Daily Sunshine

রাবিতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে নিয়ে ‘অসত্য’ সংবাদ প্রকাশ, থানায় জিডি

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সদ্য নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক ইন্দ্রনীল মিশ্রকে নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে নগরীর মতিহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করার অভিযোগ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিয়োগপ্রাপ্ত সেই শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) তিনি এই প্রতিবাদ জানিয়ে আইনী পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত বুধবার স্থানীয় একটি অনলাইন পোর্টালে “অনার্সে দ্বিতীয় শ্রেণী, এক বিষয়ে ফেল তবুও হলেন রাবি শিক্ষক ” এমন হেডলাইনের একটি নিউজ ভাইরাল করা হয়। পরবর্তীতে সেই একই নিউজ হুবহু দেশের বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ছড়ানো হয়। অথচ সনাতন পদ্ধতিতে তিনি শিক্ষা জীবনে তিনটি ফাস্ট ক্লাস (এসএসসি, এইচএসসি ও মাস্টার্স) পেয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। একই সঙ্গে এই ফলাফলের ভিত্তিতে ইন্দ্রনীল মিশ্র প্রায় আট বছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন একই বিভাগে।

প্রতিবাদে ইন্দ্রনীল মিশ্র জানান, সংবাদে আমার মূল তথ্য গোপন করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করে স্যোসাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল করা হয়। এখানে আমার শিক্ষা জীবন নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে আমার সম্মানহানী করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয় আমার বাবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্য, সিনিয়র প্রফেসর ড. চিত্ত রঞ্জন মিশ্রকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে জড়ানো হয়েছে। যা নিঃসন্দেহে দুরভিসন্ধিমূলক ও আমার পিতার জন্য চরম মানহানিকর।

ইন্দ্রনীল মিশ্র জানান, নিউজে আমার বিষয়ে বলা হয়েছে চতুর্থ বর্ষে একটি বিষয়ে ফেল ছিলো। অথচ সেই ৪০৩ কোর্সে শতকরা ৫০ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হই আমি। যা রাবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে প্রমাণ আছে। এছাড়া যে প্রতিবেদক নিউজটি করেছেন তিনি আমার বক্তব্যও নেননি। যা সাংবাদিকতার নীতি বিরোধী।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ সার্কুলারে উল্লেখ করা হয় সনাতন পদ্ধতিতে পাশ করা প্রার্থীদের এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স ও মাস্টার্স চারটির মধ্যে অন্তত তিনটিতে প্রথম শ্রেনী থাকতে হবে। সেই হিসেবে আমি তিনটি প্রথম শ্রেণি নিয়ে যোগ্যতার সাথেই নিয়োগ পেয়েছি।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত ইন্দ্রনীল মিশ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০০৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৫ ও ২০০৫ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ অর্জন করেন।

২০০৫-০৬ সেশনে ভর্তি হয়ে ২০১০ সালে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। চতুর্থ বর্ষের ৪০৩ কোর্সে ৫০% নম্বর পেলেও রেজাল্ট প্রথম শ্রেনীতে নিয়ে আসার জন্য ইমপ্রুভমেন্ট দেন। অথচ সেই ইমপ্রুভমেন্টকে ওই গণমাধ্যমগুলোতে ফেল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১২ সালে স্নাতকোত্তরে তিনি প্রথম শ্রেণী অর্জন করেন। পরে তিনি ২০১২-২০১৬ সাল পর্যন্ত ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর শিক্ষকতা করেন।

এছাড়া তিনি ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া ৪টি আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর প্রকাশনা বের হয়েছে।

একজন শিক্ষককে এভাবে সম্মানহানি করে নিউজ প্রকাশ করায় শিক্ষক সমাজ বিব্রত ও ক্ষুব্ধ বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. চিত্ত রঞ্জন মিশ্র (ইন্দ্রনীল মিশ্রের বাবা) বলেন, এই সংবাদে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে আমার নাম জড়ানোয় আমি ব্যথিত। শিক্ষক সমাজকে নিয়ে এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

জুন ১১
০০:৫১ ২০২১

আরও খবর