Daily Sunshine

২৫০ বেড বাগড়া ডেন্টাল ইউনিট

Share

রাজু আহমেদ : আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে এরই মধ্যে ১০০ বেডের দ্বিতল রাজশাহী সদর হাসপাতালের অবকাঠামো সংস্কারে কাজ চলমান রয়েছে। অবকাঠামো সংস্কার, সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন সহ জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি রোগিদের সেবার জন্য চালু করতে অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে। থাকবে ১৫টি আইসিইউ বেড। তবে হাসপাতালের দ্বিতল ভবনের নিচ তলায় পরিচালিত ডেন্টাল ইউনিটটি যথারীতি চালু থাকছে।
এদিকে ডেন্টাল ইউনিট সরানো সম্ভব হলে হাসপাতালটিকে ১০০ বেড থেকে আড়াইশ (২৫০) বেডে উন্নিত করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। আগামীতে এধরণের পরিকল্পনাই রয়েছে স্থানীয় সিভিল সার্জনের। ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুসারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা হচ্ছে।
২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান অবকাঠামো সংস্কার কাজের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ডগুলোর ভবন সংস্কার, ইলেকট্রিক লাইন সংস্কার ও জেনারেটর স্থাপনের কাজ। এই কাজটি করছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স কন্সট্রাকশন। আর আগামী তিন মাসের মধ্যে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ওয়ার্ডগুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ সহ হাসপাতালের পেছনের জায়গায় স্থাপন করা হবে বিশাল সিলিন্ডার।
এই কজটি করছে স্পেক্ট্রা অক্সিজেন লিমিটেড। পুরো কজের তত্ত্ববাধন করছে গণপুর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জন। হাসপাতালটি চালু হলে তা স্থানীয় সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে।
ব্রাদার্স কন্সট্রাকশনের পরিচালক সৈয়দ জাকির হোসেন জানান, ইজিপি’র মাধ্যমে সিভিল ও ইলেকট্রিক ইউনিট সংস্কারের কাজ পেয়েছে ব্রাদার্স কন্সট্রাকশন। কাজটির দুই কোটি ৩৩ লাখ টাকার। চুক্তিমতে আগামী দুই মাসের মধ্যে সিভিল ও ইলেকট্রিক কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে। সেই হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ব্রাদার্স কন্সট্রাকশনকে কাজ বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে।
রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের একটি সূত্রের দেয়া তথ্য মতে, ১০০ বেডের রাজশাহী সদর হাসপাতালটি চালু করা গেলে হাসপাতালটি প্রথমিক ভাবে করোনা রোগিদের চিকিৎসা দেয়া হবে। নিচ তলায় ডেন্টাল ইউনিট যথারিতি চালু থাকবে। যেখানে ১০ টাকার বিনিময়ে দাঁতের সমস্যা নিয়ে আসা রোগিদের চিকিৎসা দেয়া হয়। এদিকে দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সদর হাসপাতালটিকে সাধারণ রোগিদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে।
আড়াইশ বেড চালু করতে হলে হাসপাতালটিতে আরো জায়গার প্রয়োজন পড়বে। এর জন্য হাসপাতালটির নিচতলায় অবস্থিত ডেন্টাল ইউনিট সরাতে হবে। পরিকল্পনা অনুসারে পৃথক স্থানে ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের জন্য স্বাস্থ মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।
রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার জানান, আমরা বর্তমানে হাসপাতালটি চালু করার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করছি। সেই অনুসারে কাজ চলছে। ১০০টি বেড নিয়ে হাসপাতালটি আগামী ৩ মাসের মধ্যে চালু করা যাবে বলে আমরা আশা করছি। একটি হাসপাতালে বেডের ওপর নির্ভর করে ওই হাসপাতালের জনবলের সংখ্যা। এটি সরকার নির্ধারিত। ১০০ বেডের রাজশাহী সদসর হাসপাতালে সেই নিয়ম অনুসারেই ডাক্তার, নার্সসহ জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।
