Daily Sunshine

বাঁশের বোতল : জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাবিবের

Share

আবু সাঈদ রনি : বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের একাধিক কারণ আমাদের কারো অজানা নয়। যেগুলোর বেশিরভাগই মানবসৃষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ। পরিবেশের উপর আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের প্রভাব শুধু দিন মাস বা বছরের হিসেবে বিদ্যমান থাকে না। অক্ষত থাকে ৪০০ বছরেরও অধিক সময়। প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের অন্যতম একটি প্লাস্টিকের তৈরি পানির বোতল। পরিত্যক্ত পানির বোতল শুধুমাত্র পরিবেশ না, ঝুঁকিতে ফেলে আমাদের স্বাস্থ্যও। তবে এ সমস্যা থেকে উত্তরণে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব পরিবেশ থেকেই। আর সেটি নিয়েই কাজ করছেন সিসিডি বাংলাদেশের ইয়ুথ লিডার ও তরুণ উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান হাবিব।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জাতিসংঘের ২৬ তম জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে ‘রিপ্লেস ওয়েস্টেজ উইথ ন্যাচার’ প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত শুরু হয়েছে। দা হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে হাবিব ও তার টিম রাজশাহীর ৫ তরুণকে নিয়ে ২ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজনও সম্পন্ন হয়েছে। কর্মশালায় পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিকের পরিবর্তে বাঁশের বোতল তৈরির প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তরুণরা বাঁশের বোতলের সহজলভ্যতা বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজ অব্যাহত রেখেছে। প্রশিক্ষিত তরুণরা বাঁশের বোতল তৈরির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বসাধারণের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রচার করছে।
জানতে চাইলে তরুণ উদ্যোক্তা হাবিব বলেন, তাৎক্ষনিক পিপাসা মেটাতে বাজারে সহজলভ্য প্লাস্টিক পানির বোতল আমাদের সবার পছন্দ। কিন্তু এর ব্যবহারের ফলে আমাদের পরিবেশকে প্রায় ৪০০ বছর ধরে এই আবর্জনা টেনে খেসারত দিতে হচ্ছে। শুধু পরিবেশই না, এতে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রাও থাকে অনেক বেশি। কিন্তু আমরা প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার না করে বাঁশের বোতল ব্যবহারের মাধ্যমে কিছুটা হলেও পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রাও কমাতে পারি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বাঁশ একটি অতি পরিচিত এবং সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাঁশের বোতল বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করলেও বাংলাদেশে উদ্যোগের অভাবে এটি তেমন একটি পরিচিতি পায়নি। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে একদিকে যেমন এটি প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার কমাতে সহায়তা করবে অন্যদিকে এটি মানব শরীরের জন্যও বেশ উপকারী হবে। এই ভাবনা থেকেই প্রকল্পে বাঁশের বোতলের সহজলভ্যতা বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ৫ জন প্রশিক্ষিত তরুণকে নিয়ে বাঁশের বোতল তৈরির পাশাপাশি ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরির করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ কাউন্সিল বিশ্বব্যাপী তরুণ সংগঠকদের নিয়ে আয়োজিত ‘কপ ২৬ চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ এ প্রকল্প আইডিয়া জমা দিয়ে ফান্ড বিজয়ী হয়েছেন সিসিডি বাংলাদেশের ইয়ুথ লিডার হাবিবুর রহমান হাবিব। বর্তমানে এই প্রজেক্ট নিয়েই কাজ করছেন তরুণ উদ্যোক্তা হাবিব।

আগস্ট ১০
০৪:০০ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]