Daily Sunshine

টিকা নিতে গ্রামে গ্রামে উৎসবের আমেজ

Share

আসাদুজ্জামান মিঠু: রাজশাহীর তানোর উপজেলার একেবারে প্রত্যান্তঞ্চল হিসাবে পরিচিত ময়েনপুর গ্রাম থেকে হাতে নিজের এনআইডি টি সঙ্গে নিয়ে শনিবার খুব ভোরে মুন্ডুমালা পৌরসভায় টিকা এসেছিলেন ৭৫ বছর বয়সী নজরুল ইসলাম। পৌরসভার টিকাদান কর্মসূচি কেন্দ্রে প্রথমেই তিনি টিকা গ্রহন করেন।
করোনার ভয়ংকার ছুবলে দেশে যখন প্রতিদিনই শত শত প্রাণ হারাচ্ছে ঠিক তখনই জীবন বাচানোর প্রথম ডোজ টিকা পেয়ে নজরুল ইসলামে চোখে মুখে ছিল উৎসহ উদ্দীপনা বেচে থাকার নতুন স্বপ্ন।
প্রথম ডোজ টিকা পেয়ে বেচে থাকার নতুন স্বপ্ন শুধু ময়েনপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের একাই নয়,উপজেলার প্রত্যান্তঞ্চলে শতশত মানুষ টিকা নিতে উৎসহ উদ্দীপনা দেখা গেছে।
দেশব্যাপী ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে গণটিকার কার্যক্রম অংশ হিসাবে রাজশাহী ও আশেপাশের জেলার উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে একটি করে টিকাদান কেন্দ্র করা হয়েছে।
গণটিকার প্রথম দিনে, ৪৭ হাজার ৬৪২ জন রাজশাহী জেলায় টিকা নিয়েছেন। বিভাগে নিয়েছেন ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭২ জন।
তানোর উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে তিনটি করে ও দুইটি পৌরসভায় একটি করে টিকাদান কেন্দ্র করা হয়েছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে ২০০ জন করে টিকা দেয়া হয়।
শনিবার এ কর্মসুচি চলার সময় কয়েকটি টিকা কেন্দ্রে পরিদর্শন করে মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান।
পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, একযোগে দেশব্যাপী টিকা দান কর্মসুচি করা শুধু মাত্র মামনীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা দক্ষতার কারণে এতো দ্রত সম্ভব হয়েছে। গ্রামের অনেক বয়স্ক ব্যাক্তিরা সহজে টিকা পেয়ে মাননীয় প্রধামন্ত্রীর জন্য প্রাণখুলে দোয়া করছেন।
এর আগে শনিবার সকালে গণটিকার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে মুন্ডুমালা পৌরসভায় টিকা কেন্দ্র উদ্ধোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসর পংকজ চন্দ্র দেবনাথ। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বার্নাবাস হাসদা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পংকজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন,উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন তিনটি করে দুইটি পৌরসভায় একটি করে টিকা কেন্দ্র করা হয়েছিল। ২৩টি কেন্দ্রে চার হাজার ৫৯৩ জন ব্যাক্তিকে প্রথম দিন এক যোগে টিকা দেয়া হয়েছে। গ্রামের মানুষ অতি সহজে টিকা নিতে পেরে অনেক খুশি।
পোরশা: নওগাঁর পোরশা উপজেলায় করোনা টিকা নিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী ও পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হামিদ রেজা’র দায়িত্বশীল প্রচারে মানুষের মধ্যে টিকাভীতি দুর হয়েছে।
পোরশা উপজেলায় স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের আয়োজনে নিতপুর সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সকাল ১০টায় কোভিড-১৯ এর টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী ও পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হামিদ রেজা।
গণটিকা দেয়ার প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। বেশিরভাগের মধ্যে টিকাভীতিও কেটেছে। গণটিকা নিয়ে কয়েকদিন ধরে উপজেলা প্রশাসন নানান ধরনের প্রচার চালিয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পোরশা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজীবুল ইসলাম, পোরশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান, নিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম চৌধুরী প্রমুখ।
এদিকে, করোনা ভাইরাস যখন সর্বোচ্চ সূচকে, তখন ভ্যাকসিন উন্মুক্ত করে দিয়েছে সরকার। গতকাল শনিবার ছিল এ গণটিকা প্রদানের প্রথম দিন। রাজশাহী নওগাঁ নাটোর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জয়পুরহাট সহ বিভিন্ন জেলার প্রায় সব উপজেলায় করোনার টিকা দানের জন্য গণকেন্দ্র স্থাপন করে তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার সব ইউনিয়নেও স্থাপন করা হয়েছে টিকাদান কেন্দ্র।
সকালে এসব কেন্দ্রে বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসক উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আনুষ্ঠানিক ভাবে টিকা কার্যক্রমের শুরু করেন। এর আগে প্রশাসনের পক্ষে গত কয়েকদিন ধরে গণ টিকার জন্য প্রচারণা চালানো হয়েছে।
ফলে সব কেন্দ্রেই সকাল থেকেই ঢল নেমে আসে মানুষের। ভোটদানের মতো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়েছেন সব বয়সী মানুষ। বলতে গেলে খানিকটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল টিকা কেন্দ্রে টিকা কেন্দ্রে। এ নিয়ে সানশাইন প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
