Daily Sunshine

পত্নীতলার বাজারে স্বাস্থ্যবিধি নেই

Share

রুবেন্স চৌধুরী, পত্নীতলা: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় সারাদেশের ন্যায় পত্নীতলাতেও চলছে নতুন করে ১০ দিনের বিধিনিষেধ বা লকডাউন। সংক্রমণ বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অত্রাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিনই বাড়ছে। বিশেষ করে উপজেলার নতুনহাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ও মনোহারি দোকানগুলোতে এখনও গাদাগাদি করে বেচা-কেনা করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি এমন যে, এসব এলাকায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীও তেমন একটা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি বাজার গুলোতে।
এদিকে উপজেলার নজিপুর ইউপির যদুবাটি এলাকার মৃত আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে করোনা পজিটিভ জনৈক আব্দুল গফুর (৬৫) নামের একজন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটায় যদুবাটি এলাকার নিজ বাড়িতে শ্বাস কষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী আফরোজা (৫০) ও গুরুত্বর অসুস্থ বলে জানাগেছে। উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনায় মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, আব্দুল গফুর গত ৩১ মে সোমবার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিলে ৩ জুন বৃহস্পতিবার তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।
এ অবস্থায় রবিবার রাতে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিজ বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আব্দুল গফুরের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে উপজেলায় ২৬ জন করোনা পজিটিভ রোগী রয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে উপজেলা সদর নজিপুর বাসস্ট্যান্ড, পুরাতন বাজার, নতুনহাট, চকনিরখীন মোড়, মামুদপুর মোড়সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি, মাছ, মুদি, ফল বিক্রেতাসহ অধিকাংশ দোকানি মাস্ক ছাড়া পণ্য বিক্রয় করছেন। একইসঙ্গে মাস্ক ছাড়াই কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। মানছেন না নিরাপদ শারীরিক দূরত্বও। পাশাপাশি বেশিরভাগ ক্রেতা ও বিক্রেতাকে মাস্ক ছাড়াই বেচা কেনা করতে দেখা গেছে। ক্রেতাদের কারো কারো মুখে মাস্ক থাকলেও বিক্রেতাদের বেশির ভাগের মুখে মাস্ক নেই। অনেকে আবার মুখে মাস্ক পরলেও সেটি আবার কারো কারো ঝুলছে থুঁতনিতে আর কানের ধারে।
করোনা ঠেকাতে শুধু মাস্ক পরাই যথেষ্ট নয়, মানতে হবে সামাজিক দূরত্বের বিধিও। অপরদিকে গণ পরিবহনে একটি সিটে একজন বসার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। মসজিদ গুলোতেও কোন স্বাস্থ্য বিধির বালাই নেই।
এদিকে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি আরো বাড়ানোর কথা বলে এলাকাবাসী জানান, আমের মৌশুম হওয়ায় জেলার সাপাহার, পোরশাসহ অত্রাঞ্চলে আম কিনতে আসা বাহিরের ট্রাক ও মানুষের সমাগম দিনদিনই বেড়ে যাওয়ায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। অত্রাঞ্চলের মানুষকে স্বাস্থ্যবধি মানাতে এখনই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে করোনা আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন সরকার জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার গুলোতে ও জনসমাগম এলাকা গুলোতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

জুন ০৯
০৫:৫২ ২০২১

আরও খবর