Daily Sunshine

চাহিদা দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে চিঠি: রামেক হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে প্রতিদিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগী। গত এক মাসে সাধারণ রোগীদের সরিয়ে হাসপাতালটিতে করোনা রোগীদের জন্য ১০০টির বেশি বেড বৃদ্ধি করা হয়েছে। রবিবার থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৮টি বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে করোনা রোগীদের জন্য। পৃথক ব্যবস্থাপনায় এসব রোগীদের সেবায় ডাক্তারদের একটা বড় অংশের প্রয়োজন পড়ছে। তার পরো রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বেডের পাশাপাশি রোগীদের জন্য অক্সিজেন নিশ্চিত করতে হচ্ছে। সেই সাথে রয়েছে রোগীদের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন মহলের তদবির। এই মুহুর্তে রামেক হাসপাতালে আইসিইউ বেড যেনো সোনার হরিণ। করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত ২০ টি আইসিইউ বেডের বিপরীতে প্রতিদিন আবেদন পড়ছে ৬০ থেকে ৭০ জন গুরুতর রোগীর।
এদিকে ১ হাজার ২৫০ বেডের হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ জনবল রয়েছে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক। তবে হাসপাতালটির সক্ষমতা বিবেচনায় করোনা রোগীসহ সকল রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার কোন কমতি নেই।
রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য মতে, হাসপাতালটিতে মোট চিকিৎসক ৩০২ জন। যাদের মধ্যে ১০২ জন করোনা ওয়ার্ডে কর্মরত আছেন। অর্থাত হাসপাতালটির মোট চিকিৎসকের মধ্যে ৩৩.৭৭ শতাংশই এখন করোনা রোগীদের নিয়ে ব্যস্ত। এমন অবস্থায় প্রথম দফায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছে ১৫ জন চিকিৎসকের চাহিদাপত্র দেন। সেই চিকিৎসক দেয়ার পর আরো ২৫ জন চিকিৎসক চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আর চিকিৎসক চেয়ে কর্তৃপক্ষের এই আবেদনই জানান দেয় হাসপাতালটির জনবলের বর্তমান চিত্র।
সূত্রমতে, ৫৭ টি ওয়ার্ডের হাসপাতালটিতে এখন ১১টি ওয়ার্ডেই এখন করোনা ও উসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসব ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিন্টেম সুবিধা রয়েছে। এর বাইরে রবিবার থেকে চালু করা হচ্ছে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে। যেখানে ৩৬ টি বেড রয়েছে। এর বাইরে ওই ওয়ার্ডের বারান্দায় আরো ১২টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। ৩৬টি বেডেই সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সুবিধা রয়েছে। বাকি ১২টিতে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর নয়তো অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়া হবে।
করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত এই ১২টি করোনা ওয়ার্ডে এর আগে মেডিসিন, অর্থপেডিক্স নয়তো গাইনি রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হতো। ফলে হাসপাতালে এসব সাধারণ রোগীদের সরিয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় প্রধান্য দেয়া হচ্ছে। এদিকে যেসব ডাক্তার করোনা ওয়ার্ডে সেবা দিচ্ছেন তারা সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় অন্য সাধারণ রোগীদের চিকিসা সেবা দিচ্ছেন না। ফলে সাধারণ রোগীদের জন্য ওয়ার্ডের পাশাপাশি চিকিৎসক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এদিকে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত আইসিইউ ওয়ার্ডে ৯০ জন নার্স সেবা দিয়ে চলেছেন। ১৪ দিন ৪৫ জন নার্স ডিউটি করে তারা কোয়ারেন্টাইনে গেলে, অপর ৪৫ জন ডিইটি করছেন।
হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামিম ইয়াজদানী জানান, রামেক হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডগুলোতে ৩০৯টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত এই বেডের বিবরীতে রোগী ভর্তি আছেন ৩৬৫ জন। হাসপাতালে শুধুমাত্র গুরুতর রোগীদের ভর্তি নেয়া হচ্ছে। যাদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো বা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব, তাদের বিড়েতে থেকে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
করোনা ওয়ার্ডের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসকেরা সংক্রমণ এড়াতে অন্য রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না। এটা রোগীদের স্থার্থেই করা হয়েছে। তবে হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ নেই। তাদের সেবাও নিশ্চিত করতে হচ্ছে। সেই জন্য প্রয়োজন আরো কিছু ডাক্তার। এর জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রথম দফায় আমরা ১৫ জন ডাক্তার পেয়েছি। দ্বিতীয় দফায় আরও ২৫ জন ডাক্তারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমরা আশাকরছি শিঘ্রই এই জনবল পাবো। এছাড়া ৪২ জন মিডওয়াইফ পাওয়া গেছে। যারা নার্সদের সহযোগীতা করবেন।

জুন ২০
০৫:১০ ২০২১

আরও খবর