Daily Sunshine

স্লুইসগেটের অব্যবস্থাপনায় ভাসছে পাবদামারীর বিল

Share

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শত শত বিঘা জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও পাবদামারী স্লুইসগেট দিয়ে পূনর্ভবা নদীর পানি প্রবেশ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে উপজেলার আলীনগর ও বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের চড়ুইল বিল এলাকার প্রায় ২৭০ একর জমির ধান এখন নষ্ট হওয়ার পথে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ কমিটি ও বিল ইজারাদারদের যোগসাজশে পাবদামারী স্লুইচগেটের দুর্বল কপাট দিয়ে পূনর্ভবা নদী থেকে চূড়ইল বিলের মধ্যে পানি ঢুকে শতশত বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ওই এলাকার জমির মালিক আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন, চূড়ইল বিল ইজারাদার ও বাঁধ কমিটি এক হয়ে রাতের আঁধারে স্লুইচ গেটের ৪ টি দরজা খুলে দিয়ে তার ৯ বিঘা জমির ধান পানিতে প্লাবিত করেছে।
তিনি আরও জানান, ওই জমির পাকা ধান আর কয়েকটি দিন পরই কাটতে পারতাম। কিন্তু তাদের কারণে সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া কৃষকরা নিজের নিমজ্জিত জমিতে কেউ মাছ শিকার করলে বিল ইজারা নেয়া লোকজন বাধা দিচ্ছে।
অপর কৃষক তোফিজুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি কৃষকদের জন্য সরকার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি সংস্কার করেছে। কিন্তু বাঁধ কমিটি বিল ইজারাদার কে সহায়তা করতে স্লুইচ গেট খুলে দিয়ে আমাদের জমির সব ধান পানিতে প্লাবিত করেছে। তাই আমরা বিল ইজারাদার ও বাঁধ কমিটির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।
স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রাশেদা খাতুন বলেন, বর্ষা মৌসুমে আলীনগর ও বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের চড়ুইল বিলে প্রতিবছর বাঁধ কমিটির সহায়তায় বিল ইজারাদার মাছ চাষের জন্য স্লুইচগেট খুলে দিয়ে পানি প্রবেশ করিয়ে শত শত বিঘা জমির ধান নষ্ট করে দিচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ প্রসংগে বিল ইজারাদারের প্রতিনিধি আবীর আলী জানান, ওই বিলের স্লুইচগেটের ভার্টিক্যাল গেট খোলার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই । আর বিলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বর্ষার কারণে।
অপরদিকে, চড়ুইল বিল বাঁধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূর নবী জানান, আমরা গুরুত্বের সাথে স্লুইচগেটটি দেখাশোনা করে থাকি। যাতে কোন ভাবে আবাদী জমিতে পানি প্রবেশ করতে না পারে। কৃষকরা যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়।

সেপ্টেম্বর ০৭
০৬:১৮ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]