Daily Sunshine

উৎসবমুখরে গণটিকা কার্যক্রম

Share

স্টাফ রিপোর্টার : উৎসবমুখর পরিবেশে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ব্যবস্থাপনায় মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ৮৪টি কেন্দ্রে শনিবার থেকে একযোগে করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচি চলবে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত। শনিবার দুপুরে নগরীর দুইটি টিকা প্রদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন।
পরিদর্শন শেষে রাসিক মেয়র লিটন সাংবাদিকদের বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ৮৪টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে দ্ইুজন টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মী ও তিনজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত আছে। আমরা সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। করোনা থেকে মুক্তি পেতে টিকা গ্রহণের বিকল্প নেই, নাগরিকরা সেটি বুঝতে পেরেছেন। এ জন্য টিকা নিতে মানুষের আগ্রহও অনেক বেড়েছে।
মেয়র আরো বলেন, আমাদের প্রশিক্ষিশত স্বাস্থ্যকর্মীরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রেও টিকা প্রদান কার্যক্রমে নিয়োজিত আছে। টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে রাজশাহী মহানগরীর সকল নাগরিককে টিকার আওতায় আনা হবে। কোন নাগরিক টিকা নিতে বাকি থাকবে না। আশা করি, আমরা করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবো।
শনিবার দুপুরে প্রথমে রাসিকের ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় টিকা প্রদান কেন্দ্র পরিদর্শনে যান তিনি। পরিদর্শনকালে টিকা প্রদান ও কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন মেয়র। পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ ব্যাপারে ব্রিফিং করেন। পরিদর্শনকালে ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আনোয়ার হোসেন আনার ও ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন সহ সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিরর ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, ৭ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৬দিনের এই ক্যাম্পেইনে এক লাখ ৫০ হাজার মানুষকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতিদিন ২৫ হাজার জনকে মর্ডানার প্রথম ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা রেজিস্ট্রেশন করে টিকা নিতে পারবেন। টিকাদান কেন্দ্রে বয়োজ্যষ্ঠ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পেইন চলাকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্র (স্থানঃ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ), পুলিশ হাসপাতাল কেন্দ্র, আইডি হাসপাতাল কেন্দ্র, সিএমএইচ রাজশাহী কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
৩০টি ওয়ার্ডের করোনা টিকাদান কেন্দ্রগুলো হলো: ১নং ওয়ার্ডে গোলজারবাগ উচ্চ বিদ্যালয়, রায়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়ার্ড নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ২নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয়, নগরপাড়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ওয়ার্ড নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৩নং ওয়ার্ডে ডি.বি আনোয়ারা স্কুল বহরমপুর, শিক্ষা স্কুল এন্ড কলেজ দাসপুকুর। ৪নং ওয়ার্ডে কেশবপুর ভেড়ীপাড়া সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ৪নং ওয়ার্ড কার্যালয়, ওয়ার্ড নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৫নং ওয়ার্ডে মহিষবাথান আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হেলেনাবাদ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। ৬নং ওয়ার্ডে প্যারামেডিকেল ইন্সস্টিটিউট, লক্ষীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৭নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয় (ঝাউতলা), ডায়াবেটিস হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউট, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৮নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয়, গভঃ ল্যাবরেটরী হাই স্কুল। ৯নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয়, শাহ মুখদুম দরগা মাদ্রাসা। ১০নং ওয়ার্ডে হাতেম খাঁ কলাবাগান আজিজার রহমান সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, হাতেম খাঁ মুসলিম হাই স্কুল।
১১নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয়, গার্লস স্কুল, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১২নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয়, মসজিদ মিশন একাডেমী স্কুল, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৩নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ দড়িখরবোনা প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ নজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৪নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয়, তেরখাদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৫নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয় (দড়িখরবোনা), শহীদ এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজ, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৬নং ওয়ার্ডে বখতিয়ারাবাদ শিশু বিকাশ প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মথুরডাঙ্গা মহিলা কাউন্সিলরের কার্যালয়, আটকোষী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৭নং ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কার্যালয়, নওদাপাড়া আওয়ামী লীগ অফিস, তিলোত্তমা স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৮নং ওয়ার্ডে মেট্রোপলিটন ডিগ্রী কলেজ, অন্নদা সুন্দরী প্রাথমিক বিদ্যালয় (ম্যাচ ফ্যাক্টরী), গোল্ডেন স্টার প্রি-ক্যাডেট স্কুল, আসাম কলোনী, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৯নং ওয়ার্ডে শিরোইল কলোনী ওয়ার্ড কার্যালয়, ছোটবনগ্রাম ওয়ার্ড কার্যালয়, শিরোইল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়, শিরোইল কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোটবনগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০নং ওয়ার্ডে কৃষ্ণকান্ত সঃ প্রাঃ বিদ্যালয় সুলতানাবাদ, রানীবাজার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
