Daily Sunshine

বাঘার হাটে পাটের ছড়াছড়ি

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা: সোনালী আঁশ পাটের অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসলেও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে রাজশাহী জেলার ঐতিহ্যবাহী বাঘার হাট। বাঘা হাটে বিভিন্ন রকম পণ্যের কেনা-বেচা হলেও তার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ পাট। এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপন্ন পাটের একটি বড় অংশ কেনাবেচা হয় এই হাটে।
সপ্তাহে দুই দিন রবি ও বৃহস্পতিবার বসে বাঘার হাট। দুই দিনই কেনাবেচা হয় সোনালী আশঁ পাট সহ হরেক রকম পন্য। পদ্মা নদীর তীর ঘেঁশে এই হাটের অবস্থান হওয়ায় প্রতি হাটবারেই নদীপথে চরাঞ্চলের মানুষেরা নিয়ে আসে তাদের উৎপাদিত পন্য পাট। আর সড়ক পথে পাট আসে নিজ উপজেলা ছাড়াও রাজশাহী জেলার পুঠিয়া, নাটোর জেলার লালপুর,বনপাড়া, পাবনার-ঈশ্বরদী সহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। হাটের দিন সকাল থেকেই এসব এলাকা থেকে আসতে থাকে শত শত মণ পাট। এসব পাট কিনতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে মহাজনরা।
দিনভর চলে এসব পাটের কেনাবেচা। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দর কষা-কষির আওয়াজে দিনভর প্রাণচঞ্চল থাকে বাঘা হাটের পাট বাজার। রাজশাহীর এই অঞ্চলের মানুষের পাট কেনাবেচার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বাঘার হাট। অনেকের মতে,শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই হাটে পাটের কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পাটের আড়ৎ বা গোডাউন। দিনভর কেনাবেচার পর সেই পাট মজুদ করা হয় এই গুদামগুলোতে। তারপর এই পাট চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানা গুলোতে, রপ্তানি করা হয় বিদেশেও।
পাটের এই কেনাবেচা কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এসব গুদামগুলোতে কর্মরত আছে এলাকার শত শত মানুষ। তাদের জীবন ও জীবিকা চলে এই পাটের হাটকে কেন্দ্র করে। এ ছাড়াও হাটের দিনে দুর-দুরান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দুপুরের খাবারের চাহিদা মেটাতে এখানে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু খাবার হোটেল। সপ্তাহের অন্যান্য দিন খাবার হোটেল গুলো তেমন বিকিকিনি না হলেও হাটের দিনে তা থাকে জমজমাট। ক্রেতা-বিক্রেতারা তাদের সাধ্যানুযায়ী দুপুরের খাবাব সেরে নেয় এই হোটেল গুলোতে।
সুধীজনদের মতে, বাঘার এই পাটের বাজার এই অঞ্চলের পাট চাষীদের আশা ভরসার প্রতীক হয়ে দাড়িয়েছে। এর ফলে এই অঞ্চলের কৃষকরা পাট চাষে দিন দিন উৎসাহিত হচ্ছে। সরকারী ভাবে যথাযথ পৃষ্টপোষকতা পেলে এ অঞ্চলের কৃষকরা পাট চাসে আরো উৎসাহিত হবেন বলেও অনেকে মনে করেন।
এদিকে বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলের কৃষক গোলাম মোস্তফা ও ফজলু দেওয়ান বলেন, মাটি গত কারণে আমাদের অঞ্চলে তোষাপাট চাষ উৎপাদনে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেশি। তারা বলেন, বিগত কয়েব বছরের তুলনায় গত বছর কৃষকরা পাটের ন্যায্য মুল্য পাওয়ায় এবার সবাই কম-বেশি পাট-চাষাবাদ করেছেন এবং ইতোমধ্যে বাজারজাত করণ শুরু হয়েছে। তাদের মতে, সরকার যদি গত বারের ন্যায় পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারে তাহলে এই দেশ পূর্বের ন্যায় আবারও বিদেশে পাট রপ্তানী করে প্রচুর পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অজন করতে সক্ষম হবে।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ্ সুলতান বলেন, আমরা সকল প্রকার ফসল উৎপাদনের লক্ষে কৃষকদের নানা পরামর্শ , প্রনদনা এবং ট্রেনিং দিয়ে থাকি। তাঁর মতে, এ বছর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত চকরাজাপুর ইউনিয়ন ও বাউসা ইউনিয়ন সব চেয়ে বেশি পরিমান পাট চাষাবাদ হয়েছে। এর বাইরে দুটি পৌর সভা এবং বাঁকি পাঁচ টি ইউনিয়ন মিলে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ হয়েছে। আশা করছি এবার লক্ষ মাত্র অতিক্রম করবে।

আগস্ট ১১
০৪:৪৩ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]