Daily Sunshine

জয়পুরহাটে সুখে বাস করছে ৩০১ গৃহহীন

Share

মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট: মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় জয়পুরহাটে ৩০১ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার উপহার পেয়েছে নান্দনিক ঘর। এসব ঘরে রয়েছে আধুনিক ও উন্নত জীবনযাপনের সকল সুযোগ সুবিধা। ঠাই ঠিকানাহীন মানুষের এতে বদলে গেছে জীবনযাত্রা।
জেলা প্রশাসন বলছে, জেলার সব ঘরগুলো হয়েছে শতভাগ মানসম্পন্ন। আর ঘর নির্মাণে কোন অভিযোগও নেই সুবিধাভোগিদের। আর তাদের জীবনমান উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। তাইতো নজরকারা এমন ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা এসব হতদরিদ্র মানুষরা।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে জয়পুরহাটের ৫টি উপজেলায় দুই ধাপে ঘর পেয়েছে ৩০১ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। যারা কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি পাকা বাড়িতে ঘুমাতে পারবেন। সেই স্বপ্ন তাদের সত্যি করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই শতক খাস জমিসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট এসব ঘরে আধুনিক জীবনযাপন করছেন তারা।
নজরকাড়া এসব ঘরে রয়েছে পানি ও বিদ্যুৎসহ প্রতিটি গৃহে ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে ও সবুজ টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি দুটি কক্ষ, একটি রান্না ঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা। এসব ঘর পেয়ে খুশির শেষ নেই যেন তাদের।
পাঁচবিবি উপজেলার বারোকান্দী গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধি আবু মুসা বলেন, আমার একটি চোখ অন্ধ। ঘর বাড়ি ছিল না। ভারী কোন কাজও করতে পারতাম না। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একটি বাড়ি করে দিয়েছেন, বাড়ির সামনে কিছুটা জায়গাও দিয়েছেন। সেই জায়গায় আমি একটি দোকান করেছি। এখন পরিবার নিয়ে অনেক ভাল আছি।
একই গ্রামের শাহারুল ইসলাম বলেন, পাকা বাড়িতে কোনদিন ঘুমাতে পারবো তা স্বপ্নেও ভাবিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। আমাদের বাড়ির কাছেই বাজার রয়েছে, তাই কোন অসুবিধা আমাদের হয়না। ঘরগুলো অনেক সুন্দর হয়েছে। আমার স্ত্রীকে একটি সেলাই মেশিনও দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।
সাইরা বেগম নামে এক সুবিধাভোগি বলেন, নিজের জায়গা-জমি, ঘর-বাড়ি কিছুই ছিলনা। অনেক কষ্টে একমাত্র মেয়ের বিয়ে বিয়ে দিয়েছিলাম তার জামাইও মারা গেছে। এমন অবস্থায় বিধবা মেয়ে ও ৪ বছর বয়সী নাতিকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাতাম। তবে এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একটি ঠিকানা করে দিয়েছেন, ঘরের কাজও ভাল হয়েছে। এখন আমি সুখে আছি। প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি।
সদর উপজেলার খাসবাট্টা গ্রামের রাজিয়া বেগম বলেন, ঘর বাড়ি না থাকায় মানুষের বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটা বাড়ি করে দিয়েছে। আমার বাড়ির পাশের জায়গাতে শাক-সবজি লাগিয়েছি। পরিবারের কষ্ট এখন দুর হয়েছে। একই গ্রামের রুপালী রবিদাস বলেন, আমার ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ। মানুষ আমাদের এমনিতে ছোট চোখে দেখে। এর উপর আবার ঘর বাড়ি কিছুই ছিলনা। মানুষ আমাদের কোন মুল্যায়নই করতো না। এখন পাকা বাড়ি পেয়ে মানুষ মুল্যায়ন করে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম জানান, নিয়মিত তদারকি ও আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার কারণে ঘরের নির্মাণ কাজ শতভাগ মান সম্পন্ন হয়েছে। ঘর নির্মাণে সুবিধাভোগিরা কোন অভিযোগও করেনি।
তিনি জানান, এ ঘর নির্মাণ করেই শুধু শেষ নয়। তাদের আয় বর্ধনমুলক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়াও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সেখানে রাস্তা, পানির ড্রেন, পয়ংনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বাচ্চাদের স্কুল, মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব ভূমিহীনরা এখনো ঘর পাননি, তাদের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আগামীতে বরাদ্দ স্বাপেক্ষে তাদেরও ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।

আগস্ট ১০
০৩:৩৮ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]