Daily Sunshine

নিশ্চুপ প্রশাসন, ব্যবস্থা নেবে কে?

Share

রাজু আহমেদ : রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শিরোইল স্টেশন রোড। এই সড়কের এক ধারে রেল স্টেশন, অপর প্রান্তে শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল (শিরোইল বাস টার্মিনাল)। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় স্টেশনের প্রবেশ দ্বারের অপর প্রান্তেই রয়েছে ট্রাফিক চেক পোস্ট, রয়েছে পুলিশ বক্স। পাশেই নির্ধারিত বাস টার্মিনাল থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক জুড়ে দিন-রাত অবৈধ পার্কিং করে রাখা হচ্ছে দূর পাল্লার বাস। ফলে প্রশস্থ সড়কটি সংকীণ হয়ে পড়েছে। দখলদারদের দৌরাত্মে সড়কটি বিশৃঙ্খল হয়ে থাকলেও পুলিশ সদস্যদের চোখ শুধুমাত্র সাধারণ পথচারী ও মোটরসাইকেলের দিকে। সার্জেন্ট নয়তো ট্রাফিক কনস্টেবল লাঠি হাতে তাড়া করে ধরছেন মোটরসাইকেল। সড়কে ট্রাফিক বিভাগের ভূমিকা দেখে মনে হয়, সকল সমস্যার মূলে এই মোটরসাইল, চোখের সামনে থাকা এই অবৈধ পার্কিং ও দখলদারদের কোন অপরাধ নাই। অথচ প্রতিনিয়ত এই সড়কটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সরেজমিনে নগরীর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনের পূর্ব দিকের হাসনাহেনা হোটেলের সামনের সড়ক থেকে শুরু করে রেশম কারখানার গেট পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে দিন রাত সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বাস। স্টেশনের প্রধান গেটের বিপরীতে তিন রাস্তর মুখে ওপর দাঁড়িয়ে থাকে ব্যাটারিচালিত রিকশা। কামারুজ্জামান চত্বর ও ভদ্রা মোড়ের কাছেও মিলবে একই চিত্র।
এদিকে শিরোইল বাস টার্মিনালের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কাদা-পনির মধ্যে কিছু বাস রাখা হয়েছে। ভাঙাচোড়া, খানাখন্দে টার্মিনালটির জীর্ণ দশা। সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেছে। অরক্ষিত ও অবকাঠামোর দুর্বলতায় ড্রাইভাররা এখানে বাস রাখতে সাহস পায় না।
সময়ের ব্যবধানে রাজশাহী নগরীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে যানবাহনের সংখ্যা। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রশস্থ করা হলেও অবৈধ পার্কিং ও দখলদারদের কারণে প্রশস্থ সড়কের সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা করে নগরীর উপকণ্ঠ নওদাপাড়া এলাকায় বিশাল জায়গার ওপর স্থাপন করা হয়েছে বাস টার্মিনাল। যানজট কমাতে গেলো বছরের জুন-জুলাই মাসে শিরোইলে অবস্থিত শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে স্থানান্তরের কথা থাকলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টিকে নগরবাসী মনে করছেন, সুযোগ থাকার পরো নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার অভাবেই নগরবাসীকে দুর্ভোগে ও ঝুঁকিতে রেখে টার্মিনালটি সরানো হচ্ছে না।
এদিকে নগরীর নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে ভদ্রা পদ্মা আবাসিক এলাকার পশ্চিমের সড়কটি দীর্ঘনিদ ধরে চলাচলের অনোপযোগী হয়ে থাকলেও সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা এই সড়কের দোহাই দিয়ে নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে বাস স্থানান্তরে অনিহা দেখিয়ে আসছে। অথচ এই টার্মিনালটি চালু করা গেলে প্রধান শহরে বাস প্রবেশের কোন প্রয়োজন পড়বে না। নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল দিয়ে বাস সরাসরি বিশ্বরোড ধরে উত্তর-পূর্ব অঞ্চল ঢাকা, নওগাঁ নয়তো পশ্চিমের অঞ্চল চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচল করতে পারবে।
রাজশাহী বাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটু জানান, করোনা মহামারির কারণে বহুদিন পরিবহণ সেক্টর বন্ধ ছিল। দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসায় সবে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় পরিবহণ সংগঠনগুলোও বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। শিরোইল টার্মিনারের মধ্যে বাস রাখার মতো অবকাঠামো নেই। একাধিকবার সংগঠনের পক্ষ থেকে টার্মনাল সংস্কার করা হয়েছে। কাদাপানিতে কেউ বাস রাখতে চায় না। তাছাড়া নওদাপাড়া-ভদ্রা সড়কটি বহুদিন থেকেই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এই রাস্তাটা সংস্কার দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা প্রয়োজন। সড়কে অবৈধ পার্কিং বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পদক্ষেপ জানতে আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি কমিশনা (ডিসি) অনির্বাণ চাকমা এবং আরএমপির মুখপাত্র রুহুল কুদ্দুসের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে, রাতা দুজনেই ফোন রিসিভ করেননি।

সেপ্টেম্বর ০৬
০৫:০৩ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]