হাসপাতালটিকে ১০০ বেড থেকে আড়াইশ বেডে উন্নিত করার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আড়াইশ বেড চালু করতে নির্ধারিত জায়গা সঙ্কুলানের বিষয় রয়েছে। একটি হাসপাতালে আড়াইশ বেড চালু করা গেলে সেখানে অধিক সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুবিধা থাকে। সদর হাসপাতালের নিচ তলায় পৃথক ডেন্টাল ইউনিট রয়েছে। তবে এই মুহুর্তে আমরা হাসপাতালটি সুন্দর ভাবে চালু কারা নিয়েই ভাবছি।
রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা জানান, আপনারা কি মনে করেন রাজশাহী মানুষের চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই পর্যাপ্ত? সদর হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আমরা এই হাসপাতাল চালু করছি, যা রাজশাহীর অন্যতম চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে পরিণত হবে। এর জন্য যতধরণের সহযোগীতা প্রয়োজন মানুষের কথা চিন্ত করে আমি করছি। স্থানীয় সিভিল সার্জন ও মানুষে পক্ষ নিয়ে সরকারের সাথে যত ধরণের লিয়াজো প্রয়োজন আমি তা করবো। সদর হাসপাতাল চালু করা গেলে আগামীতে এই হাসপাতাল ১০০ শয্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে আড়াইশ ডেবে উন্নিত করা হবে। সে ধরণের অবকাঠামো আমাদের রয়েছে।
সদর হাসপাতালের ইতিহাস: তৎকালীন সময়ে আধুনিক চিকিৎসাসেবাকে সহজলভ্য ও মানুষের মাঝে পরিচিতি ঘটিয়েছিল ঐতিহ্যবাহী ‘রাজশাহী সদর হাসপাতাল’। স্থানীয় জমিদারের সহায়তায় ব্রিটিশ আমলে রাজশাহী নগরীর হেতেম খা এলাকায় ১৯০২ সালে সদর হাসপাতালের ভবনটি স্থাপন করা হয়। সেসময় হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা ছিল অপ্রতুল এবং দুর্লভ। নবনির্মিত লাল বর্ণের সেই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পেতে রাজশাহী সহ আশপাশের অন্তত ২০টি জেলার মানুষ ছুটে আসতেন।
সদর হাসপাতালে সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথা ব্যথা ইত্যাদি রোগের ফ্রি চিকিৎসা দেয়া হতো। এভাবে কালের পরিক্রমায় এক পর্যায়ে ১৯৩৮ সালে হাসপাতালটির নামকরণ করা হয় ‘রাজশাহী সদর হাসপাতাল’। নামকরনের পর এই হাসপাতালে মেডিসিন, নাক, কান, গলা, হাড় জোড়া, ডেন্টাল, গাইনি ইত্যাদির পাশাপাশি অপারেশন সেবাও দেয়া শুরু হয়।
পাকিস্তান আমলে ১৯৫৮ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল স্থাপিত হওয়ার ফলে সদর হাসপাতালে চালু থাকা চিকিৎসা সেবাগুলো নতুন হাসপাতলে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকেই সদর হাসপাতাল চিকিৎসা সেবায় দেয়ায় পিছিয়ে পড়তে থাকে।
২০০৪ সালের দিকে সদর হাসপাতালে অন্য সকল রোগের চিকিৎসা বন্ধ করে শুধুমাত্র ডেন্টাল ইউনিটটি চালু রাখা হয়। বর্তমানে সদর হাসপাতালে ডেন্টাল ইউনিটের কার্যক্রম চালু রয়েছে। এভাবেই কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যায় ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সদর হাসপাতালের অতীত ঐতিহ্য। তবে আশার কথা, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি এবং করোনা মহামারীর মধ্যে রাজশাহীতে আরো একটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় সদরহাসপাতাল আবারও চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়।

আগস্ট ০৯
০৫:২২ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]