Daily Sunshine

বায়া মোড়ে রেলগেট-নওহাটা রাস্তার নির্মাণ কাজ নকশা বহির্ভূতের অভিযোগ

Share

স্টাফ রিপোর্টার: পবায় বিশেষ মহলের স্বার্থে নকশা ব্যতিক্রম করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী এক পাশের জমির ওপর একটি পক্ষের ভবন রক্ষায় ম্যানেজের মাধ্যমে ওপর পাশের এক ব্যক্তির জমির ভিতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় এই অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে বায়া মোড়ে রেলগেট থেকে নওহাটা চারলেন রাস্তার নির্মাণ কাজে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভোলা বাড়ি গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফজলুর রহমান প্রায় ৫০ বছর ধরে বায়া মোড়ে বসবাস করে আসছেন। রেলগেট-নওহাটা রাস্তার পশ্চিম পাশে যা ভোলাবাড়ি মৌজার সাবেক দাগ নম্বর ৬০৪, বর্তমানে ভাগ হয়ে দাগ ৭৬৩, ৭৬৪ ও ৭৬৫(আরএস নকশা)। সাবেক ও বর্তমান দুই ক্ষেত্রেই উত্তর দিকে লম্বায় ১৭১ ফুট ৯ ইঞ্চি। এরআগে অনেকবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করতে সীমানা নির্ধারণ ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন। সবক্ষেত্রেই বরাবরের মতই নকশা অনুযায়ী মাপ ঠিক ছিল। ফজলুর রহমান ওই পরিমাপ অনুযায়ী আরডিএ কর্তক নকশা অনুমোদন করে স্থায়ী দালান নির্মাণ করেছেন।
রাজশাহী রেলগেট-নওহাটা পর্যন্ত চারলেন রাস্তার তৈরীর উদ্যোগ নেন সরকার। এই রাস্তা নির্মাণ কাজের আগে অনেকবার মাপযোগ হয়। কিন্তু কোন মাপযোগেই ফজলুর রহমানের রাস্তায় পড়েনি। কিন্তু বর্তমানে নকশা ব্যতিরেকে রাস্তা নির্মাণ কাজ হচ্ছে। যেখানে ফজলুর রহমানের জমির মধ্যে ৮-১০ ফুট ঢুকে পড়েছে। যা আগের পরিমাপে কখনোই হয়নি। এব্যাপারে ফজলুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী সওজ সড়ক বিভাগ রাজশাহী বরাবরে আবেদন করেন। আবেদন না তুলে নিলে তৎকালীন সার্ভেয়ার মো. সোহাগ আলীর চাকুরী চলে যাবে বলে ভুক্তভোগিকে জানান। পাশাপাশি সার্ভেয়ার মো. সোহাগ আবেদনকারিকে আশ্বাস দেন ফাইনাল মাপযোগের সময় ঠিক করে দেয়া হবে। এরইমধ্যে সোহাগ আলী বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। বর্তমানে দায়িত্বরত সার্ভেয়ার মিল্লাত হোসেনকে বিষয়টি জানালে তিনিও মাপযোগের আশ্বাস দেন। তবে তিনিও কথা রাখেননি।
ফজলুর রহমান বলেন, তার জমির দক্ষিণ পাশ থেকে বায়া ব্রিজ পর্যন্ত সওজের নকশা অনুযায়ী রাস্তা বায়া মৌজায় ৮৫ ফুট হওয়ার কথা। তারমতে রাস্তার পূর্বদিকের স্বার্থ রক্ষায় পশ্চিম পাশের জমিতে ১০০ ফুট নিয়ে আসছে। যা তার জমির মধ্যে ৮-১০ ফুট ঢুকে পড়েছে। এতে করে তার ভবন রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এব্যাপারে সার্ভেয়ার আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। জমির মালিকের দাবি তারা ১৭১ ফুট পাবেন। কিন্তু নকশা অনুযায়ী আমরা বারবার পরিমাপ করেও ১৬৫ ফুটের ওপরে পায়নি। এছাড়াও রাস্তা নির্মাণের আগে একটি টিম এখানে কাজ করেছেন। সেই টিমে সওজের সার্ভেয়ার, ডিসি অফিসের প্রতিনিধি যে উপজেলায় পড়বে অর্থাৎ বোয়ালিয়ার সার্ভেয়ার, পবা উপজেলার সার্ভেয়ারসহ দেখভালের একটি কমিটি ছিল। এখানে একাধিক সার্ভেয়ার থাকায় ভুল হওয়ার আশংকা অনেকটাই কম। কারণ অনেকবার বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ পরিমাপ করা হয়েছে। এরআগে যতবার উচ্ছেদ করা হয়েছে ততবারই উচ্ছেদের আগেই স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও তাদেরকে নিজস্ব সার্ভেয়ার রেখে যৌথ জরিপের কথা বলা হয়। তারা তা করেননি।
সওজ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামশুজ্জোহা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ করাটা দোষের কিছু নয়। তবে রাস্তাটি সার্ভেয়ার কমিটি সমন্বয়ে জরিপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক বিভাগ থেকে ডিজিটাল জরিপও করা হয়েছে। অভিযোগে প্রেক্ষিতে আবারো জরিপ করা হবে।

আগস্ট ১২
০৪:৪৬ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]