনির ও জার্জিস। মীরগঞ্জের-মনির ও নান্টু। মহদিপুরের রিয়াল। পানি কমড়ার স্বপন। ভানুকরের সোহেল মোল্লা, শিমুল, ওয়াশিম ও সজিব এবং বাঘার রবি ভান্ডরি ও সীমা বেগম অন্যতম। এর মধ্যে সম্প্রতি সীমা বেগমকে হেরোইনসহ গ্রেফতার করেছে বাঘা থানা পুলিশ।
বাঘা মোজাহার হোসেন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নছিম উদ্দিন ও রহমতুল্লাহ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল ইসলাম জানান, মাদক উদ্ধারের বিষয়ে এ উপজেলায় সীমান্তরক্ষীদের দু’টি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। এরা মাঝে মধ্যে কিছু মাদক উদ্ধার দেখিয়ে থানায় মামলা দিলেও তা পরিত্যাক্ত উল্লেখ করে মামলা দেওয়া হয়।
গত সপ্তায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা ও চোরাচালন শীর্ষক সভায় বিষয়টি উপস্থাপিত হয়। সেখানে এ কথাও উঠে আসে, জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাদক উদ্ধারে একে বারেই উদাসীন।
মাদক প্রসঙ্গে এলাকার সুধীজনদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, বর্তমানে যারা সোর্স হিসাবে কাজ করে তারা র‌্যাবকে বিশ্বাস করে এবং মাঝে মধ্যে তাদের ফোন করে ডেকে মাদক ধরিয়ে দেন। কিন্তু পুলিশকে তারা বিশ্বাস করে না। কারণ তারা সোর্সদের নাম বলে দেয়। অনেক সময় একজন পুলিশ আরেক জনের সোর্সকে বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে তার আয়েত্বে নিয়ে নেয়। আর যদি না আসে, সেক্ষেত্রে তাদের নাম প্রকাশ পেয়ে যায়।
তারা আরো বলেন, নদীতে পানি বাড়ার পর থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বাঘা সীমান্ত এলাকায় রাজশাহী, নাটোর, ঈশ্বরদী ও পাবনা এলাকা থেকে প্রতিদিন বিকেলে প্রায় অর্ধ শতাধিক মোটর সাইকেল যোগে আসা কিছু উটতি বয়সের যুবকরা রাস্তা-ঘাটে কিংবা পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন মোড়ে হাতে-হাতে মাদ্ক ক্রয় করে। তা ঘটনাস্থলেই সেবন করে বাড়ি ফিরে।
এ বিষয়ে বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাদকের সাথে কোন আপোশ নেই। তবে সীমান্ত এলাকা হওয়ার সুবাদে কিছু মানুষ মাদককে আর পাঁচটি সাধারণ ব্যবসার মতো করে নিয়েছে। এজন্য জনগণের সহায়তার প্রয়োজন।
ইতোমধ্যে থানার সকল কর্মকর্তাদের সাথে দফায়-দফায় মিটিং করে বেশ কিছু মাদক উদ্ধার সহ কয়েকজন ব্যবাসায়ীকে আটক করেছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সেপ্টেম্বর ২০
০৭:১৩ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]