Daily Sunshine

বাঘায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় বিদ্যুতের লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হওয়ার পূর্বে কোটি-কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মান করা হয় পৃথক দুটি সাবস্টেশন। একটি বাঘা, অপরটি আড়ানী। উদ্দেশ্য বৈদ্যতিক সুবিধা পাবে অত্র এলাকার জনগণ। কিন্ত বাস্তব অর্থে সেটি হচ্ছে না । এখানে প্রতিনিয়ত চলছে লোড শেডিং। ফলে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনগণ।
লোকজন বলেছেন, এ উপজেলায় কোন কল-কারখানা নেই। তার পরেও দিনে-রাতে কম করে হলেও ৮-১০ বার বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকার জনসাধারণ । অথচ বিদ্যুৎ বিলের (অর্থ) টাকার পরিমান দিন-দিন বেড়েই চলেছে। এ দিক থেকে এমন ও লক্ষ করা গেছে, একজন গ্রাহক কোন করনে পর-পর তিন মাস বিল পরিষোধ করতে ব্যর্থ হলে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। অত:পর পুনরায় সংযোগ চালু করার জন্য তাকে গুনতে হয়েছে ফের নগদ অর্থ।
ভুক্তভোগীরা জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে কোনো বড় ধরনের ঝড়ো-হাওয়া না হলেও কারণে-অকারণে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধিন বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস এরিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। কখনো কখনো তাঁরা মাইকিং করে জানান দিচ্ছেন, আগামি কাল দুপুর ১২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না। এরপর সন্ধ্যা কিংবা রাতে ফের লোড সেডিং দেয়া হচ্ছে। আর এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ এ ফোন করে বিদ্যুৎ না থাকার কারন জানতে চাইলে তারা বলছেন, কাটাখালি গ্রীডে সমস্যা জনিত কারনে বিদ্যুৎ নেই। অথচ পাশ্ববর্তী উপজেলা লালপুর এবং পুঠিয়ায় ফোন করলে জানা যাচ্ছে তাদের উপজেলায় বিদ্যুৎ আছে।
বাঘার কাপড় ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, করোনা মহামারির কারনে দীর্ঘদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো ।তথাপি ১৬ জন কর্মচারীকে বেতন দিতে হয়েছে। সম্প্রতি সরকার দোকান খোলার অনুমতি দিলেও প্রতিনিয়ত যে ভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে তাতে করে দোকান পরিচালনা করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তিনি এ বিষয়ে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
অপর একজন ব্যবসায়ী চা বিক্রেতা বাদশা আলম ও লোন্ডি ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসেন বলেন, বর্তমানে ঘন-ঘন লোডশেডিং হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আয় রুজী করা একে বারে অসম্ভভ পর্যায় চলে এসছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন মোবাইল ও ফ্যাক্সি ব্যবসায়ী সহ কম্পিউটার অপারেটর এবং ফটো ম্যাশিন চালক জানান, লকডাউনের মধ্যে গ্রাহকরা মোবাইলে নগদ, বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান করছেন। ঘরে বসেই তা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বর্তমানে মোবাইলে চার্জ দেয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অপর দিকে যারা ফটোকপি এবং কম্পিউটারে চাকরির আবেদন সহ নানা বিষয়ে লেখা-লেখি করেন তাদেরও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার আমোদপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে বিলে পানি থাকায় গভীর নলকূপ (পাম্প) গুলো প্রায় বন্ধ থাকছে । তার পরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একেবারে বন্ধ নেই। এটি আমাদের কাম্য নয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখাতেও মারাত্নক ব্যঘাত ঘটছে।
এ নিয়ে তিনিসহ এলাকার সচেতন মহল ও সুধী জনরা বিদ্যুৎ কন্ট্রোলকারীদেরকে দায়ী করে বলছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি করে সরকারের বিরুদ্ধে জন অসন্তোষ গড়ে তুলতে এমন উদ্দেশ্য মূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সহ সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
সার্বিক বিষয়ে বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম সুবির কুমার দত্ত লোড়সেডিং এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাঘায় ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এখানে প্রতিদিন ১৪ মেগোয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু আমরা অধিকাংশ সময় ২-৩ মেগোয়াট কম পায়। এ সমস্যাটা জাতীয় গ্রীড থেকে হয়ে থাকে। এ ছাড়াও মাঝে মধ্যে কাটাখালি গ্রীডে সমস্য জননিত করনেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়ে থাকে।

সেপ্টেম্বর ০৭
০৫:৫৪ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]