নওগাঁ: নওগাঁতেও শুরু হয়েছে গণটিকাদান কার্যক্রম। সকাল ৯টা থেকে জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নে ও ৩টি পৌরসভায় মোট ১১৩টি কেন্দ্রে এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে তা চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে একদিনের জন্য এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন, নওগাঁ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড, ধামইরহাট পৌরসভার ৩টি কেন্দ্র ও নজিপুর পৌরসভায় দুইটি কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ৭০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী মাধ্যমে এই কর্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ, পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
নাটোর: নাটোরে ইউনিয়ন পর্যায়ে ভ্যাকসিন প্রদানের প্রথম দিনেই অব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের ৩টি করে ওয়ার্ডে ৬শ জনকে ভ্যাকসিন প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে দেয়া হচ্ছে শুধুমাত্র একটি ওয়ার্ডেরই ৬শ জনকে। সকাল পৌনে নয়টায় নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের শিবদুর গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিকা দানের উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম কেন্দ্রে আসেন প্রায় সোয়া নয়টায়। এর প্রায় দেড় ঘন্টা আগে টিকা প্রত্যাশিরা এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেখানে জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্বাস্থ্যবিভাগের লোকজন উপস্থিত হয়েছিলেন। পরে সাংসদ টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর সবাইকে সুশৃংক্ষলভাবে টিকা গ্রহণের পরামর্শ দেন। দেরিতে উদ্বোধন প্রসঙ্গে সাংসদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ঠিক সময় বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তা খারাপের কারণে কেন্দ্র পর্যন্ত গাড়ি আসেনি। হেঁটে আসতে সময় লেগেছে।
জেলায় ৩১ হাজার ২শ জনকে দুই ডোজ করে মোট ৬২ হাজার ৪০০ জন পাবেন ভ্যাকসিন। তবে পর্যায়ক্রমে সকলেই পাবেন ভ্যাকসিন।
মান্দা: নওগাঁর মান্দায় গণটিকাদান কেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে টিকা নিতে কেন্দ্রগুলোতে নারী-পুরুষরা দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে নির্ধারিত ডোজের বিপরীতে আগ্রহীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন হতাশ হয়ে। উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে একযোগে চলে টিকাদানের এ কার্যক্রম। নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ, জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রসাদপুর ইউনিয়নের গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি হাইস্কুল ও কলেজ, ভারশোঁ ইউনিয়নের ভারশোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঠিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু বাক্কার সিদ্দিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায়, মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান, গনেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডল, প্রসাদপুর ইউনিয়নের বেলাল হোসেন খান, ভারশোঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমনসহ স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ১৪ ইউনিয়নের ১৫টি কেন্দ্রের ৪৫টি বুথে একযোগে চলে টিকাদান কার্যক্রম। এদিন ৮ হাজার ৭০৩ জনকে প্রথম ডোজ এবং ৩৩৪ জনকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান করা হয়েছে।
ধামইরহাট: ধামইরহাটে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। সকাল ৯ টায় ধামইরহাট সরকারি এম এম কলেজে ও পরে উমার ইউনিয়নের ওয়ার্ডবাসীদের সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার এম.পি। এ সময় সুষ্ঠুভাবে টিকা প্রদানের লক্ষে ধামইরহাট পৌরসভার মেয়র আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে একাধিক স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে দেখা গেছে, পাশাপাশি উমার ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সু-শৃঙ্খল ভাবে টিকা নিতে টিকাকেন্দ্রে সহযোগিতা করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ধামইরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান আজাহার আলী, ইউএনও গনপতি রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিব্বির আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস।
পোরশা: পোরশা উপজেলার ইউনিয়ন গণটিকা কেন্দ্রগুলিতে নারি-পুরুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেকে টিকা নিতে সকাল থেকেই টিকা কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এ উপজেলার ছয় ইউনিয়নের ছযটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। টিকা কেন্দ্রে পুরুষের চেয়ে নারীদের সংখ্যা বেশী লক্ষ্য করা গেছে। তবে নিবন্ধন করেননি এমন ব্যক্তিরাও টিকা কেন্দ্র গেছেন। তবে অনেকে তাদের ভোটার আইডি কার্ড সাথে নিয়ে এসেছেন বলে জানাগেছে। তবে নিবন্ধন না থাকায় এবং নারি-পুরুষের সংখ্যা বেশী হওয়ায় টিকা না পেয়ে অনেকই বাড়ি ফিরে গেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমৃকর্তা ডা. মাহবুব হাসান জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ছয়টি কেন্দ্রে সকাল থেকে একযোগে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৬০০ জন করে টিকা পাবেন।
