Daily Sunshine

চারঘাটে পৈত্রিক সম্পত্তিতে রাস্তা নির্মাণ চেষ্টার অভিযোগ

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর চারঘাটে সরকারী একটি রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে নকশাভূক্ত ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের বামুনদিঘী বাজার থেকে ফকিরের মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করণ কাজের অনুমোদন হয় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সে অনুযায়ী কাজও শুরু হয়। তবে ফরিকের মোড় এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের সেখানে পৈত্রিক সাড়ে ১৩ শতক নকশাভুক্ত জমি রয়েছে। যার দাগ নম্বর ২৬২।
তবে সরকারী ওই রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে পৈত্রিক এ জমি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে সেখানে নিষেধাঙ্গা জারি করা হয়েছে। এর পরেও স্থানীয় প্রশাসক জমি অধিগ্রহন কিংবা মালিকপক্ষের সঙ্গে কোনো সুরহা না করেই জোর করে রাস্তা নির্মাণ শুরু হয়েছে। এতে জমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
জমির মালিক ভূক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফকিরের মেড়ের ওপর সরকারি রাস্তা ঘেষে তাদের জমি রয়েছে। তবে রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে সোজা না করে বাকা করে জোর করে আমাদের জমি দখল ও রাস্তার নামে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার আগে তাদের জমি দখল বন্ধ রাখা হোক। তিনি নিজেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আদালত যে রায় দেবেন তা তারা মেনে নিবেন। তবে পৈত্রিক সম্পতি অধিগ্রহণ ছাড়ায় দখল করা হলে তা হবে অমানবিক।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বামুনদিঘী বাজার থেকে ফকিরের মোড় পর্যন্ত ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করণ কাজের অনুমোদন হয় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। রাস্তার কাজ শেষ করার মেয়াদ ছিলো গত বছরের ৮ ই ডিসেম্বর। কাজের মেয়াদ ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি জমির জটিলতায়।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও জমির মালিক সিরাজুল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়তি রানী কৈরী ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে সার্ভেয়ার দ্বারা রাস্তার জমি মেপে সীমানা চিহ্নিত করে দেন। কিন্তু জমির মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সিমানা নির্ধারণ করা হলেও জমির মালিককে ডাকা হয় নি। তিনি বলেন, তাদের জায়গায় একটি দোকান ঘর রয়েছে। এখন তাদের উচ্ছেদের জন্য বারবার বলা হচ্ছে। তার দাবি রাস্তাটি সোজা করতে হলে কিছু অবৈধ দকলদারের দোকানপাট রয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ না করে পৈত্রিক সম্পতিতে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চলছে। চারঘাট উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, রাস্তার কাজটি বাস্তবায়নে চরম বেকায়দায় পড়েছি।
জমির মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত জমির ওপর দিয়ে জোর করে সরকারী রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করায় উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু তার পরেও স্থানীয় প্রশাসন কোন কাজ না করায় আমি আদালতের দারস্থ হয়েছি। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে আমি সেটি মাথা পেতে নেব।
চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়তি রানী কৈরী বলেন, আমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়গাটা পরিদর্শন করে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমাধান করে সরকারের উন্নয়ন কাজ চলমান করা হবে বলে জানান তিনি।

সেপ্টেম্বর ১১
০৫:৪০ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]