Daily Sunshine

ভ্রমণ পিপাশুদের টানে জবই বিল

Share

সাপাহার প্রতিনিধি: নওগাঁ সাপাহার উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জবই বিলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ভ্রমণ পিপাশুদের এক মিনি বিনোদন কেন্দ্র। বিগত কয়েক বছর ধরে বর্ষা নামলেই শুরু হয় বিলের বুক চিরে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধ কিলোমিটারের এপ্রোচ সড়কের উভয় পাশে বিনোদন প্রেমীদের মিলন মেলা। কেউ নৌকা বা স্প্রীড বোটে উঠা নিয়ে ব্যস্ত আবার কেউ রাস্তার ধারে বাদামসহ হরেক রকম ভাজা খাওয়া নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন।
এককালের এ সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী, আইহাই ও গোয়ালা ইউনিয়নবাসীর দুঃখ জবই বিল এখন পুরো সাপাহারবাসীর জন্য আশির্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর এ বিলে ভ্রমণ প্রেমীদের ভ্রমণ কাজে নৌকা বা স্প্রীড বোড মালিকরা অনেক অর্থ কামিয়ে থাকেন অতিতে যা তারা কখনও কল্পনা করেনি। বিলটি সরকারী জলাশয়ের আওতায় হওয়ায় এখনে গড়ে উঠেছে বৃহত মৎস্য প্রকল্প। ১৯৯৬ সালে বর্তমান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সরকারী সফরে সাপাহারে এসে বিভিন্ন উন্নয়ন পাশাপাশি এখনকার মৎস্যজীবীদের ভাগ্যোন্নয়নে প্রায় ৩ হাজার একরের বৃহত এ জলাশয় জবই বিলে একটি মৎস প্রকল্প গড়ে তোলার ঘোষণা প্রদান করেন। সে থেকে এ বিলে মৎস্যপ্রকল্পের অধিনে থাকা সহস্রাধিক মৎস্যজীবীদের জীবীকা নির্বাহের এক নতুন দ্বার উম্মোচিত হয়ে চলে আসছে। এরপর আওয়ামী সরকারের তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল জলিল ও বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সাপাহার থেকে বিচ্ছিন্ন ওই তিনটি ইউনিয়নবাসীর যোগাযোগের উন্নয়নে বিলের বুক চিরে ৫’শ মিটার পাকা এপ্রোচ সড়ক ও ২’শ মিটার একটি সেতু নির্মান করে সাপাহারবাসীর সাথে তাদের সেতু বন্ধন তৈরী করেন। এরপর থেকে ওই তিনটি ইউনিয়নবাসীদের আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি উন্নয়নের বিষয়ে।
বর্তমানে উপজেলা সহর দুরের কথা জেলা শহরের সমস্ত সুবিধা ভোগ করছে সীমান্ত ঘেঁষা পিছিয়ে পড়া ওই এলাকার অধিবাসীরা। বিলে রাস্তা ও ব্রীজ হওয়ায় প্রতিটি গ্রামে গ্রামে মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে আধুনিক মার্কেট দোকান পাট ছোট ছোট শীল্প কারখানা। সাধারণত ছোট খাট ধরনের কোন কাজে তাদের আর দুরে কোথাও যেতে হয়না চিকিৎসা সহ সবধরনের সেবা পেয়ে থাকেন বাড়ীর পাশেই।
সাপাহার উপজেলার কোথাও কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় এখানকার মানুষ মনের ক্ষুধা মেটাতে সাধারণত দুরে কোথাও ছাড়া তাদের আর যাওয়ার কোন জায়গা ছিলনা। বর্তমানে বিলে মৎস্য প্রকল্প গড়ে ওঠায় সারা বছর বিলে পানি ও মাছ থাকছে ফলে বিশেষ করে দুই ঈদের দিন গুলোতে এখানকার মানুষ তাদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে বিলপাড়ে গিয়ে বিলের স্বচ্ছ পানিতে নেমে আবার নৌকায় চড়ে সারা বিল পরিভ্রমণ করছে।
নওগাঁ, জয়পুরহাট ও চাপাই নবাবগঞ্জ এলাকা হতেও অনেক ভ্রমণ পিপাশুদের এ বিলে ভ্রমণে আসতে দেখা গেছে। প্রতিবছর শীতকালে হাজারো অতিথি পাখীর আগমন ঘটে এই বিলে। সে সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাখী প্রেমীদেরও আনাগোনায় মুখরিত হয়ে ওঠে সারা বিল এলাকা।
স্থানীয় জবই বিল জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও সমাজকল্যাণ সংস্থার জরীপে এ বছর বিলে দেশী ও পরিযায়ী ২৮প্রজাতীর ৯হাজার ৭১২টি পাখী রয়েছে তবে আন্তর্জাতিক পাখী সংরক্ষন বিভাগের জরিপ মতে এই বিলে প্রায় ৫৮ প্রজাতির পাখীর বিচরণ রয়েছে সারা বিল এলাকা জুড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ওই বিলে গিয়ে চাপাই নবাবগঞ্জের পরিবার নিয়ে আসা দম্পতি অজের মাহালত এর সাথে কথা হলে তিনি জানান আমরা শুনেছি নওগাঁ জেলার সাপাহার জবই বিল একটি ঐতিহ্যবাহী বিল্। এখানে এসে বিলের নয়ানাভিরাম দৃশ্য ও হরেক রকম পাখী দেখে আমাদের ভ্রমণ সার্থক হয়েছে। অতি স্বল্প পরিমান অর্থ দিয়ে এখানে বিলের পানিতে নৌকা বা স্প্রীড বোডে চড়ে বিশাল বিলে ভ্রমন করা য়ায়।
সরকারীভাবে বিল পাড়ে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, গণসৌচাগার ইকো পার্ক তৈরী করে পুরো বিল এলাকার দৃশ্যপট নতুন সাজে সাজাতে পারলে হয়তো সাপাহারের জবই বিলটিই হতে পারে হাজার পর্যটকদের এক বিনোদন কেন্দ্র বা মিলন মেলার স্থল বলে ভ্রমণে আসা অসংখ্য দর্শনার্থী তাদের মত ব্যাক্ত করেছেন।
তবে ইতো মধ্যেই সারা বিলটি জুড়ে একটি অত্যাধুনিক ইকো পার্ক তৈরীর জন্য সরকারের খাদ্যমন্ত্রী বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপির প্রচেষ্টায় কয়ে কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন হয়েছে বলে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্যাহ আলমামুন ও বরেন্দ্র প্রকল্প কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ০৩
০৬:০১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]