Daily Sunshine

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে চান রাসেল

Share

‘ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ৯নং ওয়ার্ডবাসীর সেবায় থাকবে দুই জন ডাক্তার’

রাজু আহমেদ: রাজশাহী মহানগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডে বসবাসকারীদের অধিকাংশই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত্ব, শিক্ষিত শ্রেণীর হার প্রায় ৫০ শতাংশ। পদ্মানদী তীরবর্তী এই ওয়ার্ডে প্রধান সমস্যাগুলোর অন্যতম দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি এলাকাবাসীর। অলিগলির রাস্তা নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

জুলাই মাসে ওয়ার্ডটির কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউন নবী দুদু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। কাউন্সিলরের অসুস্থতার কারণে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে এই ৯ নম্বর ওয়ার্ড উন্নয়নের দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে।

নির্বাচন কমিশন এই ওয়ার্ডে উপনির্বাচন ঘোষণা করেছেন। ৮ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় ৪ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ওই দিন মো. রাসেল জামান, রাকিব হোসেন, শামীমুর রহমান এবং রাশেদুল হাসান টুলু প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রাথীদের যাচাই-বাছাই শেষে ৭ অক্টোবর উপনির্বাচনের দিন ধার্য্য করা হয়েছে।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী মো. রাসেল জামান বলেন, এলাকাবাসীর চাওয়ায় আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। এলাকায় দলমত, তরুণ-বৃদ্ধ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই এই নির্বাচন ঘিরে আশা নিয়ে বসে রয়েছে, এবার এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লাগবে। এলাকার সন্তান হিসেবে রাজশাহীর যোগ্য নেতা ও রাসিকের সম্মনিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মহোদয়ের হাত ধরে আমি এলাকাবাসীর সেই আশার জায়গাটা পুরণ করতে চাই।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা হলে রাসেল সম্পর্কে তারা জানান, সাবেক কাউন্সিলর দুদু জীবিত থাকাকালীন গত দুই বছরে করোনাকালীন সময়ে নিজ উদ্যোগে তিনি স্থানীয় ৩ হাজার ৫০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। একই সাথে স্থানীয় ২৪৫ জন অসহায়ের সুচিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সময়ে অর্থ সহায়তা দিয়ে তাদের শারীরিক নানা অপারেশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ও তার পরিবার আগাগোড়াই স্থানীয় দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকেন। এলাকাবাসীর সুখে-দু:খে তিনি সবসময় তাদের পাশে থাকেন। এটা তার নির্বাচনী প্রচারণা নয়, বহু বছর থেকেই তিনি এলাকাবাসীর জন্য এভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সূত্র মতে, রাসেন ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ থেকে তার রাজনৈতিক জীবনের হাতে খড়ি। তিনি বোয়ালিয়া থানা পশ্চিম আওয়ামী লীগের একজন সুপরিচিত নেতা। এছাড়া তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং তিনি ক্রীয় সংস্থার সাথেও ওতপ্রত ভাবে জড়িত।
৩৫ উর্ধ্ব রাসেল বেশভুষা ও মনের দিক থেকে একদম তরুণ। তিনি জানান, শহরের কর্মব্যস্ততায় এলকাগুলো থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীয় প্রতিযোগীতা অনেকটাই উঠে গেছে। সেখানে তরুণ ও যুবকদের মাঝে নেশার প্রবণতা ঢুকেছে। পাড়া-মহল্লায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা প্রতিযোগীতাই পারে যুবসমাজকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনতে। দর্গাপাড়া ও পাঠানপাড়ার একাধিক যুবকের সাথে কথা হলে তারা জানায়, রাসেল এলাকায় নানা ধরণের ক্রীড়া প্রতিযোগীতার আয়োজন করে থাকেন। একারণে স্থানীয় যুব সমজের কাছে তিনি ‘রাসেল ভাই’ হিসেবে পরিচিত। তিনি এলাকায় খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকেন।

নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি এলাকার ইতিবাচক পরিবর্তনে কী করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মো. রাসেল জামান জানান, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। এলাকার সন্তান হিসেবে তিনি ওয়ার্ডের বেশকিছু সমস্যা নির্নয় করেছেন। এলকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ৯নং ওয়ার্ডে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ও একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিয়মিত বসার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। এলাকার মধ্যবিত্ত্ব শ্রেণীর মানুষ যা থেকে সুফল পাবে। এছাড়া বহুদনি থেকে এলাকাবসাীর দাবি, এলকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করা এবং অলিগলির রাস্তা সংস্কার করা। নির্বাচিত হলে প্রথমেই এই কাজগুলো করতে চান রাসেল।

তরুণ প্রজন্মের এই নেতা রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের প্রশংসা করে বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কোন বিকল্প নাই। দীর্ঘ দিন রাজশাহী শহর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান মেয়রের যোগ্য নেতৃত্বে রাজশাহীতে আবারো উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। মেয়রের একজন অনুসারী ও ভক্ত হিসেবে তার নেতৃত্বে রাসেল ৯নম্বর ওয়ার্ডবাসীর জন্য কাছে থেকে কাজ করতে চান।

সেপ্টেম্বর ১০
০৬:১১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]