Daily Sunshine

Share

মান্দা প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে কালিকাপুর-হাটচকগৌরীতে নির্মিত ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। নির্মাণ কাজ শেষ হলেও বৈশ্বিক অতিমারি করোনাভাইরাসের কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভবনটি বুঝে দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এটি হস্তান্তর হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পল্লী হাটচকগৌরীতে হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষে ১৯৭৪ সালে ১ দশমিক ৭৪ একর জমি দান করেছিলেন এলাকার হিতৈষী ব্যক্তিরা। তাঁদের আর কেউ এখন বেঁচে নেই। দানকৃত সেই জমিতেই এখন দৃশ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভবন।
দাতাদের উত্তরসূরী সামসুল ইসলাম, রমজান আলী ও আতাউর রহমান জানান, চকগৌরী এলাকার গোপাল মন্ডল, গোলাপ মন্ডল, সনজেব আলী, শমসের আলী, রিয়াজ উদ্দিন, ছবের আলী, জনাব আলীসহ ১৭ ব্যক্তি ছিলেন দাতার তালিকায়। দাতাদের উত্তরসূরীরাও ভুলে গিয়েছিলেন হাসপাতালের জন্য জমিদানের কথা। কিন্তু হঠাৎ করেই যখন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় তখন অনেকের মনেই ভেসে উঠে সেই পুরোনো স্মৃতি।
চকগৌরী গ্রামের ইসমাইল হোসেন, গোপালপুর গ্রামের আলহাজ্ব আবুল কাসেম শাহ, রাজনগর গ্রামের আবু তাহের মন্ডল জানান, সত্তর দশকেও এ অঞ্চলে যাতায়াতের রাস্তাঘাট ছিল না। বর্ষা মৌসুমে নৌকাই ছিল চলাচলের একমাত্র ভরসা। শুকনো মৌসুমে গরুর গাড়ীতে মেঠো পথে চলাচল করতেন এলাকার মানুষ। সেটাও সবার ভাগ্যে ছিল না। সেসময় ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এলাকার মানুষ মারা গেছেন বিনা চিকিৎসায়। কিছু হাতুড়ে ডাক্তার ও কবিরাজই ছিল চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল।
প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের হাতের নাগালে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার চেতনাবোধ থেকেই সেসময় জমি দান করেছিলেন হিতৈষীরা। জীবদ্দশায় হাসপাতাল নির্মাণ ও চিকিৎসাসেবা দেখে যেতে পারলে তাদের জমিদান স্বার্থক হতো বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ৪৬ বছর পর অবশেষে চকগৌরী বাজার সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। এটির কার্যক্রম চালু হলে যাবতীয় ফ্যামিলি প্লানিং সেবা পাবেন মান্দা উপজেলার গোপালপুর, চকগৌরী, বনগ্রাম, রাজনগর, চকমানিক, কালিকাপুর, চকশ্রীকৃষ্ণ চকরঘুনাথ, চকগোবিন্দ এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দামনাশ, পারদামনাশ, দেউপাড়া, পাঁশুড়িয়া, হাতরুম, শান্তিপাড়াসহ দুই উপজেলার অন্তত ৩০ গ্রামের মানুষ।
কালিকাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহসীন আলী বলেন, প্রত্যন্ত পল্লীতে নির্মিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি এলাকাবাসির মনে আশার সঞ্চার করেছে। সরকার যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করেছেন তা যেন অক্ষুন্ন থাকে। এলাকার মানুষ যেন কাঙ্খিত সেবা পান।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারী প্রকৌশলী গোলাম আজম বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অর্থায়ন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৫১ হাজার টাকা। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আফম আছফানুল আরেফিন জানান, অন্ত:সত্তা নারীর চেকআপ, পরিচর্যা, প্রসব পরবর্তী পরিচর্যা, নরমাল ডেলিভারী, সিজারিয়ান, কিশোরী সেবা, প্রজনন স্বাস্থসেবাসহ যাবতীয় ফ্যামিলি প্লানিং সেবা পাওয়া যাবে হাসপাতালটিতে।
তিনি আরও বলেন, এখানে সেবাদানে নিয়োজিত থাকবেন মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ফিমেল এটেনডেন্ট, সহকারী নাসিং এটেনডেন্ট, দাইনার্স, ড্রাইভার, পিওন কাম প্রহরী ও সুইপার। খুব শিগগিরই এ স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু হবে এমনটাই প্রত্যাশ করেন তিনি।

জুন ১১
০৫:৩০ ২০২১

আরও খবর