Daily Sunshine

টিসিবি পণ্যে উচ্ছৃঙ্খল নারীদের হানা: অব্যবস্থাপনায় সুফল থেকে বঞ্চিত অসহায় পরিবার

Share

স্টাফ রিপোর্টার: নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় টিসিবি পণ্যের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে মধ্যবিত্তের মাঝে। তেল, চিনি ও ডাল টিসিবির নির্ধারিত মূল্যের চাইতে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা বেশি দরে। তবে স্থানীয় এক শ্রেণির উচ্ছৃঙ্খল নারী সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের নেয্যমূল্যে ভোগ্যপণ্য বিক্রয়ের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে।
টিসিবির ট্রাকের লাইনে ঘুরে ফিরে বারংবার দাঁড়ানো সহ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি-গালিগালাজ এসব উচ্ছৃঙ্খল নারীদের নিত্য দিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এসব দেখে প্রয়োজন থাকার পরও এমন পরিবেশে লোকলজ্জা ও ভয়ে অনেক মধ্যবিত্ত দাঁড়াচ্ছে না। আবারা প্রশাসনকেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
টিসিবির রাজশাহীর আঞ্চলিক কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট টিসিবির ডিলারের সংখ্যা ১৮৩ জন। যারা নির্দিষ্ট এলাকায় ট্রাক যোগে নেয্যমূল্যে বর্তমানে টিসিবির তিনটি পণ্য বিক্রি করছেন। টিসিবির বিক্রয় পণ্যগুলোর মধ্যে মসুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি, চিনি ৫৫ ও বোতলজাত ভোজ্য তেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা লিটারে। খোলা বাজারে একই মসুরের ডাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, চিনি ৭৬ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। পণ্য ভেদে ৪৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে।
সরেজমিনে রাজশাহী নগরীর ভদ্র, সহেববাজার, গোহাঙ্গা, লক্ষ্মিপুর, আমচত্ত্বরসহ টিসিবির ডিলারদের বিক্রয় পয়েন্টগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১০টার পর শুরু হয় পণ্য বিক্রি। চাহিদা বেশি থাকায় বেলা ২টার মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। এসব বিক্রয় পয়েন্টে নারী ও পুরুষদের পৃথক লাইন থাকে। তবে পুরুষদের চাইতে নারীদের লাইনে অনেক দীর্ঘ। এসব লাইনে স্থানীয় বস্তি এলাকর নারীরা ভিড় জমায়। বিক্রয় পয়েন্টে ট্রাক আসার বহু আগেই ইট বা বাজারের ব্যাগ দিয়ে লাইন তৈরি করে লাখা হয়।
একাধিক বিক্রয় পয়েন্টের ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, এই লাইনে যেসব নারীরা দাঁড়ান তারা একবার পণ্য নিয়ে আশপাশে কোথাও তা রেখে এসে আবারো লাইনে দাঁড়ান। এসময় তাদের কিছু বলা হলে তারা মারমুখি আচরণ করে। এমনকি মারামারি ও গালাগারি দিয়ে লাইননের সিরিয়াল ভঙ্গ করে সামনের দিকে চলে যায়। নারী হওয়ায় তাদের কিছু বলা যায় না। পাশে নারী পুলিশ সদস্যরা থাকলেও তাদের কিছু বলে না।
সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট বড় মসজিদের কাছে টিসিবির ডিলারের ট্রাকের কাছে এক নারী ক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার বাড়ি নগরীর বঞ্চবটি শষাণের কাছে। তিনি একদিনে ৪ থেকে ৫ বার টিসিবির পণ্য নেয়। তার কারণ হিসেবে তিনি জানান, তার স্বামী নেশা করে। তাকে সংসার চালাতে খরচ দেয় না। এভাবে টিসিবির পণ্য কিনে তিনি তা বাজারে বা স্থানীয় কারো কাছে অধিক মূল্যে বিক্রি করেন এবং সেই টাকায় সংসার চালান।
এদিকে এমন পরিস্থিতে খোদ টিসিবির কর্মকর্তারা সহ ডিলাররাও বিরক্ত। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য টিসিবির একাধিক ডিলার জানিয়েছেন, প্রতিটি ডিলারকে ট্যাবের মাধ্যমে সফটঅয়ারে পণ্য ক্রয়ের বিপরীতে ভোটার আইডি কার্ড নম্বর এনট্রি করার ব্যবস্থা করা হলে বারংবার পণ্য ক্রয়কারীকে চিহ্নিত করা যাবে। এভাবে তাদেরকে রোধ করা সম্ভব।
টিসিবির রাজশাহী অফিসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রবিউল মোরশেদ বলেন, আমরা বিষয়টাকে সিরিয়সলি নিয়েছি। কাস্টোমাররা বিরক্ত, প্রশাসন বিরক্ত, আমরা বিরক্ত। ওরা গ্রুপ করে দাঁড়ায়। একজন চলে গেলে আরেজন এসে দাঁড়ায়। কাজেই তাদের লাইনই শেষ হয় না। এই বিষয় নিয়ে টিসিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ডিসি স্যারের সাথে কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন অফিসের কাছ থেকে কালি নেয়ার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। যা পণ্য ক্রয়ের পর ক্রেতাদের হাতে লাগিয়ে দেয়া হবে। ডিলারদের ট্যাবে সফটঅয়ার দেয়া পরিকল্পনা বিষয়ে টিসিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আমি কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দেখবো।

সেপ্টেম্বর ০৮
০৬:৩৫ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]