Daily Sunshine

‘দুই সিদ্ধান্তে কমতে পারে চিনি ও তেলের দাম’

Share

সানশাইন ডেস্ক: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সবচেয়ে লাগামহীন তেল আর চিনি। গেল সপ্তাহেই খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশে ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আর খোলা চিনির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কেজি প্রতি ৭৪ টাকা করে। গত মাসে চিনির দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে, যা গেল বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। নিত্যপণ্য দুটির দর কীভাবে কমানো যেতে পারে সে বিষয়ে সঙ্গে আলাপ হয় রাজধানীতে নিত্যপণ্যের সর্ববৃহৎ পাইকারী বাজার ‘মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ গোলাম মাওলার সঙ্গে।
ভোজ্যতেলে চিনির দাম বৃদ্ধির পেছনে ভ্যাট-ট্যাক্সও অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ভোজ্যতেল বিশেষ করে সয়াবিন, পাম তেল এবং চিনির দাম কমানোর ক্ষেত্রে সরকারকে যে কোনও একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেটি হলো- ভোজ্যতেল ও চিনির দামের ক্ষেত্রে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে, নতুবা ভ্যাট-ট্যাক্স বাতিল করতে হবে। এই মুহূর্তে এই দুটি পণ্যের দাম কমানোর ক্ষেত্রে বিকল্প কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।
তিনি বলছেন, প্রতি লিটার সয়াবিন ও পাম তেলের ভ্যাট ট্যাক্সের পরিমাণ ৩০ টাকার কম-বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি ও সয়াবিন উভয় পণ্যেরই দাম বাড়ছে। এর উপর রয়েছে জাহাজ সংকট। ফলে ভাড়া বেড়েছে। এর সঙ্গে যদি প্রতি লিটারে ৩০ টাকা হারে ভ্যাট ট্যাক্স সরকারকে দিতে হয়, তাহলে দাম কীভাবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে?
গোলাম মাওলা বলেন, সরকার যদি চিনি ও সয়াবিন তেলের উপর থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার করে তাহলে তো ভালো, যদি না করে- তাহলে উৎপাদন পর্যায়ে লিটারপ্রতি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা ভর্তুকী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা নাহলে তেল চিনির দাম কমানোর আর কোনও পথ খোলা আছে বলে আমি মনে করি না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে ও দাম বাড়বে- যা খুবই স্বাভাবিক।
তবে শুধু তেল বা চিনি নয়, যে কোনও নিত্যপণ্যের আমদানি, সরবরাহ, মজুত এবং আন্তর্জাতিক বাজার দর সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়ার কোনও উপায় নাই বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘এটি খুব প্রয়োজন।’ এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এসব প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সরবরাহ, দাম ও মজুত ঠিক রাখতে পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাই আগাম তথ্য না পেলে সেই পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। দেশে নিত্যপণ্য নিয়ে সরকারের ব্যবহার করা পরিসংখ্যান সঠিক নয় বলেও অভিযোগ গোলাম মাওলার। তিনি বলেন, তেল-চিনি ব্যবহারের পরিসংখ্যানে বড় ধরনের ঘাপলা রয়েছে। বর্তমানে আমরা যে পরিসংখ্যান ব্যবহার করি তা অনেক বছর আগের পুরানো। জনসাধারণ বাড়লেও পরিসংখ্যানে কোনও পরিবর্তন নাই। এটি কি করে সম্ভব!
সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা জানিয়েছেন, চাল ডাল, তেল চিনিসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মজুত, দাম ঠিক রাখতে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। সমন্বয়হীনতা নিত্যপণ্যের বাজারকে অস্থির করার জন্য দায়ী। তিনি তেল চিনি, আটা ময়দা উৎপাদনকারী কয়েকটি কোম্পানির নাম উল্লেখ করে বলেন, এসব কোম্পানির মনোপলি সরকারের নজরে রাখতে হবে। কারণ, নিত্যপণ্যের বাজারে এই কোম্পানিগুলো বড় ফ্যাক্টর। এই চার-পাঁচটি কোম্পানি যদি আজ বলে- কাল থেকে চিনি, তেল, আটা, ময়দা তাদের নির্ধারিত দরে বিক্রি হবে, সেটিই কার্যকর হবে। এ থেকে বেড়িয়ে আসার কোনও সুযোগ নাই। বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাজারে সয়াবিন তেল ও চিনির দাম অম্বাভাবিকহারে বেড়েছে। চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম সাধারন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কেজি খোলা চিনি ৭৪ টাকা এবং প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন ১২৯ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একইভাবে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি ৭৫ টাকা এবং প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৫৩ টাকা। একই সঙ্গে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হরতে হবে ৭২৮ টাকা দরে।

সেপ্টেম্বর ১১
০৫:৩৩ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]