Daily Sunshine

শিক্ষিকার এ্যাম্বুলেন্স সেবা

Share

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে দরিদ্র প্রসুত ও অসহায় রোগীদের পরিবহনে বিনামূল্যে এ্যাম্বুল্যান্স সেবা দিচ্ছেন সেফালী খাতুন (৩৬) নামে এক স্কুল শিক্ষিকা। শেফালী উপজেলার নগর ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামের ময়লাল হোসেনের স্ত্রী ও মেরিগাছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। গত দুই বছর ধরে চলা এ কার্যক্রমে দুই শতাধিক রোগী এ এ্যাম্বুলেন্স সেবা গ্রহণ করেছেন।
শেফালী খাতুন বলেন, ২০১৯ সালের স্বামীর সহযোগীতায় তিন লক্ষ টাকায় এ্যাম্বুল্যান্স এবং মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে একজন ড্রাইভার নিয়োগ করে সেবা কার্যক্রম চালু করি। আমার স্বামী ও ড্রাইভারের ফোন নাম্বার দিয়ে সেবা গ্রহনের জন্য বিল বোর্ড দিয়ে প্রচার করি। এ পর্যন্ত ২৪০ জনকে এ সেবা দিতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, ছোটকাল থেকেই মানুষের সেবা করার প্রবল ইচ্ছা কাজ করত। পাবনা এ্যাডওয়ার্ড কলেজে স্নাতক পড়া অবস্থায় চাকুরি হয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মনের মধ্যে কাজ করত কিছু একটা করার। গ্রামের মানুষ অসুস্থ অবস্থায় সময়মত হাসপাতালে যেতে পারত না। বিষয়টি আমাকে পিড়া দিত।
আমার বিদ্যালয়ের পাশে একটি মুদি দোকানী ছিলেন। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে কথা হতো। হঠ্যাৎ শুনি সময়মত হাসাপাতালে পৌঁছাতে না পারার কারণে মারা গেছেন তিনি। ঘটনাটি আমাকে খুব নাড়া দেয়। ২০১৪ সালে বিয়ের পর বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি উৎসাহ দেন। সেই থেকে টাকা জমিয়ে ২০১৯ সালে এ্যাম্বুলেন্স কিনে সেবা কার্যক্রম শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, গাড়ীটি পুরাতন হওয়ায় মাঝে মাঝেই মেরামত করতে হয়। মেরামতেই অনেক খরচ হয়। এছাড়াও নাটোর সদর হাসপাতাল পর্যন্ত রোগী এ গাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব হয়। কিন্তু রাজশাহী মেডিকেল পৌঁছানোর দরকার হলে আর সম্ভব হয় না। তবে মেরামত করা গেলে সম্ভব হবে।
শেফালীর বাবা অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, আমার মেয়ে যে সেবা করছে তা একটি মহৎ কাজ। আমি দোয়া করি সে যেন আমৃত্যু মানুষের সেবা করতে পারে।
জালোড়া গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, আমার বাবাকে মুমূর্ষু অবস্থায় কোভিড আতঙ্কে হাসপাতালে নিতে কোন গাড়ী রাজি হচ্ছিল না, অবশেষে শেফালীর এ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে সে যাত্রায় প্রাণে বাঁচাতে পেরেছিলাম। আমরা কৃতজ্ঞ।
পাঁচবাড়িয়া গ্রামের দিনমজুর রমজান আলী বলেন, আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে সময়মত হাসপাতালে নিতে না পারলে স্ত্রী-সন্তান দুজনেরই প্রাণ সংহারের সম্ভাবনা ছিল। দরিদ্র মানুষ এ্যাম্বুলেন্স ডাকার সাহসই হচ্ছিল না। অবশেষে শেফালীর এ্যাম্বুলেন্স সেবায় আমার পরিবারের নতুন অতিথি আলোর মুখ দেখেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আশাদুজ্জামন বলেন, শেফালীরর ফ্রি এ্যাম্বুলেন্সে অনেক রোগী আসে হাসপাতালে। এছাড়া কোভিড-১৯’ শুরুতে শ্যাম্পল কালেকশন করে তা সিভিল সার্জন অফিসে পৌঁছানোর কোন গাড়ী পাওয়া যায়নি। কিন্তু শেফালীর এ্যাম্বুলেন্স সেই সেবা দিয়ে সংকট মুর্হুতে সহযোগিতা করেছেন।
বড়াইগ্রামের ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভাল কাজ। প্রয়োজনে সহযোগিতা দিয়ে এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় উৎসাহিত করা হবে।

সেপ্টেম্বর ২০
০৭:০১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]