Daily Sunshine

হিমাগারে হিম আলুর ব্যবসা

Share

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: আলুর দরপতনে হিমাগারে আলু রেখে বিপদে পড়েছেন বাগমারার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এখন কম দামেও বিক্রি হচ্ছে না আলু। প্রতি বস্তায় খরচ বাদে কেনার দামও জুটছে না। আলুর ব্যাপক দর পতন হওয়ায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরাদের আশংকা এ আলু এখন হিমাগারেই রেখে যেতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, চলতি বছর উপজেলায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছিল। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও আলু সংরক্ষন করেছে বেশি। তাছাড়া এসময় বাজারে অন্যান্য সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় আলুর দাম কমে গেছে। তার মতে সরকার এ মূহুর্তে আলু রপ্তানীর ব্যবস্থা করলে কৃষকরা আলুর দাম পেত। এদিকে উপজেলার সালেহা ইমারত কোল্ড স্টোরেজ লিঃ, বশার হিমাগার, এম হোসেন কোল্ড স্টোরেজ এবং নাটোর কোল্ড স্টোরেজ প্রাইভেট লিঃ নামের চারটি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। সবেমাত্র স্টোর থেকে আলু বের করা শুরু করেছে চাষী ও ব্যবসায়ীরা। আলুর বস্তাপ্রতি কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া বাবদ দিতে হচ্ছে ২৫০ টাকা। আলু শটিং করে পুনরায় বস্তা প্যাকেটিং করতে শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। স্টোরে রাখা আলু পালট দিতে লাগে প্রতিবস্তায় টাকা। স্টোরে আলু সংরক্ষণের সময় লেবার চার্জ দিতে হয়। সব কিছু মিলিয়ে বস্তাপ্রতি লোকসান হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা।
বর্তমানে জাত এবং মান ভেদে স্টোরে আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৬ টাকা কেজি। মৌসুমের শুরুতেই যে আলু কিনতে হয়েছে প্রায় ২০ টাকা কেজি। বশার কোল্ড স্টোরেজে ১৩ হাজার বস্তা আলু রেখেছেন গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের পলাশী গ্রামের আছির উদ্দীন। তিনি বলেন ৩০ বছর থেকে স্টোরে আলু সংরক্ষণ করে আসছি। এতো লোকসানের পাল্লায় আগে পড়তে হয়নি। সেই সাথে গতবারে ছিল আলুর অধিক বাজার দর। সেই বাজারের দিকে খেয়াল করে এবারও অনেক আলু স্টোরজাত করেছি। আলুর দাম না থাকায় বিপুল পরিমান লোকসান হবে। একই মন্তব্য করেন আত্রাই উপজেলার শুটকীগাছা গ্রামের আরেক আলু ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি বশার কোল্ড স্টোরেজে ১০ হাজার বস্তা আলু রেখেছি। একদিকে দাম কম আর অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যয়, সব মিলিয়ে লোকসান হবে। সালেহা ইমারত কোল্ড স্টোরেজ লিঃ এর ব্যবস্থাপক সাজ্জাদুর রহমান জুয়েল সহ কয়েকটি স্টোরের ম্যানেজার ও স্টোর সংশ্লিষ্টরা বলেন, এ বছর আলুর দাম কম হওয়ার মূল কারণ করোনা মহামারি। বিশেষ করে করোনায় সবকিছু বন্ধ। তাই আলু বিক্রি কমে গেছে। দেশে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করলে আলুর দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
তার মতে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লোকসানের হাত থেকে কৃষক কিছুটা রক্ষা পাবে। সেই সাথে সরকারি অন্যান্য প্রণোদনার সাথে যদি আলু দেয়া হয় তবে আলুচাষী ও ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

সেপ্টেম্বর ১৮
০৭:০৫ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]