Daily Sunshine

রাজশাহীতে আন্ত:ধর্মীয় ভার্চুয়াল সংলাপ ‘হরিয়ান ইউনিয়নে ধর্মীয় সম্প্রতি সন্তোষজনক’

Share

স্টাফ রিপোর্টার : দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘প্রোমোটিং কমিউনিটি ড্রাইভেন আরলি ওয়ারনিং সিসটেম টু রিডিউস রিলিজিয়াস ফ্রিডম ভায়োলেন্স ইন বাংলাদেশ’ নামক প্রজেক্টের আওতায় আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বিষয়ক একটি ভার্চুয়াল সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি আয়োজিত সংলাপে পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের সাধারণ জনগোষ্ঠীসহ সকল মর্ধের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তি নির্মাণ এবং সহনশীলতায় ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা’। সংলাপে জানানো হয়, হরিয়ান ইউনিয়নে আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রতি বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। আলোচনায় এলাকার আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতির বর্তমান অবস্থা এবং আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
আলোচনায় জানা যায়, হরিয়ান ইউনিয়নের আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রতি বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। আলোচকরা মতামত প্রকাশ করেন যে, অগ্রিম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের উদ্যোগ একটি অতি প্রশংসনীয় এবং কার্যকর ব্যবস্থা। ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে ও নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে তাদের বেশ কিছু করণীয় সম্পর্কে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ, প্রতিটি ধর্মকে সম্মান প্রদর্শন, সহনশীলতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, সাধারণ মানুষের মধ্যে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য প্রচার করা এবং সকল ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসাকে উদ্বুদ্ধ করা। এছাড়া আলোচকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় গুজব ছড়িয়ে না দেয়া ও বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মীয় উস্কানি তৈরি না করার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষাকল্পে দি এশিয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচিসমূহকে সকলে সাধুবাদ জানান। সর্বোপরি সমাজের সকলের ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ধর্মীয় বৈষম্য ও আন্ত:ধর্মীয় কোন্দল নিরসনের দ্বারা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে আলোচকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংলাপটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন লিড পিসকিপার প্রদ্যুৎ কুমার সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর প্রদীপ পান্ডে, কর্ণহার থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার আলী তুহিন, পবা উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার ঘোষ, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অলক কুমার দাস, এডভোকেট সামিনা বেগম, বাঁচার আশা সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার বিজলি, পবা উপজেলার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ও ইউপি মেম্বার সুফিয়া বেগম, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এস এম কামারুজ্জামান, রাজশাহী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য কল্পনা রায় ভৌমিক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ ও ডক্টর একেএম মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলাম, সনাতন ও বাহাই ধর্মের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকমন্ডলী ও যুবপ্রতিনিধি।
দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার জিলহাজ আজম, সিনিয়ার প্রজেক্ট অফিসার মাহমুদা সুলতানা স্নিগ্ধা, প্রজেক্ট অফিসার মোশাররফ হোসেন, প্রজেক্ট অফিসার মিতা সরকার এবং ফিল্ড এ্যাসিস্টেন্ট বাবলী থাতুন।

আগস্ট ১৩
০৪:৪১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]

সর্বশেষ