Daily Sunshine

রাজশাহীতে হটাৎ বাড়ল রসগোল্লার দাম

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরের সিঅ্যান্ডবির মোড়ে একটি দোকানে সন্ধ্যাবেলায় মানুষ দল বেঁধে রসগোল্লা খেতে যায়। পথের ধারের ওই দোকানে বিকেল থেকে মিষ্টি তৈরি শুরু হয়। গরম গরম রসগোল্লা রাতেই বিক্রি হয়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী বেলাল হোসেন একজন অতিথিকে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই দোকানে। অভ্যাসবশত ৩টি মিষ্টি খেয়ে ৪৫ টাকা বের করে দেন। দোকানের কর্মচারী আরও ১৫ টাকা দাবি করেন। হাসতে হাসতে বলেন, ‘স্যার, ১ সেপ্টেম্বর থেকে মিষ্টির দাম পাঁচ টাকা করে বেড়ে গেছে।’
বেলাল চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলেন, ‘একটা মিষ্টিতে পাঁচ টাকা!’ কর্মচারী বলেন, ‘হ্যাঁ, ১৫ টাকার মিষ্টি এখন ২০ টাকা।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, রাজশাহী নগরের সব দোকানেই রসগোল্লার দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য মিষ্টির দামও একই হারে বেড়েছে। চিনিসহ মিষ্টি তৈরির অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মিষ্টির দামের ওপর।
রাজশাহী নগরের দোকানগুলোতে দুই ধরনের রসগোল্লা বিক্রি হয়। একটি সাধারণ রসগোল্লা। এটির কেজি ছিল ১৮০ টাকা। এখন এই রসগোল্লা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। স্পঞ্জ মিষ্টি নামের আরেক ধরনের মিষ্টি পাওয়া যায়। রাজশাহী নগরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে এই দরে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি। তারা বলছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা মিষ্টির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
তবে মিষ্টির দাম বাড়ার প্রভাব মিষ্টির বাজারে পড়েনি বলে জানালেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী পল্লব কুমার পাল। তিনি বললেন, শুক্রবার বিকেলেও রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে লাইন ধরে মানুষ মিষ্টি কিনেছে। অবস্থা দেখে বোঝাই যাচ্ছে না যে মিষ্টির দাম বেড়েছে।
রাজশাহী নগরের একটি বড় মিষ্টির দোকান নবরূপ মিষ্টান্ন ভান্ডার। মিষ্টির দর নিয়ে কথা বলতে তাদের কারখানায় গিয়ে পাওয়া যায় স্বত্বাধিকারী নব কুমার ঘোষকে।
তিনি বললেন, মিষ্টি তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ৫০ কেজির ১ বস্তা চিনির দাম কঠোর বিধিনিষেধের আগে ২ হাজার ৬৫০ টাকা ছিল। এখন সেই চিনির দাম ৩ হাজার ৭৫০ টাকা। ৪৫ কেজির ৪টি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম আগে ছিল ১২ হাজার টাকা। এখন সেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১৬ হাজার টাকায়। আটা ও পাম তেলের দামও একইভাবে বেড়েছে। নব কুমার বলেন, মিষ্টির মানটা ঠিক রাখতে চান। এ জন্য দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
নব কুমার বলেন, তাঁদের মন্ডা–মিঠাই সবচেয়ে ভালো মিষ্টি। এটি তাঁরা ৪২০ টাকা কেজি বিক্রি করতেন, এখন এটি তাঁরা ৪৪০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। রসগোল্লা ১৮০ টাকা ছিল, এখন ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। রসকদম ২৪০ টাকা ছিল, এখন ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন।
রাজশাহী সুগার মিলের চিনির দাম অপেক্ষাকৃত কম। এই চিনি কেন ব্যবহার করেন না, জানতে চাইলে নব কুমার ঘোষ বলেন, অপরিষ্কার চিনি। ওই চিনি দিয়ে মিষ্টি তৈরি করা যায় না। বাইরে থেকে আমদানি করা পরিষ্কার চিনিই মিষ্টির জন্য ভালো।
রাজশাহী নগরের মালোপাড়া এলাকার শতবর্ষী মিষ্টির দোকান জোড়াকালী অপেক্ষাকৃত কম দামে মিষ্টি বিক্রি করে থাকে। শুক্রবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারাও মিষ্টির দাম বাড়িয়েছে। তবে তারা রসগোল্লা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করত। এখন তারা কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি করছে।
রাজশাহী নগরের কবি ও ব্যাংকার মোস্তাক রহমান মিষ্টিপ্রিয় মানুষ। শহরের ভালো রসগোল্লার খোঁজ তার কাছে পাওয়া যায়। মিষ্টির দাম বাড়ার খবর তাঁর কাছেও রয়েছে।
তিনি বলেন, সবকিছুর মূলে চিনির দর। এটি সরাসরি মিষ্টির দামের ওপরে প্রভাব ফেলছে। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘এখন আমাদের মিষ্টি খাওয়া কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে। তা ছাড়া আর কিছু তো করার নেই।’

সেপ্টেম্বর ০৫
০৬:০৮ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]