Daily Sunshine

রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে ঢুকছেই মাদক

Share

রাজু আহমেদ : রাজশাহী জেলায় আগস্ট মাসে বিভিন্ন বাহিনীর অভিযানে প্রায় পৌনে ৭ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ আসামী আটকে এগিয়ে রয়েছে র‌্যাব-৫, আর উদ্ধার অভিযানে অন্যান্য বাহিনীর চাইতে তুলনামূলক হারে পিছিয়ে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাজশাহী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কমিটির মাসিক সভা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে ফেন্সিডিলের সংখ্যা কমলেও ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
র‌্যাব-৫, নগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলা ও বিজিবির দেয়া তথ্য মতে, ২ হাজার ৯৪৬টি পৃথক অভিযানে আগস্ট মাসে হেরোইন উদ্ধার করা হয় সাড়ে ৬ কেজি, ইয়াবা উদ্ধার করা হয় ৪১ হাজার ৩৮৬ পিচ, গাঁজা উদ্ধার হয় ১৭৫ কেজি, ফেন্সিডিল ১ হাজার ২৮৩ বোতল, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ৩০৩ পিচ, প্যাথেডিন ও জি মরফিন ইনজেশন ২০ পিচ। এছাড়া রয়েছ চোলাই মদ, তাঁড়ি, বিদেশি মদ ও বিয়ারের জাতীয় মাদকদ্রব্য। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্যগুলোর সম্ভাব্য মূল্য ৬ কোটি ৭০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
আগস্ট মাসে পৃথক ২৫ টি অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৫ উদ্ধার করেছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা সমসূল্যের মাদকদ্রব্য। উদ্ধার করা উল্লেখযোগ্য মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে, হেরোইন ৩ কেজি ৬০০ গ্রাম, ইয়াবা ৩৩ হাজার ৯২৬ পিচ, গাঁজা ১১২ কেজি, ফেন্সিডিল ৯৫ কেজি এবং টেপেন্টাডল ১৮২ কেজি। এদিকে জুলাই মাসে বাহিনীটি ২৬টি অভিযান চালিয়ে ২ কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা সমমূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। র‌্যাব-৫ রাজশাহীতে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ধারাবাহিক ভাবে প্রথম স্থান দখল করে রেখেছে।
বিজিবি সীমাস্ত এলাকায় ১ হাজার ৯৮৪টি অভিযান চালিয়ে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকার মাদকদ্যব্য উদ্ধার করেছে। যারা মধ্যে রয়েছে, হেরোইন ১০০ গ্রাম, ফেন্সিডিল ১ হাজার ৩৬ বোতল, গাঁজা ৬ কেজি, ইয়াবা ৩ হাজার ৫০১ পিচ, বিদেশি মদ ৪১ বোতল। এদিকে জুলাই মাসে ১ হাজার ৬৪৭ টি অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা সমমূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে বিজিবি। জুলাইয়ের চাইতে আগস্টে উদ্ধার বাড়লেও অন্যান্য বাহিনীর চাইতে আগস্ট মাসেও পিছিয়ে রয়েছে বিজিবি।
রাজশাহী মগানগর পুলিশ (আরএমপি) আগস্টে ৫৮৩টি অভিযান চালিয়ে ২ কোটি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা সমমূল্যের মাদকদ্যব্য উদ্ধার করেছে। যার মধ্যে রয়েছে হেরোইন ২ কোজি ১১৫ গ্রাম, ইয়াবা ১ হাজার ৩৬৬ পিচ, গাঁজা ১২ কেজি ৩০০ গ্রাম, ট্যাপেন্টাডল ১২১ পিচ, জি মরফিন ও প্যাথেডিন ইনজেকশন ২০ পিচ সহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। আরএমপি জুলাই মাসে ৪২৬ টি অভিযান চালিয়ে ৮৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সমমূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। এই হিসেবে আরএমপি’র আগস্ট মাসে উদ্ধার অভিযান অয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট মাসের উদ্ধার অভিযানে আরএমপি রয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ে।
জেলা পুলিশ ২৮৭টি অভিযান চালিয়ে ৩১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা সমমূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। যার মধ্যে হেরোইন ৩৪১ গ্রাম, ফেন্সিডিল ৬৭ বোতল, গাঁজা সাড়ে ৪৪ কেজি, ইয়াবা ১ হাজার ৯০৬ পিচ। এছাড়া রয়েছে, তাঁড়ি, চোলাইমদসহ এ্যলকোহলের মতো মাদকদ্রব্য। এদিকে জুলাই মাসে জেলা পুলিশ ২৮৯ টি অভিযান চালিয়ে ৮৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা সমমূল্যেল মাদবদ্রব্য উদ্ধার করে। এই হিসেবে জুলাই থেকে আগস্ট মাসে জেলা পুলিশের মাদকদ্রব্য উদ্ধার কমেছে। আগস্ট মাসে উদ্ধার অভিযানে জেলা পুলিশ রয়েছে তৃতীয় পর্যায়ে।
রাজশাহীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আগস্ট মাসে ১৪০ টি অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা সমমূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। যার মধ্যে রয়েছে, ৩৮৬ গ্রাম হেরোইন, ৮৫ বোতল ফেন্সিডিল, ইয়াবা ৬৮৭ পিচ, গাঁজা ১৩০ গ্রাম সহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। জুলাই মাসে ১২২ টি অভিযান চালিয়ে ২৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আগস্টে উদ্ধার বৃদ্ধি পেয়েছে এই অধিদপ্তরের।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম জানান, জেলা পুলিশের অস্ত্র ও মাদক বিরোধী অভিযান পূর্বের যেকোনো সময়ের চাইতে বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এই রুটটিকে ক্যরিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করে মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী চক্র। তবে তারা সফল হচ্ছে না। জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযানে ধরা পড়ছে মাদকপাচারকারীরা।
র‌্যাব-৫ এর কম্পানি কমাণ্ডার (সিও) লে.ক. জিয়াউর রহমান তালুকদার জানান, র‌্যাব-৫ রাজশাহী অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে র‌্যাব-৫ দুর্দান্ত কাজ করে চলেছে। দেশে ১৫টি ইউনিটে ভাগ হয়ে কাজ করে র‌্যাব। যার মধ্যে রাজশাহীর র‌্যাব-৫ ইউনিট অস্ত্র, মাদক সহ সন্ত্রাস দমনে সবসময় প্রথম নয়তো দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকছে।
জিয়াউর রহমান আরও জানান, ধরা পড়ার পর ক্যরিয়ারদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমিকভাবে জানা গেছে সীমান্ত পার করে এসব মাদকদ্রব্য রাজশাহী রুট দিয়ে বাইরের জেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, কিছু স্থানীয়দের কাছেও বিক্রি করা হয়। ঢাকা গাজিপুর, নারায়নগঞ্জের দিকেই বেশি টার্গেট থাকে। ওই দিকে তারা মূল্য বেশি পায়। মাদক ও অস্ত্র চোরাকারবারিদের তালিকা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
রাজশাহী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রাহমান সংশ্লিষ্ট ৫টি বাহিনী ও অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কমিটির সমন্বায়ক হিসেবে কাজ করছেন। কমিটির সভা প্রতি মাসে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রতিটি উপজেলার জনপ্রতিনিধি, ইউএনও সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন। রাজশাহীর মাদক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে শুক্রবার রাতে উপপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রাহমানের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সেপ্টেম্বর ১৮
০৭:০৫ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]