২১নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয়, সূর্যকণা স্কুল। ২২নং ওয়ার্ডে রাজশাহী বি.বি হিন্দু একাডেমী (২টি কেন্দ্র), ২৩নং ওয়ার্ডে শাহমুখদুম কলেজ, আহমদপুর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ২৪নং ওয়ার্ডে জাতীয় তরুন সংঘ একাডেমী, রামচন্দ্রপুর ও জনকল্যান সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, বাজেকাজলা। ২৫নং ওয়ার্ডে খাদেমুল ইসলাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, ২৫নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয় (তালাইমারী) ও সিটি হাসপাতাল। ২৬নং ওয়ার্ডে নামোভদ্রা সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ (পদ্মা আবাসিক), ২৬নং ওয়ার্ডে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শমসের মোন্ডলের মোড়। ২৭নং ওয়ার্ডে বালিয়াপুকুর বিদ্যানিকেতন ও ওয়ার্ড কার্যালয়, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ২৮নং ওয়ার্ডে কাজলা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ধরমপুর সমসের মোল্লা বেসরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ২৯নং ওয়ার্ডে ডাঁশমারী উচ্চ বিদ্যালয়, সিডিসি ক্লাসটার অফিস ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৩০নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয় ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার, ৩০নং ওয়ার্ড নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র।
এদিকে টিকা নেয়াদের সংখ্যা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কাজে এসেছে গণটিকা কর্মসূচি। টিকা নেয়ায় এগিয়ে প্রান্তিকের মানুষ।করোনা প্রতিরোধে গণটিকা কর্মসূচির প্রথম দিন রাজশাহী বিভাগে ৮টি জেলায় প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৫২ জন। অথচ বৃহস্পতিবার এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৬ হাজার।
বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে রাজশাহী জেলায় টিকা নিয়েছেন সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ। সংখ্যার হিসেবে যা ৮০ হাজার ৭৪ জন। যার মধ্যে ৯টি উপজেলায় নিয়েছেন ৪৭ হাজার ৬৪২ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় নিয়েছেন ৩২ হাজার ৪৩৬ জন। বৃহস্পতিবার বিভাগে প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন ২৬ হাজার ৫৪০ জন। যার মধ্যে রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় নিয়েছিলেন ৩ হাজার ১৯ জন এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় নিয়েছিলেন ৫ হাজার ১৬০ জন।
পবায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় টিকা গ্রহণ : ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় সারা দেশের মত টিকা গ্রহণ করেছেন রাজশাহীর পবা উপজেলাবাসী। ৮৪ বছরের বৃদ্ধা থেকে শুরু করে মাঝবয়সিরা টিকা নিয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে ১০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ছয় হাজার নারী-পুরুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে টিকাদান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের ভিজিলেন্স টিম বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
সরোজমিন শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে নওহাটা পৌরসভায় নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই টিকাদানের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান। হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে দেখা হয় প্রায় ৮০ বছরের বৃদ্ধা রহিমা বেগম। তিনি হরিয়ান গ্রামের সোলাইমান আলীর স্ত্রী। টিকা নেওয়ার তিনি বলেন, ‘বাপুরে এত ভীড়। অনেকে লাইনে ছিলেন, তবে আমার বয়স বেশী হওয়ায় আমাকে আগেই টিকা দিলেন। কোনো সমস্যা অনুভব করিনি। আমার খুব ভালো লেগেছে’।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক টিকা নিতে আসা একজন বলেন, আসলেই উৎসবমুখর পরিবেশ। সত্যি কথা বলতে কি বিগত কয়েকটি নির্বাচনেও এত মানুষের ভীড় দেখা যায়নি। হরিয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, কয়েকদিন থেকে প্রচারণা চালানো হয়, মাইকিং করা হয়েছে।
উপজেলার অনেকটা দুরের ইউনিয়ন দর্শনপাড়া। ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে দেখা হয় অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান রাজের সাথে। তিনি বলেন, উৎসবমুখর আমেজে টিকা নিচ্ছে জনগণ। শৃংখলাবদ্ধভাবে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা টিকা নিয়েছেন। ওই কেন্দ্রে পরিদর্শনে আসেন পবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাবেয়া বসরী। উপস্থিত ছিলেন আরএমপি কর্ণহার থানা অফিসার্স ইনচার্জ আনোয়ার আলী তুহিন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাবেয়া বসরী বলেন, এই উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে ভাল ভাবে টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অসুবিধা হয়নি। তিনি বলেন, এটা কোভিড থেকে রক্ষার অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।
পবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী জানান, টিকা গ্রহণ ও প্রদানে কোন ধরণের ব্যত্যয় যাতে না ঘটে তার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতার জানান, তিনি নিজে ও সহকারি কমিশনার ভুমি শেখ এহসান উদ্দীনসহ ভিজিলেন্স উপজেলা সবকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

আগস্ট ০৮
০৪:৫১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]