Daily Sunshine

আড়াই হাজার শ্রমিকের টাকা ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন মাহাতাব

Share

স্টাফ রিপোর্টার: আগের কমিটি ২ হাজার ৪৪০ শ্রমিককে শেয়ার হোল্ডার বানিয়ে রাজশাহী মহানগরীতে নিয়েছিলেন ২টি জায়গা। ওই কমিটি শ্রমিকদের টাকা দেয়ার নাম করে একটি জায়গা বিক্রি করে আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাকি রয়েছে একটি জায়গা। ওই জায়গা ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান নেতৃবৃন্দ। রবিবার এ বিষয়ে নওদাপাড়া বাস টার্মিনালের মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিকরা জানান, আগের কমিটি ২ হাজার ৪৪০ জন শ্রমিককে শেয়ার হোল্ডার করে রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালের পাশে ৬ কাঠা ও খড়খড়ি এলাকায় সোয়া ১৮ কাঠা জমি ক্রয় করে। প্রতিজন শ্রমিকের শেয়ার মূল্য ধরা হয় ৫ হাজার ৩৭০ টাকা করে। জমি দুটো ক্রয় করার পরে আগের কমিটির নেতা কামাল হোসেন রবির নেতৃত্বে শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকার ৬ কাঠা জমিটির বিক্রি করে শ্রমিকদের টাকা না দিয়ে আত্মসাৎ করে।
এ ঘটনার পর থেকে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। তবে বর্তমান কমিটি নেতৃত্বে আসার পরে শ্রমিকদের এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী খড়খড়ি এলাকায় থাকা সোয়া ১৮ কাঠা জমিটি নিজের দখলে নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সাইনবোর্ড বসিয়ে ইউনিয়নের দখলে নেন। ওই জমিটি নিয়ে কি করা হবে তা নিয়ে রবিবার এ শ্রমিক সমাবেশ ডাকা হয়। সমাবেশে শ্রমিকরা জানান, জমিটি বিক্রি করে ২ হাজার ৪৪০ জনকে টাকা ফেরত দেয়া হোক।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী জানান, এটা শ্রমিকদের সম্পদ। শ্রমিকরা যা রায় দিবে তাই করা হবে। শ্রমিকদের রায় শোনার জন্য এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। শ্রমিকরা রায় দিয়েছেন যে ওই জমিটি বিক্রি করে তাদের অর্থ ফেরত দেয়া হবে।
শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যেই অনেক শ্রমিকই মারা গেছেন। শেয়ার হোল্ডারপ্রাপ্ত শ্রমিকদের যারা মারা গেছেন তাদের পরিবার-পরিজনদের হাতে সে অর্থ তুলে দেয়া হবে।
মাহাতাব হোসেন চৌধুরী আরো জানান, চলতি মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যায় এ পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হবে। শিরোইল বাস টার্মিনালের পাশে ৬ কাঠা জমি বিক্রি করে যে টাকা আগের কমিটির নেতৃবৃন্দ আত্মসাৎ করেছেন সে বিষয়ে শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের অর্থ কোনভাবেই আত্মসাৎ করতে দেয়া হবে না। শ্রমিকরা অনেক কষ্ট করে এ অর্থ আয় করে। এ বিষয়ে তারা মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তারা এবিষয়ে মামলা করবেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলী, কার্যকরী সভাপতি ওয়ালিউল্লাহ জিয়া, সহসভাপতি রফিক পাখি, সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক গাজি, সহসাধারণ সম্পাদক মানিক মোহন চৌধুরী গনেশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস, সুলতান, দপ্তর সম্পাদক পরিমল দাস, সহদপ্তর সম্পাদক শঙ্কর তরফদার, সাং, ক্রীড়া ও প্রচার সম্পাদক গোলাম আজম জুলমত, সড়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আরমান আলী, রিংকু কুমার দাস, কার্যকরী সদস্য সেলিম হোসেন, পারভেজ, সজিব আহমেদ, শাহীন রেজা, সুমন আলী, মামুন হোসেন, সড়ক সম্পাদক (মনোনীত) মানুনুর রশিদ মামুন, আরিফ সেখ।

জুন ২১
০৪:১২ ২০২১

আরও খবর