Daily Sunshine

আফগানিস্তানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে

Share

সানশাইন ডেস্ক: ব্যাংকে ভীড় করেও নগদ অর্থ তুলতে পারছেন না আফগানরা। আফগানিস্তানে নতুন সরকার ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে তালেবান। অপরদিকে কট্টরপন্থী ইসলামী এই সশস্ত্রগোষ্ঠী আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এবং দুই দশকের যুদ্ধের বিশৃঙ্খল সমাপ্তির আগে থেকেই ভঙ্গুর আফগান অর্থনীতি এখন ভেঙে পড়ার পথে।
শুধু সরকার গঠন করাই নয়, অর্থনীতির বিপর্যয় ঠেকাতে তালেবান সরকারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও আদায় করতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক দাতা ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণে নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান আগামী এক মাসের মধ্যে খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ক্ষুধার্ত থাকতে হতে পারে বলে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে। গতকাল বুধবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এমন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মানবিক বিপর্যয় নিয়ে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও দাতা সংস্থাগুলো। এদিকে ভয়াবহ খরা এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ঠ ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের সতর্কতার মধ্যেই হাজার হাজার আফগান পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকের অচলাবস্থা, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ’র মতো বিদেশি সংস্থাগুলো তহবিল, সহায়তা ও ঋণদান বন্ধ করে দেওয়ায় নগদ অর্থের সংকটে পড়া শত শত আফগান রাজধানী কাবুলে ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করছেন।
আল-জাজিরা জানাচ্ছে, নগদ অর্থের জন্য রাজধানী কাবুলের প্রতিটি ব্যাংক ও এটিএম বুথে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। দিন যত গড়াচ্ছে ততই সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। আফগানদের অনেকের হাতেই নগদ অর্থ নেই, আর চাইলেও তারা অর্থ তুলতে পারছেন না। অর্থের অভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রমে এমন বিঘ্নের মধ্যে আফগানিস্তানে চলমান প্রকল্পগুলোতে সর্বশেষ তহবিল স্থগিত করেছে বিশ্ব ব্যাংক। এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আফগানিস্তানে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল।
জার্মানি, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনসহ কয়েকটি দেশ আফগানিস্তানে ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আফগানিস্তানে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (ওডিএ) বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভও জব্দ হয়েছে। এতে করে নগদ অর্থের চরম সংকটের মুখে পড়েছে আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের ১০ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে। রিজার্ভের বেশিরভাগ রয়েছে এখন বিদেশে। তালেবানের দ্রুত এই রিজার্ভ তুলে নেওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম।
দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন, তালেবানের নিয়োগ দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর ব্যাংকগুলোকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে তারা কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থা চাইছে। কিন্তু কীভাবে তহবিল সরবরাহ করা হবে তার বিস্তারিত বলেননি তিনি। রেটিং এজেন্সি ফিচ গ্রুপের গবেষণা শাখা ফিচ সলিউশনের এক প্রতিবেদনে বিশ্লেষকরা বলেছেন, আফগানিস্তানের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) চলতি অর্থবছরে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হবে; যা পরের বছর আরও ৫ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পাবে।
ফিচ সলিউশনের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হলে বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। কিন্তু তালেবান এখনো সরকার গঠন করেনি। তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে। স্বীকৃৃতি না মিললে বিনিয়োগ পাওয়া যাবে না।
এদিকে আফগানিস্তান আগামী এক মাসের মধ্যে খাদ্যসংকটে পড়তে পারে এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশটির প্রতি তিন জন মানুষের একজনকে ক্ষুধার্ত থাকতে হতে পারে বলে গতকাল বুধবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীর দাম ৫০ শতাংশ এবং জ্বালানির দাম ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আর দেশ পরিচালনার চেষ্টায় হিমশিম খাচ্ছে তালেবান। তারল্য সংকটে ভোগা ব্যাংকগুলোতে ভিড় করলেও প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ তুলে নিতে পারছেন না আফগানরা।
পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়কারী রমিজ অলকবারভ বলেছেন, বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে। অকার্যকর রয়েছে সরকারি সেবা। সরকারি চাকরিজীবীরাও বেতন পাচ্ছেন না। কাবুলে ব্যাংকের সামনে যারা বিক্ষোভ করছেন তাদের বেশিরভাগই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা তাদের বেতন দাবি করছেন। অনেকে বলছেন, গত তিন থেকে ছয় মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। ফলে বিক্ষোভ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।
আফগানিস্তান ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য অর্থদাতাদের সঙ্গে চলতি সপ্তাহেই বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস। এর মাধ্যমে অর্থসংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে। তবে আফগানিস্তানের বাইরে থাকা ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা দেশ ছেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন হবে। ব্যবস্থাপনায় থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল কারিগরী কর্মী দেশ ছাড়ায় নতুন সংকটে দেখা দিয়েছে।
আফগানিস্তান এমনিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত। তালেবানের ক্ষমতা দখলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই তীব্র খরার মুখে পড়েছে ৭০ লাখ কৃষক। তাদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।

সেপ্টেম্বর ০৩
০৫:৪৮ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]