Daily Sunshine

সমাজ ও পরিবার থেকেও হিজরা ও প্রতিবন্ধীরা অবহেলার শিকার

Share

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা: আমাদের দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে।এদের মধ্যে পারিবারিক ভাবে অবহেলার শিকার হিজরা এবং প্রতিবন্ধী। এই দুই প্রকার মানুষের মধ্যে হিজরা বাংলাদেশের একটি নিগৃহীত জন গোষ্ঠীর নাম। যারা বিভিন্ন ভাবে অন্যায় ও অবিচারের শিকার হয়। একই ভাবে অবহেলার শিকার হয় প্রতিবন্ধীরা। এমনও লক্ষ করা গেছে, একজন প্রতিবন্ধী শিশুকে তার পরিবার শিকল কিংবা রশি দিয়ে বাড়ীতে বেঁধে রেখেছেন। কারণ ওরা সমাজ এবং পরিবারের চোখে অবহেলিত।
দেশের বিভিন্ন এইজিও কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মতে, সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে আইনের চোখে সব নাগরিক সমান হলেও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পাচ্ছে না সমান অধিকার, রক্ষা হচ্ছে না তাদের মৌলিক চাহিদা। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার হিজরা সম্প্রদায়কে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে , যা ছিল খুবই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু সমাজ ও পরিবার তাদের কখনোই স্বীকৃতি জানাতে পারেনি মন থেকে। ঠিক একই অবস্থা প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে। আমাদের সমাজ এবং পরিবারের ক্ষেতে যেনো তারা এক ধরণের বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। অন্য আর পাঁচজন মানুষের মতো করে এদে কেউই দেখেনা। ফলে এরাও অবহলের শিকার হয়ে জীবন যাপন করে যাচ্ছেন।
সমাজের অভিজ্ঞ মহলরা বলছেন, কোন পরিবারে একজন তৃতীয় লিঙ্গের সন্তান জন্মগ্রহণ করলে ভয়ে পিতামাতা তাদের দূরে সরিয়ে দেন অথবা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যখন তাদের নিজস্ব সত্তার বহিপ্রকাশ হয়, তখন তাদের সত্তাকে লুকানোর চেষ্টা করা হয়। অনেক পরিবার আছে পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানায়, আবার অনেক পরিবার বঞ্চিত করে সম্পদের অধিকার থেকে। ১৯৬১ সালের মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কন্যাসন্তান ও পুত্রসন্তানের সম্পত্তি বণ্টনের হিসাব রয়েছে। তবে এখানে তৃতীয় লিঙ্গের কথা স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে হিন্দু আইন অনুযায়ী যেখানে কন্যা সন্তান সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত, সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের সন্তান তো বহু দূরের ব্যাপার। ঠিক একই অবস্থা প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে। আমাদের সমাজে এমনও লক্ষ করা গেছে, একজন পিতার পাঁচ ছেলে-মেয়ে। অথচ জমি ভাগা-ভাগির সময় প্রতিবন্ধীকে বঞ্চিত কিংবা পরিমানে কম দেয়ার নজির অনেক। আবার কোন কোন এলাকায় খোঁজ নিলে দেখা গেছে, প্রতিবন্ধা সন্তানকে বাড়ীর বাইরে বের হতে দেয়া হচ্ছে না।
সরেজমিন বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে গিয়ে লক্ষ করা গেছে, ঐ গ্রামের তুরাপ উদ্দিনের ছেলে তারেখ হোসেন(১৫)কে রাস্তার পাশে একটি খুটির সাথে রশি দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে তার মা’ মর্জিনা বেহম বলেন, স্যার আমার ছেলেটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ওকে যদি বেধে না রাখি তাহলে এদিক-সেদিক চলে যায় এবং মানুষকে খুব জালাতন করে। তাই নিরুপায় হয়ে তাকে বেধে রাখতে হয়।
অপর দিকে সুধীজনরা বলেন, বর্তমার সময়ে কোন পরিবারে একজন তৃতীয় লিঙ্গের সন্তান জন্মগ্রহণ করলে ভয়ে পিতামাতা তাদের দূরে সরিয়ে দেন অথবা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যখন তাদের নিজস্ব সত্তার বহিপ্রকাশ হয়, তখন তাদের সত্তাকে লুকানোর চেষ্টা করা হয়। অনেক পরিবার আছে পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানায়, আবার অনেক পরিবার বঞ্চিত করে সম্পদের অধিকার থেকে। ১৯৬১ সালের মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কন্যা সন্তান ও পুত্র সন্তানের সম্পত্তি বণ্টনের হিসাব রয়েছে। তবে তৃতীয় লিঙ্গের কথা এখানে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। অন্যদিকে হিন্দু আইন অনুযায়ী যেখানে কন্যা সন্তান সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত, সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের সন্তান তো বহু দূরের ব্যাপার। ঠিক একই অবস্থা প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে। আমাদের সমাজে এমনও লক্ষ করা গেছে, একজন পিতার পাঁচ ছেলে-মেয়ে। অথচ জমি ভাগা-ভাগির সময় প্রতিবন্ধীকে বঞ্চিত কিংবা পরিমানে কম দেয়ার নজির রয়েছে।
অন্যদিকে আমরা যদি শিক্ষার কথা বলি তাহলে যেটা লক্ষ করা যাচ্ছে, সরকার এই অবহেলিত মানুষ গুলোকে শিক্ষার সুযোগ দিলেও সমাজের হেয় প্রতিপন্নতার জন্য এবং তাদের আলাদা চোখে দেখার কারণে শিক্ষার প্রতি তারা নিরুতসাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে হিজরাদের ক্ষেত্রে তো এটি বেশি হচ্ছে। এ দিক থেকে প্রতিবন্ধীদের অনেক ধরন রয়েছে। যারা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তারা পরিবারের কাছে একে বারেই নিগৃত। অন্য দিকে যারা শারিরীক প্রতিবন্ধ তাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষা-দিক্ষায় এগিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
সম্প্রতি হিজরাদের নিয়ে একটি সেমিনারে বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং রাজশাহী জেলা আ’লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এড: লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, হিজরারা আমাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্য নয়। ২০১৩ সালে আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্টীয় ভাবে তাদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসাবে স্বিকৃতী দিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শ্রেনী বৈশম্য ছাড়াই-হিজরা,প্রতিবন্ধী ও বেদে সম্প্রদায়ের শিশুদের এক সাথে পাঠ দানের ব্যবস্থা করেছেন।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রহিম উদ্দিনের সাথে যোগা যোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে হিজরা সম্প্রদায়ের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে ৩ হাজার ৭ শ ৭৬ জন প্রতিবন্ধী রয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাং শজনই সরকারী অনুদান(ভাতা) পেয়ে থাকেন।

আগস্ট ১৪
০৫:২৭ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]