Daily Sunshine

চারঘাটে স্কুলের মাঠ ঠিকাদারের দখলে

Share

মিজানুর রহমান, চারঘাট: দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাহল দশা। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করে চলছে বসবাস। আবার কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে চরছে গরু ছাগল। আবার কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে রাখা হয়েছে নির্মান সামগ্রী।
এতে করে চরম অব্যবস্থানার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। করোনাকালীন সময়ে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো যাদের দেখভালের দায়িত্ব তাদের উদাসিনতা আর গাফলতির কারনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে বলে দাবি এলাকাবাসীর। গত কয়েকদিন উপজেলার বিভিণ্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমণ এড়াতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে গত প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এতে অীনশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। দফায় দফায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে প্রজ্ঞাপন জারী করেছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়।
তবে ৩০ জুনের পরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হতে পারে এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানদের প্রস্তুতি নিতে দিকনির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এমন নিদের্শনা থাকার পরেও প্রস্তুতি নেয়ার ব্যাপারে উদাসিন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান র্কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে অনেক প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করে চলছে বসবাস। আবার কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে চরছে গরু ছাগল। আবার কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে রাখা হয়েছে নির্মান সামগ্রী। এমনই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উপজেলার তালবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয় মাঠজুড়ে রাখা হয়েছে ইট, পাথর, বালি ও বিটুমিন মিশ্রণের মেশিন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চারণভূমি বিদ্যালয় মাঠজুড়ে পাথরের স্তূপ। যেন গড়ে তোলা হয়েছে পাথরের খনি। রাস্তা সংস্কারের ইট, পাথর ও বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী স্তুপ করে রাখায় স্কুল মাঠটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, শুনেছি স্কুল মাঠ ঠিকাদারকে ভাড়া দেয়া হয়েছে। প্রতিদিনই পাথর, বালি বোঝাই গাড়ি বিদ্যালয়ে আসছে। সেখানে বসানো মেশিনে বিটুমিন মিশ্রণ হয়ে রাস্তার কাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয় খুললে পাথর সরিয়ে নিলেও মাঠে দেবে যাওয়া ও বিচ্ছিন্নভাবে পড়ে থাকা পাথর দিয়ে শিক্ষার্থীরা আহত হতে পারে। তারা দ্রুত পাথর সরিয়ে নেয়ার দাবি জানান।
আর্থিক সুবিধা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শিরীনা খাতুন বলেন, ঠিকাদার আমাকে না জানিয়ে বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রেখেছেন। আমি জানতে পেরে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে ফেলার জন্য বার বার বলার পরেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন আমার কথা কর্ণপাত করেননি। সরকারী রাস্তার কাজ চলছে, কাজ শেষ হলে মাঠ ঠিক করে দেবেন বলে তারা প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সরওয়ারুল ইসলাম লালন বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ও জায়গা না পাওয়ার কারণে সরকারী রাস্তা সংস্কার কাজের নির্মাণ সামগ্রী ওই বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়েছে। কাজ শেষ পর্যায়ে, সবকিছু সরিয়ে নেওয়া হবে।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্জুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমি কিছু বলতেও পারছি না। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জুন ২১
০৪:০২ ২০২১

আরও খবর