Daily Sunshine

করোনা মধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

Share

স্টাফ রিপোর্টার : বিগত কয়েক বছর ধরেই বর্ষা মৌসুমে বিশেষ করে জুলাই মাস থেকে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু নিয়ে দেশে আতঙ্ক দেখা দেয়। দুই বছর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে বেশ কিছু রোগি মারা যান। এসময় নড়েচড়ে বসেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয় আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসার জন্য, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড। আশার কথা এবছর রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগি শনাক্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও এডিস মশার প্রজনন রোধে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আক্রান্ত রোগি শনাক্ত হলে তাদের চিকিৎসায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক থাকার কথা উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষঞ্জরা জানিয়েছেন, করোনা মহামারির মধ্যে ডেঙ্গুর উপদ্রম দেখা দিয়ে হাসপাতালগুলোকে নতুন করে চ্যালেঞ্জর মধ্যে পড়তে হবে, তাই এখনই এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নিজনিজ বাড়ি ও আশপাশের আঙিনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোন অবস্থাতেই কোথাও পানি জমে থাকতে দেয়া যাবে না।
রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা আক্রান্ত রোগিদের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগিদের চিকিৎসা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এরই মধ্যে তারা হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড প্রস্তুত করছে ডেঙ্গু রোগিদের পৃথকভাবে চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য। এছাড়া মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। হাতে রয়েছে পর্যাপ্ত কিট ডেঙ্গু রোগিদের শনাক্ত করতে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার সাইফুল ফেরদৌস জানিয়েছেন, এটি একটি মশাবাহিত রোগ। রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগি শনাক্ত হয়নি ঠিকই, তবে আমাদের প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে। ময়লা-আবর্জনা সহ বাড়ি ও বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশা বংশবিস্তার করে। যা ডেঙ্গু মশা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এজন্য নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে সব সময়।
এদিকে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও এডিস মশার প্রজনন রোধে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে নগরভবনের সরিৎ দত্ত গুপ্ত সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সাথে নিজনিজ বাড়ি ও বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মেয়র।
সভায় জানানো হয়, মশা নিয়ন্ত্রণে অংকুরে বিনাস লারভা ও পিপা নিধন ব্লক ভিত্তিক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা, ডেঙ্গুরোগ প্রতিরোধ ও উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে ফগার মেশি স্প্রে, কীটনাশক স্প্রে, জঙ্গল আগাছা কর্তন ও ড্রেন পরিস্কার করে লারভী সাইড কীটনাশক স্প্রে করা হবে। জনসচেতনতার নগরীর সকল মসজিদে জুম্মার খুতবায় সচেতনতা বার্তা প্রদান করা হবে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হবে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিগত ১৫ মাস ধরে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছি। করোনা বিশ্ব তথা আমাদের দেশকে তছনছ করে দিয়েছে এই মহামারি। এমন পরিস্থিতিতে করোনার পাশাপাশি এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া রোগ বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। সরকার এ বিষয়ে সচেতন করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি প্রতিরোধে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাইকে নিয়েই রাজশাহীকে সুরক্ষিত রাখতে চাই।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য বিভাগের রয়েছে অনেক সাফল্য। সেই সাফল্যকে ধরে রাখতে হবে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও এডিস মশার প্রজনন রোধে নাগরিকদের সচেতন করতে বাড়ি বাড়ি বার্তা পৌছে দিতে হবে। এ কাজে কাউন্সিলরবৃন্দের ভূমিকা রাখতে হবে। স্বচ্ছ পানিতে থাকা এডিস মশার প্রজনন রোধে টব, ফ্রিজ, এসিতে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একইসাথে নির্মাণাধীন ভবনসমূহে জমে থাকা পানি অতি দ্রুততম সময়ে অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।
রাসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি, প্যানেল মেয়র-১ ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও এডিস মশার প্রজনন রোধে করণীয় বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম। সভায় বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) রাজশাহী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. নাজমা আখতার, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাজী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টুকু, প্যানেল মেয়র-৩ ও ১নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর তাহেরা খাতুন, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন, ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল হাসান বাচ্চু, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কামরুজ্জামান, ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম, ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ারুল আমিন, ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম তজু, ৩নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মুসলিমা বেগম বেলী, ৯নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর লাইলী বেগম, ৭নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর উম্মে সালমা, ৬নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর আয়েশা খাতুন, ৪নং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর শিরিন আরা, রাসিকের সচিব মশিউর রহমান, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মনিটরিং সাজ্জাদ আলী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় প্রস্তুতি ও কর্মসূচি প্রসঙ্গে কথা বলতে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাউয়ুম তালুকদারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আগস্ট ০৩
০৪:২৬ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]