Daily Sunshine

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ মোহনপুরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম

Share

স্টাফ রিপোর্টার: মোহনপুরে গোছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি এবং সাবেক প্রধান শিক্ষকের বাড়ি উচ্ছেদের পাঁয়তারার প্রতিবাদে ভুক্তভোগি এক বিধবা নারী সংবাদ সম্মেলন করেন।
অত্র বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক কুদরতুল্লাহ কবিরাজের স্ত্রী রোকেয়া ফাতেমা গতকাল রোববার এই সংবাদ সম্মেলন করেন। নগরীর মহিষবাথানস্থ রাজপাড়া মাদক নির্মূল কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তার পুত্রবধু জাহানারা খাতুন উপস্থিত ছিলিন।
লিখিত বক্তব্যে রোকেয়া ফাতেমা বলেন, তার স্বামী এই স্কুলে প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার শাশুড়ী আসমা খাতুন এই স্কুল করার জন্য মৌজা-গোছা, জেএল নং-০৬, প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-৫১৯, দাগ নং-৩৪৪, রকম-ভিটা, পরিমান-১৫ শতক জমি দান করেন। তিনি বলেন, একটি স্কুল তৈরী করতে সর্বনিম্ন এক একর জমি প্রয়োজন হয়। বাকি জমি তার স্বামী মরহুম কুদরতুল্লাহ কবিরাজ নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন লোকের নিকট অনুদান এবং কিছু জমি ক্রয় করে এই স্কুলের নামে দেন। এরপর সেখানে এই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি আরো উল্লেখ করেন, তার শাশুড়ীর দেয়া পনের শতক জমিতে কোন স্কুলঘর নাই। এমনকি এই জমি কোনদিন স্কুলের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। এই জমিতে বিভিন্ন জাতের কিছু ফলের গাছ, পূর্ব দিকে তাদের বাড়ি এবং পশ্চিম দিকে স্বামী মরহুম কুদরতুল্লাহ কবিরাজের কবর রয়েছে। স্বামী প্রধান শিক্ষক থাকাকলীন প্রায় বিশ বছর পূর্বে তিনি এই বাড়ি করেন। সে সময়ে তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বাধা দেননি। এছাড়াও তৎকালীন সভাপতি তার স্বামীকে এই পনের শতক জমি ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে হঠাৎ করে মারা যাওয়ায় জমিটি আর ফেরত নেয়া হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, স্কুলের সাথে তাদের আরো পনের শতক জমি রয়েছে। ঐ জমির পরিবর্তে এই জমি স্কুলের নামে দেয়ার জন্য বললেও স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক তা মানছেন না। এই বাড়ি এখন অবৈধ ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মিজান ও বতর্মান স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এমরান সোনার ভাঙ্গার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে তার স্বামী আড়াই বিঘা জমিও বিক্রি করেছিলেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, একজন সহকারী শিক্ষক ১২ বছর চাকরীর মেয়াদ হলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হতে পারেন। কিন্তু সভাপতি এমরান সোনার অবৈধ লেনদেন করে সহকারী শিক্ষক থেকে গোপনে অত্র বিদ্যালয়ের মৌলভী শিক্ষককে সরকারী কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে রাতের অন্ধকারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করে মিজানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন বলে জানান তিনি। সেইসাথে গোপনে রেজুলেশন করেন। বর্তমান প্রধান শিক্ষক তাদের বাড়িতে নানা অত্যাচার ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিষয়টি এলাকার লোকজন জানেন।
রোকেয়া আরো বলেন, তিনি একজন হার্টের রোগি। প্রায় প্রতিদিন এই ধরনের অত্যাচার তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না। যে কোন সময় তার দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আর এর জন্য দায়ী থাকবে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোস্তাাফিজুর রহমান মিজান এবং সভাপতি এমরান সোনার।
নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক হতে পারেন কিনা এবং সাবেক প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে অত্যাচার এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোস্তাাফিজুর রহমান মিজান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা। কাউকে তিনি গালিগালাজ করেননি। আর তাকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিয়েছেন বলে দাবী করেন তিনি। বর্তমান সভাপতি এমরান সোনার এর নিকট নিয়োগ বিষয়ে জানতে চাইলে তার নিকট থেকে কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সেপ্টেম্বর ২০
০৬:৫৮ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]