নিয়ামতপুর: নিয়ামতপুরে ইউনিয়নে গণটিকা কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। টিকা নিতে সকাল থেকেই কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাড়ান তারা। সকাল ৯টা থেকে টিকা গ্রহন শুরু হয়। পুরুষের চেয়ে নারীদের সংখ্যা ছিল বেশী। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারীয়া পেরেরা উপজেলার বিভন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সুষ্ঠুভাবে টিকাদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পূর্ব থেকেই আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ২শ জনকে টোকেন প্রদান করায় হয়রানীর শিকার হতে হয়নি।
পত্নীতলা: পত্নীতলায় উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ইউনিয়ন ভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা সদর নজিপুর পৌরসভার সিদ্দিকীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার। এসময় ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গাফফার, সহকারী কমিশনার ভূমি সানজিদা সুলতানা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ, পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল আলম শাহ, নজিপুর পৌরসভার মেয়র রেজাউল কবির চৌধুরী বাবু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজাতুল কোবরা মুক্তা, আরএমও ডা. দেবাশিষ। উপজেলার ১১টি ইউপি ও নজিপুর পৌরসভার ২৫বছর উর্দ্ধো বয়সী ৭ হাজার ৩ শজনকে এ টিকা প্রদান করা হবে। এবাদে পূর্বের ১ম ডোজ এ্যাসটেজেনিকা টিকা নেয়া ব্যক্তিদের ২য় ডোজ আগামী দুই দিন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স চত্বরে প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানাগেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নে ও ৪টি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একযোগে করোনা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। শিবগঞ্জ আসনের সাংসদ ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল এ কার্যক্রমের উদ্ধোধন করেন। শিবগঞ্জ পৌর ভবনে শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সৈয়দ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্ভিস ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়রা খান। জেলার ৪ টি পৌরসভা সহ ৪৫ টি ইউনিয়নে একযোগে ৬শ করে নাগরিককে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্ধোধন ঘোষণা করা হয়। এদিকে ক্যাম্পেইনের প্রথমদিন প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
গোমস্তাপুর: করোনা সংক্রমণ রোধে গোমস্তাপুরে ৪৭৯১ জন গণটিকা গ্রহণ করেছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় এ টিকা দেয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, টিকাকেন্দ্রে টিকাপ্রত্যাশীদের ছিল লম্বা লাইন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের সংখ্যাও। প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবকরা টিকা নিতে আসাদের সহযোগিতা করেছেন। গোমস্তাপুর উপজেলার টিকাকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার নজির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মাসুদ পারভেজসহ স্ব স্ব চেয়ারম্যানরা।
আক্কেলপুর: আক্কেলপুরে একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নে একযোগে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে কিছু টিকাদান কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় ও মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। তবে প্রশাসন বলছে, প্রতিটি টিকা কেন্দ্র আসা মানুষদের মাইক দিয়ে সচেতন করে টিকা নিতে বলা হচ্ছে। এ উপজেলায় ৬টি অস্থায়ী কেন্দ্র সিনোফার্ম টিকার প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬শ করে টিকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এ উপজেলায় এক দিনে ৩ হাজার ৬শ টিকা দেওয়া হয়।
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের ৫ উপজেলায় ৩২টি ইউয়িনে ৫০টি টিকা কেন্দ্র এবং জয়পুরহাট পৌরসভা ও পাঁচবিবি পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের টিকা কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়। প্রতিটি ইনিয়নে একটি করে টিকা কেন্দ্রে ৩টি করে বুথে রয়েছে। প্রতিটি বুথে দু’জন করে টিকাদানকারী টিকা প্রদান করেন। ইউনিয়ন কেন্দ্রে ১৯২ জন টিকাদানকারী টিকা প্রদান করেন এবং প্রতিটি কেন্দ্রের ৩টি বুথে ৩ জন করে ২৮৮ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন। এছাড়াও ২টি পৌরসভার ১৮টি কেন্দ্রে ৩৬ জন টিকাদানকারী টিকা দান করেন এবং প্রতি কেন্দ্রে ৫৪ জন স্বেচ্ছাসেবক ছিল। টিকা কর্মসূচি সফল করতে জেলায় মোট ২৩৬ জন টিকাদানকারী ও ৩৪২ জন স্বেচ্ছাসেবককে পূর্বেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন কেন্দ্রে একদিনে ৮শ’ জনকে ও প্রতিটি পৌরসভার ওয়ার্ডে ২৫০ জনকে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়। প্রথম দিনে ২২ হাজার ৮শ’ জনকে টিকা প্রদান কার্যক্রম চলে।

আগস্ট ০৮
০৪:৫১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]

সর্বশেষ