Daily Sunshine

এখন তো পুরো ‘আমলা লীগ’: ফখরুল

Share

সানশাইন ডেস্ক: সরকারে আওয়ামী লীগ থাকলেও কার্যত ‘আমলারাই’ দেশ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আজকাল আপনি জেলাগুলোতে যদি যান, আপনি ঢাকার ডিসি অফিসে যান, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির মিটিং হয়, বা কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মিটিং হয়, সেখানে সরকারি আমলারাই সবচেয়ে বেশি আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করে।
“আওয়ামী লীগ কোথায়? আওয়ামী লীগ তো নাই এখন। এখন তো পুরো আমলা লীগ। আমলা মানে-সামরিক, বেসামরিক-পুলিশ সব। এই একটা অবস্থা বাংলাদেশে হচ্ছে।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে’ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা খবরের কাগজে দেখি, কারা হত্যা করছে? বেশির ভাগ দেখি যে, পুলিশের লোক র‌্যানসম আদায় করছে, জোর করে তুলে নিয়ে অপহরণ করে চাঁদা আদায় করছে।
“আমরা যখন দেখছি যে, পুলিশের অফিসার তারা ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত হচ্ছে। পত্রিকা খুলে দেখবেন, তারা একটা নতুন কারসাজি শুরু করেছে। আইজিপি বলেছেন যে, এখন পুলিশ সাংবাদিকতাও করবে।” বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এটা কিন্তু সুদূরপ্রসারী। পুলিশ যখন সাংবাদিকতা করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে যে এই রাষ্ট্র আর নেই। এই রাষ্ট্রে করবে না কেন? পুলিশকে এত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে ওরা নিজেরাই বলে বাতির রাজা হচ্ছে ফিলিপস, মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা হচ্ছে পুলিশ।”
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ অন্যান্য আইনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ‘ধ্বংস করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গতকাল দেখলাম যে, আমাদের তথ্য মন্ত্রী বলছেন, সোশাল মিডিয়ায় বা বাইরে থেকে যেসমস্ত টিভি পরিচালিত হয়, সেই টিভিগুলো এখানে (বাংলাদেশ) পরিচালনা করতে গেলে এখান থেকে অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে যে সত্য কথাগুলো প্রচারিত হয়, গণতন্ত্রের পক্ষে যারা কথা বলে, তাদেরকেও এখন সরকার নিয়ন্ত্রণ করবে।”
জরুরি অবস্থার সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মুক্তির বার্ষিকীতে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম ও বাংলাদেশ ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই আলোচনা সভা হয়।
‘জনদৃষ্টি সরাতে আবোল-তাবোল’: জনগণে সমস্যার সমাধান করতে না পেরে সরকার এখন মানুষের দৃষ্টি সরাতে ‘আবোল-তাবোল বকছে’ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এদেরকে জনগণের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এদেশের যা অর্জন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে, নব্বইয়ের ছাত্র গণ আন্দোলনের ফলে গণতন্ত্র অর্জন- সব কিছুই এরা ধ্বংস করে দিয়েছে। এরা এখন আগ্রাসী, লেজুড়বৃত্তি করা একটা দলে পরিণত হয়ে গেছে।”
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার এখন ‘পুতুল সরকারে’ পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই ধরনের সরকার বেশিদিন টেকে না। যাদের জনগণের ভিত্তি নেই, দেউলিয়া হয়ে গেছে, তারা কখনো টিকে থাকতে পারে না। “তারা যাতে টিকে থাকতে না পারে, সেজন্য যে কাজটি করা দরকার- জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমাদেরকে ছড়িয়ে পড়তে হবে গ্রামে-গঞ্জে পথে-প্রান্তরে, মানুষকে একত্রিত করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করতে হবে।”
ফখরুল বলেন, “তারেক রহমান সাহেবের মুক্তি দিবসে এই প্রত্যয় আমরা নিতে চাই যে, ছাত্র-জনগণের একটা সফল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ যে একটা পদলেহনকারী সরকার, সেই পদলেহনকারী সরকারকে পরাজিত করে জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠ হবে। “আসুন আজকে তারেক রহমান সাহেবের এই মুক্তি দিবসে আমরা সেই লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ি এবং এদেশকে মুক্তি করি, গণতন্ত্রকে মুক্ত করি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি এবং আমাদের যারা বন্দি রয়েছেন তাদেরকে মুক্ত করি।”
‘দুটো নতুন মন্ত্রণালয়’ চান রিজভী: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দুইটা মন্ত্রণালয় এখন ওদের করা উচিত। অনেক মন্ত্রণালয় আছে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ৃ এখন দুইটা লাগবে। একটা হলো ষড়যন্ত্রমূলক মন্ত্রণালয় আরেকটা মিথ্যা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
“আপনি ওবায়দুল কাদেরের কথা শুনবেন প্রতিদিন ষড়যন্ত্র হচ্ছে, বিরাট ষড়যন্ত্র। আবার প্রধানমন্ত্রীও দুই দিন পর বলছেন ষড়যন্ত্রের কথা। ষড়যন্ত্র আপনাদের বিরুদ্ধে হবে কেন? আপনারাই তো জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছেন, জনগণকে প্রতারিত করেছেন। আপনরাই তো ষড়যন্ত্রকারী।”
উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সভাপতিত্বে ও উপদেষ্টা ওবায়দুর রহমান চন্দনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামসুল আলম, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম সারওয়ার, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বক্তব্য দেন।

সেপ্টেম্বর ০৪
০৫:৩৫ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]