Daily Sunshine

গান গেয়ে সংসার চালায় অন্ধ রাজিব

Share

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: একটি টাকা দাও না ও ভাই একটি টাকা দাও না, একশ টাকা পাঁচশ টাকা হাজার টাকা চাই না অথবা এসব দেখি কানার হাট বাজার এমনি অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়ে দর্শক শ্রোতাদের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে জীবনের ঘানি টেনে চলেছেন অন্ধ রাজিব(২৬)।
রাজিবের একাধিক ভক্তরা জানান, রাজশাহী ও আশপাশের এলাকায় রাজিবকে সবাই গান গাওয়া রাজিব কানা নামে চেনেন। ওর বাড়ি তানোর উপজেলার সিন্দুকাই গ্রামে। ভক্তদের মতে, গান গেয়ে কিছু আয় রোজগার করতে রাজিব প্রায় ছুটে আসেন জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। এবং হাট-বাজারে রাজিব গান গেয়ে ভালোই আয় রোজগার করেন। গানের ফাঁকে রাজিবের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায় তার জীবন আলেখ্য। প্রায় ১১ বছর যাবত এভাবে গান গেয়ে সাংসারের ঘানি টানছেন অন্ধ রাজিব।
স্ত্রী, দুই কন্যা, পিতা মাতা ও ভাই বোন নিয়ে আট সদস্যের পরিবারের সংমারে জোগান দিতে হয় তাকেই। তবে তার জীবনের শুরুটা এমন ছিলনা। শৈশবে হাটাৎ টাইফয়েট জ্বরে রাজিবের দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায় এবং দুই পা ক্রমেই অবস হয়ে পড়ে। হাটাচলার সামর্থ হারিয়ে ফেলেন তিনি। পিতা মাতার অভাবের সংসারে বড়ই বোঝা হয়ে পড়েন রাজিব। এক মাত্র পথ ভিক্ষাবৃত্তি। তবে আত্মসচেতন রাজিব সে পথে পা না বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেন কিছু একটি করার। তার কন্ঠস্বরও বেশ চমৎকার। তাই সিদ্ধান্ত নেন গান গেয়ে কিছু আয় রোজগার করবেন। কিন্তু বাদ্য যন্ত্র তাকে কে দেবে। তাই নিজের কন্ঠের ওপর ভরসা করে বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই গান গাওয়া শুরু করেন রাজিব।
পরে গানের তাল লয় ঠিক রাখতে একটি সিলভারের কলসি ঢোল হিসাবে ব্যবহার শুরু করেন। আর এভাবেই রাজিবের গান পৌছে যায় দর্শকদের হৃদয়ে। রাজিব জানায় ইউটিউবেও তার গানের ভিডিও ছাড়া রয়েছে। ইউটিউবে রাজিব কানা কলসি বাজায় এই নামে সার্চ করলেই দেখা যাবে তার গানের ভিডিও। বর্তমানে হাট ঘাটে গান গেয়ে প্রতিদিন তার পাঁচশ থেকে হাজার টাকার মত আয় হয়। এখন গান গাইতে রাজিব সিলভারের কলসির সাথে যুক্ত করেছেন একটি সাউন্ড বক্স।
রাজিব জানান, এই সাউন্ড বক্্র কিনতে তাকে সহযোগিতা করেছেন তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজান। রাজিব মেয়রের মাধ্যমে গত বছর চট্রগ্রামের ফ’য়স লেকে একটি কনসার্টে চারটি গান গেয়ে চৌদ্দ হাজার টাকা বকসিস পান। পরে বাড়ি ফেরার পথে পাবনা থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় তিনি এই সাউন্ড বক্্রটি ক্রয় করেন। সাউন্ড বক্্ের শব্দ বেশি হওয়ায় এখন রাজিবের গানে ভালোই দর্শক সমাবেশ ঘটে। তার গান শুনে খুশি হয়ে সবাই থাকে দশ পাঁচ টাকা বকশিস না দিয়ে খালি হাতে ফেরান না। আর এতেই কোন মতে কেটে যায় রাজিবের জীবন। তবে মাঝে মধ্যে ঝড় বৃষ্টি বা আবহাওয়াগত কারণে গান বন্ধ থাকলে দূর্ভোগ পোহাতে হয় রাজিব পারিবারকে।

আগস্ট ১১
০৪:৩৭ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]