Daily Sunshine

কোহিনুরের অসদাচরণের তদন্ত থমকে আছে

Share

স্টাফ রিপোর্টার : দরপত্র জালিয়াতির অভিযোগে প্রত্যাহার হয়েছিলেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম। প্রায় অর্ধকোটি টাকার দরপত্রে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর ঢাকায় তাকে পানি ভবনে সংযুক্ত করা হয়। এরপর শুরু হয়েছে তার অনিয়মের তদন্ত।
দুই দফা তদন্তে কোহিনুর আলমের অনিয়মের তথ্য উঠে আসলেও গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পাউবোর শৃঙ্খলা দফতরের পরিচালক আবদুল খালেক এক চিঠিতে আগের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় তদন্তের জন্য প্রধান প্রকৌশলী রিভার ম্যানেজমেন্ট দফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। ২৪ ডিসেম্বর তিনি রাজশাহী পাউবোতে এসেছিলেন।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, মাহফুজুর রহমান ভুক্তভোগী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথায় বলেননি। কাউকে ডাকেননি। হাতেগোনা যে কয়জনকে ডাকা হয়েছিল, তাদের সঙ্গেই তিনি দুর্ব্যবহার করেছেন। উল্টো কোহিনুর আলমের বিরুদ্ধে যে ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার টেন্ডারে জালিয়াতির অভিযোগ, সেই কাজের বিলও ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। দুই দফায় ঠিকাদার পেয়েছেন প্রায় ৪২ লাখ টাকা। যদিও চূড়ান্ত প্রাক্কলন ছাড়া বিল পরিশোধেরই নিয়ম নেই।
এরপর এ বছরের ২৩ মে আবারও বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেন মাহফুজুর রহমান। কিন্তু সেই তদন্ত আজও আলোরমুখ দেখেনি।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ঢাকায় বসেই তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত করছেন কোহিনুর আলম। আর তাই তদন্ত কর্মকর্তারা তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। খোদ রাজশাহী পাউবোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই এমন অভিযোগ করেছেন। একই কথা বলছেন ভুক্তভোগীরাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গেল বছর রাজশাহী শহর বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার একটি টেন্ডারের কাজ পান একজন ঠিকাদার। ওই টেন্ডার টেম্পারিং করার অভিযোগ পড়ে পাউবোর মহাপরিচালকের কাছে। এছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোহিনুর আলমের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে সরকারি বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। এরপর দুই দফা তদন্ত হয়েছে। কিন্তু সেসব তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল ঘোষণা করে নতুন আরেক কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রথম তদন্তটি করেন পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেন। এরপর আরেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুল হোসেনকে দিয়ে অভিযোগের তদন্ত করা হয়। সাইফুল ইসলাম অভিযোগকারী আসাদুল্লাহ জাহাঙ্গীর ও নূর-ই আলম সিদ্দিকীর সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন।
রাজশাহী পাউবোর একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, কোহিনুর আলমের অনৈতিক কাজে সহায়তা না করার কারণে তার বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অফিসে এসে তাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে। ওই সময় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন রাজশাহী পাউবোর একজন প্রাক্কলনিক। তিনি বলেছেন, টেন্ডার জালিয়াতিতে সহায়তা করার জন্য কোহিনুর আলম জন্মাষ্টমীর ছুটির দিনে এক নারী কর্মকর্তাকে অফিশিয়াল কাজের কথা বলে অফিসে ডাকেন। এরপর ৮-১০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম তাকে চাপ দেন যেন তিনি আরেকটি দরপত্রের জাল প্রাক্কলনে স্বাক্ষর করেন। ওই কর্মকর্তা সেদিন অফিস ত্যাগ করে ভয়ে পরে অফিসে ছুটির আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা উচ্চমান সহকারী মমতাজ উদ্দিনকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার একটি অডিও ক্লিপও জব্দ করেন। অনৈতিক কাজে সহায়তা না করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে এভাবে গালিগালাজ করেছিলেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোহিনুর আলমের বিরুদ্ধে মোট ১০টি অনিয়মের অভিযোগের কথা তুলে ধরেন।
এর মধ্যে ঊর্ধ্বতন হিসাব সহকারী আনোয়ার হোসেন ও হিসাব করণিক রিপন কুমার লিখিতভাবে তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান যে, নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম তাদের গুলি করে মারারও হুমকি দিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলমের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা এলাকায়। তদবির করে তিনি রাজশাহীতে বদলি হয়ে আসেন। এরপর থেকে তিনি মন্ত্রী-এমপির নাম ভাঙিয়ে একের পর এক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। কোনো কর্মচারী তার বেআইনি ও অবৈধ কাজে সহযোগিতা করতে না চাইলে তাকেই অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতেন। কোনো কর্মচারী প্রতিবাদ করলে তাকে স্থানীয় সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখাতেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, কোহিনুর আলমের কথা অনুযায়ী মাহফুজুর রহমান তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। আর এ কারণেই আগের দুই তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করা হয়েছে। এরপর আবারও তদন্ত করতে বলা হলেও, সেটি করা হয়নি।

সেপ্টেম্বর ০৬
০৪:৫৮ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]