Daily Sunshine

নেত্রী বলেছেন মনে সাহস রাখতে: ফখরুল

Share

সানশাইন ডেস্ক: দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মনোবল না হারিয়ে আন্দোলন চালিয়ে নিতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কয়েকদিন আগেও আমি দেখা করেছি। তিনি একটা কথাই বলেছেন, কখনোই সাহস হারাবে না, কথনও হতাশ হবে না। মনের মধ্যে জোর রাখবে, মনোবল রাখবে, বিজয় তোমাদের হবেই।”
জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার এক আলোচনা সভায় একথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে কারামুক্ত হয়ে আবার বিএনপিকে পথ দেখাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ফখরুল আরও বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব বহু দূরে আছেন, কিন্তু নিরলস পরিশ্রম করছেন, চেষ্টা করছেন দলকে সংগঠিত করতে, আন্দোলনকে সংগঠিত করতে। আমরা বিশ্বাস করি তার এই চেষ্টা সফল হবে।”
‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’র আন্দোলনে সবাইকে এক যোগে নামার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজকের এই সঙ্কট একা বিএনপির সঙ্কট নয়, এই সঙ্কট সমগ্র জাতির। এই কথাটা আমাদের মাথার মধ্যে আনতে হবে। “আওয়ামী লীগ যত দিন থাকবে, এই জাতির অস্তিত্ব আরও বিপন্ন হবে।” তিনি বলেন, “আমরা এখন যে অবস্থাটায় বাস করছি, এটা একটা ছদ্মবেশী বাকশাল। আমাদের সাংবাদিকদের ভাইরা কেউ নিজেরাই লেখেন না, সেলফ সেন্সরশিপ করছেন। কেন?
“যদি একটা শব্দ, একটা বাক্য যদি এদিক-ওদিক হয়, তাহলে আবার তাদেরকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে জেল এবং নন-বেইল, এই একটা অবস্থা।” মানুষের দৃষ্টি ফেরাতে নানা ঘটনার অবতারণা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। “আপনারা দেখছেন আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোও ওই লাইনে চলে গেছে। যেইটা ইস্যু না- কোথাকার কোন পরীমনি, ওমুক মনি- এসব নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়তেছে এবং ওটাকে বড় করে হেডলাইন করে..।”
পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়া নিয়ে হাই কোর্টের অসন্তোষ প্রকাশের সূত্র ধরে তিনি বলেন, “কিন্তু যখন আমাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হয় নিয়ম ব্যতিক্রম করে, যখন রাজনৈতিক নেতাদেরকে অত্যাচার করা হয় রিমান্ডের মধ্য দিয়ে, সেই সম্পর্কে কিন্তু তারা (গণমাধ্যম) কথা বলে না।” আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ‘দেউলিয়া’ হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আওয়ামী লীগ কেন কবর নিয়ে কথা বলছে, আওয়ামী লীগ কেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া নিয়ে কথা বলছে? কারণ ওদের আর কিছু নাই তো। দেউলিয়া হয়ে গেছে রাজনৈতিকভাবে।
“এখন ইস্যু হচ্ছে টিকা। এগুলো থেকে তারা মানুষের দৃষ্টি সরাতে চায়। এগুলো থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে তারা এই সমস্ত ইস্যু তৈরি করছে।” কোভিড টিকা সংগ্রহেও সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে দাবি করেন ফখরুল। “৪ পারসেন্টও জোগাড় করে মানুষকে দিতে পারেননি এখনও। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে জ্যোতিষবিদ্যা মন্ত্রী করা ভালো। কারণ প্রতিদিন বলছেন এই আসছে ১০ লাখ, এই আসছে ৫ লাখ। আগামী ডিসেম্বরে হবে। জ্যোতিষীর মতো কত কথা বলছেন।”
‘জাইমাকে নিয়ে আসুন’ আলোচনা সভায় বক্তব্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুলল্লাহ চৌধুরী বলেন, “আমি আপিল করছি বিএনপির কাছে, তারা জাইমা রহমানকে (তারেক রহমানের মেয়ে) ঢাকায় পাঠাক। তাকে ঢাকায় পাঠালে সে হবে খালেদা জিয়ার রিয়্যাল প্রতিভু। সে অফিস সেক্রেটারি হবেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হবেন। চেয়ারম্যান হবেন না।
“তাহলে দেখবেন জনগণ তাকে(জাইমা) নিয়ে হুড় হুড় করে পড়বে। এই সরকার পালাবার পথ পাবে না।” বিএনপিকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই উদ্যোক্তা বলেন, “আমি আপনাদেরকে রাস্তায় দেখতে চাই। বিএনপিকে বলব, রাস্তায় নামেন। “আমাদের যতই বয়স হোক, আমি আপনাদের পেছনে থাকব। এই দানবের হাত থেকে আমাদের মুক্তির প্রয়োজন। এই ভেজাল সরকারের পরিবর্তন চাই, ভেজাল সরকারের থেকে আমরা মুক্তি চাই।” জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রতিষ্ঠাতা কাজী জাফর আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। ২০১৫ সালের ২৭ অগাস্ট কাজী জাফর আহমদ মারা যান।
জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামীমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সভাপতি খোন্দকার লুতফর রহমান, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান, মজিবুর রহমান, মাওলানা রুহুল আমীন, শফিউদ্দিন ভুঁইয়া, সেলিম মাস্টার, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুল হুদা, হান্নান আহমেদ খান বাবুল, কাজী মো. নজরুল বক্তব্য রাখেন।

সেপ্টেম্বর ০৫
০৬:০৫ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]