Daily Sunshine

রাজস্থানের দুম্বা-ছাগলে যুবকের ভাগ্য বদল

Share

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খামার পাথুরিয়া গ্রামে রাজস্থানের দুম্বা-ছাগল ও গাড়লের খামার করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জণ করেছেন আনোয়ার হোসেন (৩২) নামের এক যুবক। স্নাতক পাস আনোয়ার হোসেন এখন ওই এলাকার অনেকেরই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
আনোয়ারের খামারটি গুরুদাসপুর উপজেলা খামার পাথুরিয়া গ্রামে। বাড়ির পাশেই ফাঁকা জমিতে গড়ে তুলেছেন খামারটি। চারটি ছাগল দিয়ে খামার শুরু করলে বর্তমানে সেখানে ১৫টি দুম্বা ও ৩৩ টি পাঁঠা ২২২টি ছাগল এবং ৩২টি গাড়ল আছে। প্রতি বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ছাগল, দুম্বা, গাড়ল বিক্রয় হয় খামার থেকে।
খামারে ইন্ডিয়ান তোতাপুরি, হরিয়ানা, পাকিস্থানি বিটল ও ক্রস জাতের ছাগল এবং পাকিস্তানের দুম্বা ও ইন্ডিয়ানের গাড়ল আছে। রাজস্থান থেকে আসার পর ছাগল গুলোকে প্রতিশোধক দিয়ে প্রজণন করার ৪ থেকে সাড়ে ৪ মাস পর বিক্রি শুরু হয়। দেশ জুড়ে ক্রেতা রয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে ছাগল দেখে কিনতে পারে ক্রেতা। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও দেখে ফোন করে দেখে ছাগল ক্রয় করে সবাই।
আনোয়ার হোসেন বলেন, বাল্যকাল থেকেই ছাগল পালন করতে ভাল লাগত। ফলে ২০০০ সাল থেকে বানিজ্যিক ভাবে ছাগল পালন শুরু করি। কিছুদিনের মধ্যেই রাজস্থানের ছাগলে সন্ধান পাই। শুরু করি রাজস্থানের ছাগল আমদানী। পরে প্রজণনের মাধ্যমে বাড়তে থাকে খামারে ছাগলের সংখ্যা। লাভজনক বানিজ্যক ভাবে গড়ে তুলি ছাগলের খামার। পাশাপাশি চালিয়ে যাই পড়াশুনা। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজ থেক স্নাতক শেষ করেছি। আমার লক্ষ্য এখন খামারের পরিধি বৃদ্ধি।
তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে ফোন আসে। মাসেঞ্জার, ইমোতে ছাগল দেখাতে হয়, রোগ বালাই সম্পর্কে পরামর্শ পাওয়া যায়। প্রতিদিন মেসিনে খড় কেটে এ্যাংকার ডালের ভুসি মিসিয়ে লবন পানি দিয়ে খেতে দেয়া হয়। পাশাপাশি কাঠাল গাছের পাতা ও উন্নত জাতের ঘাস খেতে দেওয়া হয়।
লালন-পালনের বিষয়ে আনোয়ার বলেন, প্রাণীগুলোর রোগবালাই খুব কম হয়। প্রতিদিন একটি পশু ২৫ থেকে ৩০ টাকার খাবার খায়। দুম্বা-গাড়ল কাঁচা ঘাস খায়। সময় মতো প্রতিশেধক দিলে ঠিকমতো বেড়ে ওঠে। প্রতিটি দুম্বা বছরে দুইটি করে বাচ্চা দেয়। তিন মাসে একটি বাচ্চার ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ টাকা।
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, আনোয়ার হোসেন একজন শিক্ষিত খামারী। সে চাকুরির পিছনে না ছুটে খামার গড়ে তুলেছেন। আমার অফিসের সাথে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। তাকে সার্বিক সহযোগীতা করা হয়। তার এ সফলতায় অনুপ্রানীত হয়ে কেউ খামার গড়ে তুলতে চাইলে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে সহযোগীতা করা হবে।

আগস্ট ২৭
০৫:৩১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]