Daily Sunshine

‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে নারীদের ভূমিকা অনস্বিকার্য’

Share

পবায় আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘প্রোমোটিং কমিউনিটি ড্রাইভেন আরলি ওয়ারনিং সিস্টেম টু রিডিউস রিলিজিয়াস ফ্রিডম ভায়োলেশন ইন বাংলাদেশ’ নামক প্রজেক্টের আওতায় পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের জনগোষ্ঠির সাথে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি আয়োজিত অনুষ্ঠিত সংলাপটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তি নির্মাণ এবং সহনশীলতায় নারীদের ভূমিকা’।

সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। আলোচনায় এলাকার আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির বর্তমান অবস্থা এবং আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়।

আলোচনায় জানা যায়, পারিলা ইউনিয়নের আন্তধর্মীয় সম্প্রতি বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। আলোচকরা মতামত প্রকাশ করেন যে, ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে এবং নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে এগিয়ে আসতে হবে। অগ্রিম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের উদ্যোগ একটি অতি প্রশংসনীয় এবং কার্যকর ব্যবস্থা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীগন এ বিষয়ে তাদের বেশ কিছু করণীয় সম্পর্কে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। যার মধ্যে রয়েছে সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান প্রদান, প্রতিটি ধর্মকে সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা প্রদান, সহনশীলতা বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করা ইত্যাদি। এছাড়াও নারীরা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহন ও সামাজের অন্যান্য নারীদের মধ্যে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব ও মাহাত্ম্যের বিষয়টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচার করার মধ্য দিয়ে সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এগিয়ে আসতে পারে। এছাড়া আলোচকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় গুজব ছড়িয়ে না দেয়া ও ধর্মীয় উস্কানি তৈরি না করার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন এবং এক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী নারীদের ভূমিকার কথা আলোচিত হয়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষাকল্পে দি এশিয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি সমূহকে সকলে সাধুবাদ জানান। সর্বোপরি সমাজের সকলের মনস্তাত্ত্বিক ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে ধর্মীয় বৈষম্য ও আন্তধর্মীয় কোন্দল নিরসনের দ্বারা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে আলোচকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংলাপটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন লিড পিসকিপার সারমিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার ঘোষ, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অলক কুমার দাস, এডভোকেট সামিনা বেগম, বাঁচার আশা সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার বিজলি, পবা উপজেলার সাবেক মহিলা ইউপি মেম্বার খায়রুন নেসা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর প্রতিনিধি ডক্টর এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, জয়িতা পুরস্কারপ্রাপ্ত পলি ও রাজশাহী মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নুসরাত জাহান বাবলী। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলাম ও সনাতন ধর্মের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দদের স্ত্রী, শিক্ষকমন্ডলী ও যুবপ্রতিনিধি।

সভায় দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার মো. জিলহাজ আজম, সিনিয়ার প্রজেক্ট অফিসার মাহমুদা সুলতানা স্নিগ্ধা, প্রজেক্ট অফিসার মো. মোশাররফ হোসেন, প্রজেক্ট অফিসার মিতা সরকার প্রজেক্ট অফিসার এবং ফিল্ড এ্যাসিস্টেন্ট বাবলী থাতুন।

সেপ্টেম্বর ০৮
১০:০০ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]