Daily Sunshine

রাজশাহীতে টিকা শেষ হওয়ায় এক কেন্দ্রে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ টিকাদান কেন্দ্রে শনিবার সকাল সাতটা থেকেই মানুষের উৎসবমুখর উপস্থিতি ছিল। টিকাদান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল সকাল ৯টা। তবে বেলা ১১টার দিকে ঘোষণা এল টিকা শেষ। সঙ্গে সঙ্গে উৎসব বিশৃঙ্খলায় পরিণত হলো। শুরু হলো হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি। থামাতে গিয়ে পুলিশ পর্যন্ত হিমশিম খেল।
বিশৃঙ্খলার কারণে স্বাস্থকর্মীরা বুথ ফেলে সরে যান। পড়ে থাকে টিকার সরঞ্জাম। শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ মানুষ টিকা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান। তাঁরা সবাই প্রথম ডোজের টিকা নিতে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ডোজের টিকায় কোনো সমস্যা হয়নি। রাজশাহীর অন্য কোনো কেন্দ্রে এ ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন বলছে, ভুল বুঝে মানুষ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে চলে গিয়েছেন। তাঁদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে টিকা দেওয়ার কথা। এটা তাঁরা বুঝতে ভুল করেছেন।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে গেছেন। দীর্ঘ লাইন কলেজ কেন্দ্রের বাইরে চলে এসেছে। রাস্তায় লাইন দাঁড়ানোর কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রে টিকা নেওয়ার কাজে সহযোগিতা করছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও রোভার স্কাউটের স্বেচ্ছাসেবীরা।
বেলা ১১টার দিকে রেড ক্রিসেন্টের একজন কর্মী বাইরে এসে ঘোষণা দেন, টিকা শেষ হয়ে গেছে। এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাঁরা রেড ক্রিসেন্টের ওই কর্মীকে ধরার চেষ্টা করেন। এতে তিনি হেনস্তার শিকার হন। সেই সময় আরেকজন কর্মী এসে বলেন, ‘আপনাদের যা বলার সিটি করপোরেশনকে বলেন। আমাদের কিছু করার নেই।’
এরপর উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। ধাক্কাধাক্কি সামলাতে গিয়ে পুলিশের একজন সদস্য লাঞ্ছিত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এক যুবককে আটক করে নগরের রাজপাড়া থানায় ধরে নিয়ে যায়। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর বুথগুলোতে ঢুকে দেখা যায়, টিকার সরঞ্জাম পড়ে রয়েছে। কোনো কোনো বুথে স্বাস্থ্যকর্মী আছে, কোনোটিতে নেই। ভেতরে ঢুকে মানুষ জানতে চাচ্ছেন তাঁরা কী করবেন, এর জবাব দেওয়ার কাউকে পাওয়া যাচ্ছেন না। এই ঝামেলায় পড়ে ৭ ও ৮ নম্বর বুথের একজন নারী স্বাস্থ্যকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি টেবিলে মুখ গুঁজে রয়েছেন। কিছুতেই তিনি মুখ তুলছেন না। মানুষ তাঁর টেবিলের চারপাশে ঘিরে রয়েছে।
কাজল কুমার নন্দী নামের একজন পুলিশ সদস্য হ্যান্ডমাইকে বলছিলেন, ১৬ থেকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের যাঁরা আছেন, তাঁরা তাঁদের ওয়ার্ডের কেন্দ্রে চলে যান। সেখানে টিকা দেওয়ার সুব্যবস্থা করা আছে। আপনারা ভুল করে এসেছেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্র (টিচার্স ট্রেনিং কলেজ), পুলিশ হাসপাতাল কেন্দ্র, আইডি হাসপাতাল কেন্দ্র, সিএমএইচ রাজশাহী কেন্দ্র থেকে। কিন্তু টিকা দেওয়া হবে প্রতিটি ওয়ার্ডে। কোনো ওয়ার্ডে দুটি, কোনো ওয়ার্ডে তিনটি পর্যন্ত কেন্দ্র করা হয়েছে। মানুষ না বুঝে নিবন্ধন করা কেন্দ্রে চলে গেছেন।
আঞ্জুমান আরা বেগম আরও বলেন, দুপুর ১২টার দিকে তিনি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানে যে পরিমাণ মানুষ আছে, তাঁদের সবাইকে টিকা দেওয়া হয়। তিনি সেখানে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ ডোজ টিকা পাঠান।
রাজশাহী নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ৮৪টি কেন্দ্রে একযোগে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচি চলবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত। ৬ দিনের এই ক্যাম্পেইনে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন ২৫ হাজার জনকে মডার্নার প্রথম ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। তবে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সীদের পরিবর্তে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের টিকা প্রদান করা হবে।

আগস্ট ০৮
০৪:৫২ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]