Daily Sunshine

করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা, উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা: মহামারী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় শত-শত মানুষের প্রাণ গেলেও স্বাস্থ্য বিধি মানতে উদাসীন সাধারণ মানুষ। গণপরিবহন বাস ও ট্রেনে চলাফেরার ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহারসহ কিছুটা দুরুত্ব মানা হলেও ছোট ছোট যানবাহন এসবের তোয়াক্কা করছে না। এতে করে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা।
এক পরিসংখ্যান জানা গেছে, এ মুহুর্তে সারাদেশে করোনার যে পরিস্থিতি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রুপ নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তবর্তী রাজশাহী অঞ্চলে। এরমধ্যে চাপাইনবাবগঞ্জ, গোদাগাড়ি, নওগা, নাটোর এবং চারঘাট-বাঘায় এর ভয়াবহতা লক্ষ করা গেছে সবচেয়ে বেশি। গত সপ্তায় রাজশাহীতে একদিনে মারা গেছে ১৬ জন। এদিক থেকে জেলার বাঘায় গত ৪ দিনে ৮১ জনের করোনা পরীক্ষায় করা হলে ২২ জনের পজেটিভ ধরা পড়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব সূত্রে জানা গছে, গত বছরের ৬ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত বাঘায় করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৪৯০ জনের। এর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৩ জন। এদিক থেকে অসংখ্য মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সমাজের সুধীজন। যারা মানছেনা স্বাস্থ্য বিধি। আবার অনেকেই উপসর্গ বোঝার পরও করছে না নমুনা পরীক্ষা। ফলে উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন খোদ চিকিৎসকরা।
তাঁরা বলছেন, একজন মানুষের শারিরীক অবস্থা বুঝে নিজ উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে সেটি হচ্ছেনা। ফলে মহামারি করোনায় প্রতিদিন দেশব্যাপী আক্রান্ত হচ্ছে শত-শত মানুষ। এরমধ্যে বেশি ভয়াবহত লক্ষ করা গেছে আমারদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে।
ডাক্তারদের মতে, এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। যার কালো থাবায় টালমাটাল সারা পৃথিবী। মহামারি এ করোনার কাছে ধনী-গরীব, ছোট-বড় সবাই যেন অপরাধী। সবাইকে আক্রমন করছে এ রোগ। যার ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না দুগ্ধ শিশু থেকে শুরু করে আবাল-বৃদ্ধ বনিতা।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রাশেদ আহমেদ বলেন, তুলনা মূলক ভাবে এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জনসাধারণকে এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলকে মাস্ক পরিধান করাসহ প্রয়োজন ছাড়া কোনভাবেই ঘরের বাইরে না আসার নির্দেশ দিচ্ছেন।
এদিকে বাঘার দুটি পৌর সভা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ব্যবসায়ী মহলসহ সকল জনসাধারণকে অতি দ্রুত করোনা পরীক্ষা করানোসহ মাস্ক পরিধান এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিষয়ে মাইকিং অব্যাহত আছে। তারপরও অধিকাংশ লোকজন এখন পর্যন্ত মাস্ক ব্যবহার করছে না।
এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতকে মাঠে নামার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।

জুন ১১
০৫:১৪ ২০২১

আরও খবর