Daily Sunshine

টিকার এসএমএস ‘দ্রুত দেওয়ার’ নামে প্রতারণা গ্রেপ্তার ৪

Share

সানশাইন ডেস্ক: কোভিড-১৯ টিকার নিবন্ধন করা ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ে এসএমএস পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে ‘প্রতারণার’ অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এরা হলেন- মো. নুরুল হক (৪৭), মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. ইমরান হোসেন (২৩) ও মো. দুলাল মিয়া (৩৭)। রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এই চক্রটি মূলত বিদেশগামীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। “বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, কিছু প্রতারক রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে অবস্থান করে বিদেশগামী টিকা প্রার্থীদের দ্রুত এসএমএস প্রদানের নামে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
“এর ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রটি প্রত্যেকের কাছ থেকে আড়াই থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছে। প্রায় দুইশ জনের সঙ্গে তারা এভাবে প্রতারণা করেছে।” কমান্ডার মঈন বলেন, চক্রটি দ্রুততম সময়ে টিকাদানের এসএমএস পাঠিয়ে দেওয়ার নামে টাকা নিলেও কেউ কেউ স্বাভাবিক নিয়মেই এসএমএস পেয়েছেন আবার কেউবা প্রতারিত হয়েছেন।
“নুরুল হক এ চক্রের হোতা। সাইফুল এবং ইমরান হাসপাতালের সামনে ঘোরাফেরা করতেন এবং টিকা প্রত্যাশীদের দ্রুত এসএমএস পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নুরুল হকের কাছে নিয়ে যেতেন। “নুরুল হক টিকার এসএমএস নিয়ে দর কষাকষি করতেন। টাকার পরিমাণ নিয়ে বোঝাপড়া হয়ে গেলে তাকে দুলালের কাছে নেওয়া হত। টাকার অঙ্কের উপর নির্ভর করে কত দিনের মধ্যে এসএমএস পাওয়া যাবে সে বিষয়ে আশ্বস্ত করতেন দুলাল।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চক্রটি রাজধানীর মুগদা, শাহবাগ, রমনা, শেরেবাংলা নগর, মিরপুর, মহাখালী ইত্যাদি এলাকায় সক্রিয় ছিল। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং এসএমএস এর মাধ্যমেও ‘প্রচারণা’ চালাত। “তাদের প্রচারের বার্তায় লেখা ছিল ‘যারা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করছে কিন্তু এসএমএস পাইতেছে না তাদের একদিনে এ টিকা নিয়ে দেওয়া যাবে। যারা নতুন, তাদের চারদিনের মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন করে টিকা নিয়ে দেওয়া যাবে’।”
র‌্যাব জানায়, নুরুল হক দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। ২০১৮ সালে দেশে ফিরে আসার পর ভিসা জটিলতায় আর যেতে পারেনি। ইমরান হোসেন একটি ট্র্যাভেল এজেন্সিতে চাকরি করেন। সাইফুল ইসলাম রমনা এলাকার চা দোকানি। একসময় তিনি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন। সেসময় ফর্ম পূরণের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি চাকরিচ্যুত হন।
দুলাল মিয়া একটি হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গাড়ি চালক হিসেবে হাজ করছেন। তবে তিনি কোন হাসপাতালে কাজ করেন তা জানায়নি র‌্যাব। কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সেপ্টেম্বর ০৩
০৫:৫০ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]